
বিশ্বকাপ এবার শুধু ম্যাচের হিসাবে বড় হচ্ছে না, বদলে যাচ্ছে পরিচিত আয়োজনের ধরনও। মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে তিন আয়োজক দেশের প্রথম ম্যাচের আগে আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করবে ফিফা।
শুক্রবার ফিফা জানিয়েছে, তিন দেশে আলাদা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে শুরু হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের উৎসব। ৪৮ দলের এই আসর শুরু হবে ১১ জুন, মেক্সিকো সিটিতে। সেখানেই হবে প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করবে গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী মেক্সিকান পপ ব্যান্ড মানা। তাদের সঙ্গে থাকবেন আলেহান্দ্রো ফের্নান্দেস ও বেলিনদা। ফিফা জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। থাকবে আদিবাসী ও আধুনিক লোকজ পরিবেশনার ছাপ।
এর পরদিন, ১২ জুন টরন্টোতে নিজেদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে কানাডা। সেই ম্যাচের আগে কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান গাইবেন অ্যালানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, আলেসিয়া কারা, উইলিয়াম প্রিন্স ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে সঞ্জয়। লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই শিল্পীর উপস্থিতি বাংলাদেশি দর্শকদের জন্যও আলাদা আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
ফিফা জানিয়েছে, কানাডার অনুষ্ঠান সাজানো হবে দেশটির বৈচিত্র্য ও কমিউনিটি ভাবনাকে সামনে রেখে। সেখানে বিশ্বকাপ ট্রফির মোজাইকধর্মী নতুন রূপায়ণ দেখা যাবে।
একই দিন পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নামবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ থাকবেন কেটি পেরি। তার সঙ্গে পারফর্ম করবেন আটলান্টার র্যাপ তারকা ফিউচার। অনুষ্ঠানের লাইনআপে আরও আছেন অনিতা, লিসা, রেমা ও টায়লা।
২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেবে। তিন দেশ মিলিয়ে হবে ১০৪ ম্যাচ। বহু দেশের দর্শক, ভিন্ন সময় অঞ্চল, বড় বাণিজ্যিক আয়োজন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপকে আগের যেকোনো আসরের চেয়ে আলাদা করে তুলছে ফিফা।
এর আগে একাধিক দেশে বিশ্বকাপ হয়েছিল ২০০২ সালে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে। সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায়। এবার তিন আয়োজক দেশের জন্য আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রেখে ফিফা বিশ্বকাপের উৎসবকে আরও ছড়িয়ে দিতে চাইছে।




