
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনই শান্ত-মুমিনুল টাইগারদের বড় রানের পথে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিনের সকালে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের দায়িত্ব ছিল রানটাকে আরও বড় করা যেখান থেকে পাকিস্তানকে চাপে ফেলা যায়। কিন্তু মিরপুরে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকল দুই রঙের, বাংলাদেশের রান বাড়ল, পাকিস্তানও ফিরল উইকেট নিয়ে।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০৯ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৮০। মুশফিকুর রহিম ৭১ রানে অপরাজিত, ইবাদত হোসেন এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি। পাকিস্তানের হয়ে সকালের সেশনে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। অভিজ্ঞ পেসার লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথে পুরোপুরি ছুটে যেতে দেননি। তার বোলিং ফিগার লাঞ্চে ৩১ ওভারে ৭৩ রানে ৪ উইকেট।
দিনের শুরুতে বাংলাদেশ ৩০১/৪ থেকে ব্যাটিংয়ে নামে। মুশফিক ছিলেন ৪৮ রানে, লিটন ৮। সকালটা শুরুতেই বাংলাদেশকে ছন্দ দেয় লিটন। শাহিন শাহ আফ্রিদির এক ওভারে টানা তিন চার মেরে তিনি চাপটা ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানের ওপর। প্রথমটি লেগ সাইডে, পরেরটি ফাইন লেগ দিয়ে, আর তৃতীয়টি এজ হলেও স্লিপ ও গালির ফাঁক গলে বাউন্ডারি।
মুশফিকও নিজের জন্মদিনে ফিফটি পূর্ণ করেন। শাহিনের শর্ট অব লেংথ বলে গ্লাভসের কাছে আঘাত পেলেও সিঙ্গেল নিয়ে পৌঁছান টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৯তম ফিফটিতে। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের ইনিংসটি খুব ঝলমলে ছিল না, কিন্তু ছিল প্রয়োজনীয়। উইকেটের ওঠানামা, পাকিস্তানের সিমারদের লাইন, দ্বিতীয় নতুন বল, সব সামলে এক প্রান্ত ধরে রেখেছেন তিনি।
বাংলাদেশ তখন ৩৩০-এর দিকে এগোচ্ছে, লিটনও ৩০ পেরিয়ে গিয়েছেন। তবে আব্বাস ফিরে এসে পাকিস্তানকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু দেন। ৯৭তম ওভারে শর্ট বল তুলে মারতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দেন লিটন। ৬৭ বলে ৫ চারে ৩৩ রান করে তার বিদায়। জুটিটা বড় হওয়ার আগেই থেমে যায়।
লিটনের পর দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন মিরাজ। আব্বাসকে ফ্লিক করে চার, পরে শর্ট বল পুল করে ছক্কাও মারেন। কিন্তু সেই আক্রমণাত্মক ভাবনাই তাকে ফিরিয়ে দেয়। আব্বাসের শর্ট অব লেংথ বল কাট করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ইমাম-উল-হকের হাতে ধরা পড়েন মিরাজ। ১২ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি।
মিরাজের পর তাইজুল ইসলাম কিছুক্ষণ মুশফিককে সঙ্গ দেন এবং ছোট্ট কিন্তু কার্যকর ক্যামিও খেলেন। হাসান আলীর এক ওভারে দুটি চারসহ তিন বলে ১১ রান তুলে বাংলাদেশের স্কোর এগিয়ে নেন তিনি। কিন্তু আব্বাসের বাউন্সারে জড়িয়ে গিয়ে উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাইজুল। ২৩ বলে ১৭ রান তার।
সেশনের শেষ দিকে বাংলাদেশ আর ঝুঁকি বাড়ায়নি। আব্বাস উইকেট-মেইডেন করে পাকিস্তানকে কিছুটা উজ্জীবিত করলেও মুশফিক টিকে থেকে দলকে লাঞ্চে নিয়ে যান। তার উপস্থিতিই এখন বাংলাদেশের বড় ভরসা। একদিকে টেইল এন্ডার, অন্যদিকে ৪০০ পেরোনোর লক্ষ্য। মুশফিক যদি আরও কিছুক্ষণ ব্যাট করেন, বাংলাদেশের সংগ্রহ আরও ভারী হতে পারে।




