ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

কিউবায় জ্বালানি সংকটের মধ্যে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৩
জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পুরোপুরি ধসে পড়েছে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ছবি: সংগৃহীত

তীব্র জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পুরোপুরি ধসে পড়েছে কিউবার বিদ্যুৎব্যবস্থা । ফলে সোমবার (১৬ মার্চ) দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দেয় এবং দেশটির ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে যায়।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

কিউবার জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয়ের বরাতে এপির খবর জানায়, দেশের পুরো বিদ্যুৎব্যবস্থা একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে। কেন এমন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রিড বন্ধ হওয়ার সময় চালু থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক লাসারো গেরা বলেন, ‘দুর্বল অবস্থায় সিস্টেম দ্রুত চালু করলে আবার ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ধীরে ধীরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করে বিদ্যুৎ ফেরানোর চেষ্টা চলছে।’

গত চার মাসে এটি কিউবার তৃতীয় বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়। সোমবার রাত পর্যন্ত হাভানার প্রায় ৫ শতাংশ এলাকায় (প্রায় ৪২ হাজার গ্রাহক) বিদ্যুৎ ফেরানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি হাসপাতালেও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এখন যোগাযোগ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, সীমিত পরিসরে চালু করা বিদ্যুৎ সংযোগ আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং বড় ধরনের ব্ল্যাকআউট বাড়ছে।

এ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধকে দায়ী করছে কিউবার সরকার। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেন, যে দেশ কিউবাকে তেল দেবে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। একই সঙ্গে কিউবাকে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চাইলে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে’ কিউবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারেন। তার ভাষায়, ‘আমি চাইলে কিউবাকে নিতে পারি; তা মুক্ত করি বা দখল করি।’
আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক উইলিয়াম লিওগ্রান্দে বলেন, ‘কিউবার বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি এবং এটি অনেক আগেই মেয়াদ পেরিয়ে গেছে। এই অবস্থায়ও গ্রিড চালু রাখা প্রকৌশলীদের জন্য কঠিন কাজ।’

তার মতে, জ্বালানি ব্যবহার কমানো ও নবায়নযোগ্য শক্তি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এতে অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে এবং মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারে।
গত সপ্তাহেও পশ্চিম কিউবায় বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল। ডিসেম্বরেও একই ঘটনা ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আসা বন্ধ হয়ে যায়। কিউবা নিজে কিছু জ্বালানি উৎপাদন করলেও তা প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

লিওগ্র্যান্ডে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনা বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নত করার মতো বৈদেশিক মুদ্রাও সরকারের নেই। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার দিকে যাচ্ছে।’

