যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো অভিযানে আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার অপসারিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দ্বিতীয়বারের মতো নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হচ্ছে। সিএনএনের খবর জানাচ্ছে, এ দফার শুনানিতে মাদুরোর আইনজীবীরা মামলাটি খারিজ করার আবেদন জানাতে পারেন।
গত জানুয়ারি মাসে কারাকাসে এক শ্বাসরুদ্ধকর নৈশ অভিযানের মাধ্যমে ৬৩ বছর বয়সি মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। গত তিন মাস ধরে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন তারা।
এই নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের ফলে ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর পতন ঘটে এবং তেলসমৃদ্ধ দেশটি বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শর্ত মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছে।
আটকের পর থেকে মাদুরো নিজেকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে দাবি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো চারটি অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে মাদুরোকে। একটি সূত্র জানিয়েছে, কারাগারে তিনি ইন্টারনেট বা সংবাদপত্রের সুযোগ পাচ্ছেন না এবং তিনি অধিকাংশ সময় বাইবেল পড়ে কাটাচ্ছেন।
গত ৩ জানুয়ারি পরিচালিত মার্কিন কমান্ডো অভিযানে মাদুরোকে আটকের সময় অন্তত ৮৩ জন ভেনেজুয়েলান নাগরিক নিহত হন।
মাদুরোর পতনের পর বর্তমানে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। মার্কিন চাপে তিনি ইতোমধ্যে রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী দেশটির খনিজ ও তেল নীতিতে ব্যাপক সংস্কার এনেছেন।
এরই মধ্যে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভেনেজুয়েলার সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে।




