কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় স্থাপনাটির ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে ভয়াবহ বিদ্যুৎবিভ্রাট এবং শিল্পোৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিল্প তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ তার মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশই কাতার থেকে সংগ্রহ করে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা আরও বেশি, প্রায় ৯৯ শতাংশ। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ভারত তার প্রয়োজনীয় এলএনজির ৪০ শতাংশের বেশি আমদানি করে কাতার থেকে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ উভয়েরই এলএনজির মজুত সীমিত। আনুমানিক মাত্র এক বা দুই সপ্তাহের জন্য পর্যাপ্ত। ফলে চলমান এই সরবরাহ সংকটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। কেপলারের মতে, এই সংকটের ফলে দেশগুলোতে বিদ্যুৎবিভ্রাট এবং শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেতে পারে।
রাস লাফান থেকেই কাতারের প্রায় সব গ্যাস প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে এই স্থাপনাটি অকেজো হয়ে পড়ায় এই তিন দেশই চরম সংকটে পড়েছে।
যুদ্ধের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ রয়েছে। এরমেধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় ইরানি হামলার ফলে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগার সম্ভাবনা থাকায় গ্যাস সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানাগুলোতে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তাইওয়ানও সংকটের মুখে রয়েছে। কারণ তাদের মোট গ্যাসের এক-তৃতীয়াংশ আসে কাতার থেকে, তাদের মাত্র ১১ দিনের মজুদ রয়েছে। তবে তাইপেই গত সপ্তাহে জানিয়েছে, তারা মার্চ ও এপ্রিলের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং মে মাসের জন্য কাজ করছে।
অন্যদিকে কাতার চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে বিপুল পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করলেও কেপলারের মতে, বড় মজুতের কারণে তারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। চীন তার এলএনজি আমদানিতে বৈচিত্র্য বজায় রাখায় তাদের আমদানিতে নমনীয়তা রয়েছে।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং করণীয় জানতে সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাস লাফান স্থাপনার পরিচালক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি চলতি মাসের শুরুর দিকে এলএনজি এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন স্থগিত করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণে উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কোম্পানিটির এখন অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।




