
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ তেল সংকটে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান। জোটের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র এই সংকটের প্রভাব অনুভব করছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসিয়ান নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে সামুদ্রিক পথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন বন্দরে জাহাজের জটলা দেখা দিয়েছে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মতো জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো চরম বিপাকে পড়েছে।
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোও এই সংকটের বাইরে নয়। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সেবু সিটিতে চলমান সম্মেলনে একটি জরুরি পরিকল্পনা স্বাক্ষর করবেন নেতারা।
রপ্তানিমুখী দেশ হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের উৎপাদন চেইন সচল রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্নতা। সিঙ্গাপুর ইরানের সঙ্গে কোনো আপস না করার সিদ্ধান্ত নিলেও, জ্বালানির জন্য ৯৮ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল ফিলিপাইন আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে।
জ্বালানির এই সংকট সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। জ্বালানির দাম বাড়লে তা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ফিলিপাইনের সেবু সিটিতে ৪৮তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে জোটের চেয়ারম্যান ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জোর দিয়ে বলেছেন, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার মধ্যেও আসিয়ান তার সক্ষমতা ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ইরান যুদ্ধ এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তবে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আসিয়ান দেশগুলো নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে এবং নিজেদের অর্থনীতি রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জোটের ১১টি দেশ এখন একযোগে কাজ করছে যাতে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা টিকে থাকতে পারে।