কানাডার পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি
ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির মনোনয়নে কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। দেশটির অন্টারিও প্রদেশের টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ। বিজয়ী হওয়ার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, আমি তাতিয়ানা অগাস্ট, ড্যানিয়েল মার্টিন ও ডলি বেগমকে যথাক্রমে টেরেবোন, ইউনিভার্সিটি-রোজডেল এবং স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। ডলিকে অভিনন্দন জানিয়ে অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছে তার দল লিবারেল পার্টিও। বিজয়ী ভাষণে ডলি বেগম তার নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা ও প্রয়াত স্বামী রিজওয়ানকে ধন্যবাদ জানান। ১৯৮৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ডলি। ২০১৮ সালে অন্টারিও আইনসভায় স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রথম নির্বাচিত হন। তিনি সম্প্রতি অন্টারিও এনডিপির ডেপুটি লিডার ও গণপরিবহন বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  নির্বাচিত হওয়ার আগে ডলি বিভিন্ন স্থানীয় সংস্থায় নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে স্কারবোরো হেলথ কোয়ালিশনের সহসভাপতি ও ওয়ার্ডেন উডস কমিউনিটি সেন্টারের সহসভাপতি উল্লেখযোগ্য। তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
কানাডার পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি
যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমাতে নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করছে কানাডা
প্রতিরক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করার দিকে জোর দিচ্ছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, সামরিক ব্যয় ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে। এ জন্য কানাডা এখন থেকে নিজ দেশের শিল্প এবং বিশ্ব বাজারের অন্যান্য অংশীদারদের বেশি গুরুত্ব দেবে।  শনিবার (১১ এপ্রিল) কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মন্ট্রিলে লিবারেল পার্টির জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে কার্নি এ কথা বলেন। রোববার (১২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদেনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।    প্রতিনিধিদের উদ্দেশে কার্নি বলেন, ‘সামরিক বাজেটের প্রতি ডলারে ৭০ সেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার দিন শেষ।’ তার এই সাহসী ঘোষণায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের ব্যাপক সাড়া দিতে দেখা যায়। এ সময় কার্নি অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন। ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রকল্পে কানাডিয়ান কাঁচামাল এবং শ্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা কানাডিয়ান স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ এবং কানাডিয়ান কর্মীদের দিয়ে কানাডাকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলব।’ ওয়াশিংটনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনার বিষয়টি উল্লেখ করেন কার্নি, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কার্নি জানান, ট্রাম্পের এই শুল্ক ব্যবস্থাকে বর্তমানে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বৃহত্তর এবং দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ হলো ঐক্য এবং যৌথ সফলতা বজায় রাখা।’ সরকারের ‘বায় কানাডিয়ান’ (কানাডিয়ান পণ্য কিনুন) নীতির কথা উল্লেখ করে কার্নি বলেন, ‘এই উদ্যোগ দেশজুড়ে কমিউনিটিগুলোকে শক্তিশালী করতে এবং বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। কানাডার লক্ষ্য আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তাদের রপ্তানি দ্বিগুণ করা।’ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় কানাডার এই ক্রয় নীতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কানাডার প্রকাশিত নতুন প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশল অনুযায়ী, এখন থেকে মোট প্রতিরক্ষা চুক্তির ৭০ শতাংশ দেশীয় শিল্পগুলোকে দেওয়া হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমাতে নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করছে কানাডা
হাইতিতে গ্যাং হামলায় নিহত ৭০, ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ
হাইতির আর্তিবোনাইট অঞ্চলে একটি সশস্ত্র গ্যাংয়ের বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা। যদিও সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ১৬ জন বলা হয়েছিল, তবে বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত রোববার ভোরে জঁ দেনি এলাকার গ্রামীণ জনপদে এই হামলা শুরু হয় এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত চলে। সশস্ত্র গ্যাং সদস্যরা ওই এলাকায় ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং অন্তত ৫০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মানবাধিকার সংস্থা ডিফেনসার্স প্লাস জানিয়েছে, এই সহিংসতার কারণে প্রায় ছয় হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের মতে, হামলার কয়েক দিন আগে থেকেই আতঙ্কে আরও অন্তত দুই হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় গ্রান গ্রিফ গ্যাংয়ের নেতা লাকসন এলান এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন জানানো হচ্ছে। বার্তায় তিনি জানান, প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। হাইতির পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে তিনটি সাঁজোয়া যান পাঠিয়েছিল। কিন্তু গ্যাং সদস্যরা রাস্তায় গর্ত খুঁড়ে রাখায় পুলিশের সেখানে পৌঁছাতে দেরি হয়। পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে অপরাধীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে তারা। ২০২১ সাল থেকে হাইতিতে গ্যাং সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এ ধরনের সংঘাতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে দেশটির প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ (১৪ লাখেরও বেশি) বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।
