তীব্র জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পুরোপুরি ধসে পড়েছে কিউবার বিদ্যুৎব্যবস্থা । ফলে সোমবার (১৬ মার্চ) দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দেয় এবং দেশটির ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে যায়।
কিউবার জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয়ের বরাতে এপির খবর জানায়, দেশের পুরো বিদ্যুৎব্যবস্থা একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে। কেন এমন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রিড বন্ধ হওয়ার সময় চালু থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক লাসারো গেরা বলেন, ‘দুর্বল অবস্থায় সিস্টেম দ্রুত চালু করলে আবার ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ধীরে ধীরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করে বিদ্যুৎ ফেরানোর চেষ্টা চলছে।’
গত চার মাসে এটি কিউবার তৃতীয় বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়। সোমবার রাত পর্যন্ত হাভানার প্রায় ৫ শতাংশ এলাকায় (প্রায় ৪২ হাজার গ্রাহক) বিদ্যুৎ ফেরানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি হাসপাতালেও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, এখন যোগাযোগ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, সীমিত পরিসরে চালু করা বিদ্যুৎ সংযোগ আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং বড় ধরনের ব্ল্যাকআউট বাড়ছে।
এ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধকে দায়ী করছে কিউবার সরকার। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেন, যে দেশ কিউবাকে তেল দেবে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। একই সঙ্গে কিউবাকে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চাইলে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে’ কিউবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারেন। তার ভাষায়, ‘আমি চাইলে কিউবাকে নিতে পারি; তা মুক্ত করি বা দখল করি।’
আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক উইলিয়াম লিওগ্রান্দে বলেন, ‘কিউবার বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি এবং এটি অনেক আগেই মেয়াদ পেরিয়ে গেছে। এই অবস্থায়ও গ্রিড চালু রাখা প্রকৌশলীদের জন্য কঠিন কাজ।’
তার মতে, জ্বালানি ব্যবহার কমানো ও নবায়নযোগ্য শক্তি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এতে অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে এবং মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারে।
গত সপ্তাহেও পশ্চিম কিউবায় বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল। ডিসেম্বরেও একই ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আসা বন্ধ হয়ে যায়। কিউবা নিজে কিছু জ্বালানি উৎপাদন করলেও তা প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।
লিওগ্র্যান্ডে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনা বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নত করার মতো বৈদেশিক মুদ্রাও সরকারের নেই। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার দিকে যাচ্ছে।’




