মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং চার হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে সাধারণ ক্ষমার অনুমোদন দিয়েছেন। গত ছয় মাসে এটি তৃতীয় পদক্ষেপ, যেখানে বন্দিদের সাধারণ ক্ষমা করা হলো। সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস ও এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়ে থাকে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। যদিও সাধারণ ক্ষমার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এমআরটিভি জানিয়েছে, মুক্তি পেতে যাওয়া ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দির মধ্যে ১৭৯ জন বিদেশি রয়েছেন। তাদের নির্বাসিত করা হবে। প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৪০ বছরে রূপান্তর এবং অন্যান্য বন্দির সাজার মেয়াদ এক-ষষ্ঠাংশ কমানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী একটি নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটানোর পর থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে রাজনৈতিক অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক নেত্রী অং সান সু চি, সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, তাদের দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, হাজার হাজার কর্মী, বিক্ষোভকারী ও সামরিক জান্তাবিরোধী মিলিশিয়ার সদস্যরা।
সু চি একাধিক অপরাধের জন্য ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এসব অভিযোগকে তার মিত্ররা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে উসকানি ও দুর্নীতি থেকে শুরু করে ভোট জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন।
৮০ বছর বয়সী সু চির দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি তার বর্তমান অবস্থানও অজানা। গত বছর রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার ছেলে কিম আরিস বলেছিলেন, তিনি তার মায়ের অবস্থা সম্পর্কে সীমিত তথ্যই পেয়েছেন। তবে তিনি জানতেন যে, তার মায়ের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।
মিয়ানমারের সাবেক সামরিক জান্তা নভেম্বরে ৮ হাজার ৬৬৫ জনকে সাধারণ ক্ষমা করে দেওয়া বা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করার কথা জানায়। গত জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবসের সাধারণ ক্ষমার আওতায় ৬ হাজারের বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইং গত ৩ এপ্রিল সংসদ কর্তৃক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে তিনি গৃহযুদ্ধ চলমান এমন একটি দেশের ক্ষমতায় আসীন হয়েছে, যেখানে প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গত সপ্তাহে অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পুনর্মিলনই তার অগ্রাধিকার।