হাইতিতে গ্যাং হামলায় নিহত ৭০, ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ
ইরানে সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা
ইরানে সামরিক অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে কিউবা। ট্রাম্পের মতে এ  ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আছে। সোমবার (৩০ মার্চ) এ সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর কিউবাই হবে ‘পরবর্তী লক্ষ্য’। শিগগিরই এ দ্বীপরাষ্ট্রটির পতন হবে। তার মতে কিউবা এখন একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে আছে। তিনি বলেন, কিউবা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এ দেশটি হবে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। অল্প সময়ের মধ্যেই কিউবা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তখন আমরা দেশটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসব। আমরা আমাদের মহান কিউবান আমেরিকানদের সাহায্য করতে এগিয়ে যাব।  নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, একটি রুশ তেল ট্যাঙ্কারকে কিউবায় পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়টি সত্য কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এতে তার কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন, কেউ যদি জাহাজে করে জ্বালানি তেল পাঠায়, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ, কিউবার জনগণকে তো টিকে থাকতে হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, আমি সশ্লিষ্টদের বলেছি—যদি কোনো দেশ এখনই কিউবায় কিছু তেল পাঠাতে চায়, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। রাশিয়া  বা অন্য কোনো দেশ কিউবায় তেল পাঠাতে পারবে।
ইরানে সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা
৮০তম জন্মদিনে কাটলেন সাড়ে পাঁচ হাজার পাউন্ডের কেক
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কুইজনেলে অবস্থিত গ্র্যানভিল'স কফির মালিক টেড মার্টিনডেলের জন্য গত বুধবার ছিল একটি স্মরণীয় দিন। কারণ, এ দিনটি ছিল তার ৮০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে তিনি বন্ধুদের নিয়ে ৫৫১১.৫৬ পাউন্ডের একটি গাজরের কেক কাটেন। কানাডার ক্যারিবু অঞ্চলের স্থানীয়দের একত্রিত করে একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে টেড মার্টিনডেল ও অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক মিলে এ কেকটি তৈরি করেন। পরে এ সুস্বাদু গাজরের কেক পুরো শহরে বিতরণ করা হয়। কেকটি তৈরি করতে ৮০০ কিলোগ্রামের বেশি গাজর, ৩১৭ কিলোগ্রাম মাখন এবং হাজার হাজার ডিম লেগেছে। মার্টিনডেল সিবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমি কুইজনেলের পাগলাটে বুড়ো হিসেবে পরিচিত। কারণ আমাদের রেস্তোরাঁটি সারাক্ষণই অদ্ভুত সব কাজ করে।’ আর আমি ভাবলাম, এই কেক তৈরির কাজটি করা এবং পুরো শহরকে এই বিশাল মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানানোটা একটা মজার ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় থাকবে। এই বিশাল গাজরের কেক তৈরি করতে মার্টিনডেলকে ৪৩০টিরও বেশি আলাদা গাজরের কেক বানাতে হয়েছে। এতে তার এক মাসেরও বেশি সময় লেগেছে। সেগুলো সংরক্ষণ করার জন্য তাকে একটি স্থানীয় মুদি দোকানের ফ্রিজার ব্যবহার করতে হয়েছিল। কফি শপের মালিক মার্টিনডেল বলেন, এ বিশাল কেক তৈরি অনেকটা রাজমিস্ত্রিদের মতো একটি কাজ। এতে পুরো জিনিসটাকে একত্রিত করতে হয়। মার্টিনডেলের জন্মদিনে এ শহরের স্থানীয়দের জন্য সুস্বাদু গাজরের কেক ছাড়াও, ঝলসানো মাংস ও  ১৫০টি স্যান্ডউইচেরও ব্যবস্থা ছিল। এ বিষয়ে মার্টিনডেল বলেন, আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কোনো খাবারই নষ্ট হবে না। এখানে যা অবশিষ্ট থাকবে, তা স্থানীয় ফুড ব্যাংকে দান করা হবে।
৮০তম জন্মদিনে কাটলেন সাড়ে পাঁচ হাজার পাউন্ডের কেক
কানাডার পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি
কানাডার পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি
ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির মনোনয়নে কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। দেশটির অন্টারিও প্রদেশের টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ। বিজয়ী হওয়ার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, আমি তাতিয়ানা অগাস্ট, ড্যানিয়েল মার্টিন ও ডলি বেগমকে যথাক্রমে টেরেবোন, ইউনিভার্সিটি-রোজডেল এবং স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। ডলিকে অভিনন্দন জানিয়ে অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছে তার দল লিবারেল পার্টিও। বিজয়ী ভাষণে ডলি বেগম তার নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা ও প্রয়াত স্বামী রিজওয়ানকে ধন্যবাদ জানান। ১৯৮৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ডলি। ২০১৮ সালে অন্টারিও আইনসভায় স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রথম নির্বাচিত হন। তিনি সম্প্রতি অন্টারিও এনডিপির ডেপুটি লিডার ও গণপরিবহন বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  নির্বাচিত হওয়ার আগে ডলি বিভিন্ন স্থানীয় সংস্থায় নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে স্কারবোরো হেলথ কোয়ালিশনের সহসভাপতি ও ওয়ার্ডেন উডস কমিউনিটি সেন্টারের সহসভাপতি উল্লেখযোগ্য। তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমাতে নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করছে কানাডা
যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমাতে নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করছে কানাডা
