ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র হাইতির উত্তরাঞ্চলে একটি ঐতিহাসিক পাহাড়ি দুর্গে পদদলিত হয়ে অন্তত ২৫ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও অনেক মানুষ।
দুর্গটি ইউনেসকো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার ঘটনাটি ঘটে সিটাডেল লাফেরিয়ার নামের একটি দুর্গে। সেখানে প্রতি বছর একটি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এবারও সেই উৎসবে প্রচুর তরুণ-তরুণী একত্রিত হয়েছিলেন এবং সেই ভিড়ের মধ্যেই পদদলনের ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ আরও অনেকের খোঁজ এখনও চলছে। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রোববারও ঘটনাস্থলে কিছু মরদেহ পড়ে ছিল।
দেশটির জাতীয় পুলিশ একটি পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই তদন্তের সূত্র ধরে কর্তৃপক্ষ মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার পর্যন্ত ময়নাতদন্ত চলছিল। ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্গটি হাইতির স্বাধীনতার প্রতীক। ১৮০৪ সালে দাস বিদ্রোহের মাধ্যমে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর সম্ভাব্য ফরাসি আক্রমণ ঠেকাতে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি এখন ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ও একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই পর্যটন কেন্দ্রের অনুষ্ঠানটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চলেছিল। যে কারণে এতে উপস্থিতি ছিল প্রচুর। তাদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ ও শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানে প্রবেশপথের কাছে শুরুতেই বেশ জটলা তৈরি হয়। এরপর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি শুরু হলে বিপত্তি বাধে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিনা বিলম্বে প্রয়োজনীয় সহায়তা, সেবা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণরূপে সক্রিয় এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।




