মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট মেনেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্সে ওরফে এল মেনচো সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাব মতে, জালিসকো প্রদেশে সংঘর্ষে ন্যাশনাল গার্ডের অন্তত ২৫ সদস্য, ৩৪ গ্যাং সদস্যসহ ৬২ জন নিহত হয়েছেন।
গত রোববার বিশেষ বাহিনীর অভিযানে এল মেনচোর মৃত্যুর ঘটনায় দেশের অন্তত ২০টি প্রদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। কার্টেল অনুগতরা ১২টির বেশি রাজ্যে ৮৫টি সড়ক অবরোধ করে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেক্সিকোজুড়ে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্দো ত্রেভিলা।
রয়টার্স জানিয়েছে, এল মেনচো ছিলেন জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) প্রধান। সংগঠনটি মেক্সিকোর অন্যতম ভয়ংকর মাদকচক্র হিসেবে পরিচিত। এই সংগঠনটি সিনালোয়া কার্টেলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। দীর্ঘদিন ধরে এল মেনচো মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্দো ত্রেভিলা বলেছেন, এল মেনচোর এক প্রেমিকার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাপালপার বনাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী তার অবস্থান শনাক্ত করে। আটকের সময় গোলাগুলিতে দুই দেহরক্ষীসহ তিনি আহত হন। হেলিকপ্টারে করে তাদের মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তারা মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেনেড লঞ্চার, রকেট লঞ্চার, মর্টার শেল ও রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, ১৪টি রাজ্যে তদন্ত চলছে। নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচ বলেন, সাতটি রাজ্যে অন্তত ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকো সরকারের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার অনুসারীরা বিভিন্ন শহরে হামলা চালায়। কোথাও রাস্তার ওপর কাঁটা ও পেরেক ছড়িয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়, কোথাও আবার যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, সোমবার সকাল নাগাদ অধিকাংশ সড়ক অবরোধ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকোকে কার্টেলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ অস্ত্র পাচার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আসছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোতে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ অবৈধ অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে।




