মিয়ানমারে নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পার্লামেন্টারি ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। এর মাধ্যমে ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার প্রায় পাঁচ বছর পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে তার ক্ষমতা আরও দৃঢ় হলো। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালে রক্তক্ষয়ী এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন। সেই ঘটনায় দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, পরে সেটিই জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ নেয়।
সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য, শীর্ষ জেনারেল থেকে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হওয়ার এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত ‘একপাক্ষিক’ নির্বাচনের মাধ্যমে। সেনাসমর্থিত দল সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে গণতন্ত্রের আড়ালে সামরিক শাসন টিকিয়ে রাখার প্রহসন হিসেবে অভিহিত করেছে।
ভোট গণনার সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, মিন অং হ্লাইং অনায়াসেই জয়ের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই পদটির জন্য অপেক্ষা করে ছিলেন। প্রেসিডেন্টের আসনে বসার আগে তিনি ২০১১ সাল থেকে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বেও বড় পরিবর্তন এনেছেন।
মিন অং হ্লাইং তার উত্তরসূরি হিসেবে ইয়ে উইন ওকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করেছেন। সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান জেনারেলের অত্যন্ত অনুগত হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষমতা হস্তান্তর মিন অং হ্লাইংয়ের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল। এর লক্ষ্য হলো একটি নামমাত্র বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করা এবং আন্তর্জাতিক বৈধতা আদায়ের চেষ্টা করা।
মিয়ানমার বিষয়ক স্বতন্ত্র বিশ্লেষক অং কিয়াও সো বলেন, ‘সেনাপ্রধানের পদবি বদলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি অনেকদিন ধরেই লালন করছিলেন। মনে হচ্ছে তার সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।’