প্রতিরক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করার দিকে জোর দিচ্ছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, সামরিক ব্যয় ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে। এ জন্য কানাডা এখন থেকে নিজ দেশের শিল্প এবং বিশ্ব বাজারের অন্যান্য অংশীদারদের বেশি গুরুত্ব দেবে।  শনিবার (১১ এপ্রিল) কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মন্ট্রিলে লিবারেল পার্টির জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে কার্নি এ কথা বলেন। রোববার (১২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদেনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।    প্রতিনিধিদের উদ্দেশে কার্নি বলেন, ‘সামরিক বাজেটের প্রতি ডলারে ৭০ সেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার দিন শেষ।’ তার এই সাহসী ঘোষণায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের ব্যাপক সাড়া দিতে দেখা যায়। এ সময় কার্নি অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন। ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রকল্পে কানাডিয়ান কাঁচামাল এবং শ্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা কানাডিয়ান স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ এবং কানাডিয়ান কর্মীদের দিয়ে কানাডাকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলব।’ ওয়াশিংটনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনার বিষয়টি উল্লেখ করেন কার্নি, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কার্নি জানান, ট্রাম্পের এই শুল্ক ব্যবস্থাকে বর্তমানে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বৃহত্তর এবং দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ হলো ঐক্য এবং যৌথ সফলতা বজায় রাখা।’ সরকারের ‘বায় কানাডিয়ান’ (কানাডিয়ান পণ্য কিনুন) নীতির কথা উল্লেখ করে কার্নি বলেন, ‘এই উদ্যোগ দেশজুড়ে কমিউনিটিগুলোকে শক্তিশালী করতে এবং বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। কানাডার লক্ষ্য আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তাদের রপ্তানি দ্বিগুণ করা।’ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় কানাডার এই ক্রয় নীতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কানাডার প্রকাশিত নতুন প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশল অনুযায়ী, এখন থেকে মোট প্রতিরক্ষা চুক্তির ৭০ শতাংশ দেশীয় শিল্পগুলোকে দেওয়া হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
হাইতিতে গ্যাং হামলায় নিহত ৭০, ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ
হাইতিতে গ্যাং হামলায় নিহত ৭০, ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ
হাইতির আর্তিবোনাইট অঞ্চলে একটি সশস্ত্র গ্যাংয়ের বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা। যদিও সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ১৬ জন বলা হয়েছিল, তবে বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত রোববার ভোরে জঁ দেনি এলাকার গ্রামীণ জনপদে এই হামলা শুরু হয় এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত চলে। সশস্ত্র গ্যাং সদস্যরা ওই এলাকায় ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং অন্তত ৫০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মানবাধিকার সংস্থা ডিফেনসার্স প্লাস জানিয়েছে, এই সহিংসতার কারণে প্রায় ছয় হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের মতে, হামলার কয়েক দিন আগে থেকেই আতঙ্কে আরও অন্তত দুই হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় গ্রান গ্রিফ গ্যাংয়ের নেতা লাকসন এলান এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন জানানো হচ্ছে। বার্তায় তিনি জানান, প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। হাইতির পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে তিনটি সাঁজোয়া যান পাঠিয়েছিল। কিন্তু গ্যাং সদস্যরা রাস্তায় গর্ত খুঁড়ে রাখায় পুলিশের সেখানে পৌঁছাতে দেরি হয়। পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে অপরাধীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে তারা। ২০২১ সাল থেকে হাইতিতে গ্যাং সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এ ধরনের সংঘাতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে দেশটির প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ (১৪ লাখেরও বেশি) বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।
ইরানে সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা
ইরানে সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা
ইরানে সামরিক অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে কিউবা। ট্রাম্পের মতে এ  ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আছে। সোমবার (৩০ মার্চ) এ সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর কিউবাই হবে ‘পরবর্তী লক্ষ্য’। শিগগিরই এ দ্বীপরাষ্ট্রটির পতন হবে। তার মতে কিউবা এখন একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে আছে। তিনি বলেন, কিউবা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এ দেশটি হবে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। অল্প সময়ের মধ্যেই কিউবা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তখন আমরা দেশটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসব। আমরা আমাদের মহান কিউবান আমেরিকানদের সাহায্য করতে এগিয়ে যাব।  নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, একটি রুশ তেল ট্যাঙ্কারকে কিউবায় পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়টি সত্য কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এতে তার কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন, কেউ যদি জাহাজে করে জ্বালানি তেল পাঠায়, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ, কিউবার জনগণকে তো টিকে থাকতে হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, আমি সশ্লিষ্টদের বলেছি—যদি কোনো দেশ এখনই কিউবায় কিছু তেল পাঠাতে চায়, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। রাশিয়া  বা অন্য কোনো দেশ কিউবায় তেল পাঠাতে পারবে।