প্রতিরক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করার দিকে জোর দিচ্ছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, সামরিক ব্যয় ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে। এ জন্য কানাডা এখন থেকে নিজ দেশের শিল্প এবং বিশ্ব বাজারের অন্যান্য অংশীদারদের বেশি গুরুত্ব দেবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মন্ট্রিলে লিবারেল পার্টির জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে কার্নি এ কথা বলেন। রোববার (১২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদেনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
প্রতিনিধিদের উদ্দেশে কার্নি বলেন, ‘সামরিক বাজেটের প্রতি ডলারে ৭০ সেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার দিন শেষ।’ তার এই সাহসী ঘোষণায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের ব্যাপক সাড়া দিতে দেখা যায়।
এ সময় কার্নি অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন। ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রকল্পে কানাডিয়ান কাঁচামাল এবং শ্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা কানাডিয়ান স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ এবং কানাডিয়ান কর্মীদের দিয়ে কানাডাকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলব।’
ওয়াশিংটনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনার বিষয়টি উল্লেখ করেন কার্নি, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কার্নি জানান, ট্রাম্পের এই শুল্ক ব্যবস্থাকে বর্তমানে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বৃহত্তর এবং দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ হলো ঐক্য এবং যৌথ সফলতা বজায় রাখা।’
সরকারের ‘বায় কানাডিয়ান’ (কানাডিয়ান পণ্য কিনুন) নীতির কথা উল্লেখ করে কার্নি বলেন, ‘এই উদ্যোগ দেশজুড়ে কমিউনিটিগুলোকে শক্তিশালী করতে এবং বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। কানাডার লক্ষ্য আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তাদের রপ্তানি দ্বিগুণ করা।’ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় কানাডার এই ক্রয় নীতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
কানাডার প্রকাশিত নতুন প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশল অনুযায়ী, এখন থেকে মোট প্রতিরক্ষা চুক্তির ৭০ শতাংশ দেশীয় শিল্পগুলোকে দেওয়া হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।




