ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

শান্তর শতক, মুমিনুলের আক্ষেপের দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩০১

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস

  ০৮ মে ২০২৬, ১৭:৪১
মুমিনুল-শান্তর ১৭০ রানের জুটিই প্রথম দিনটি বাংলাদেশের করেছে। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে বেশ ভালো অবস্থানে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সকালে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে প্রথম ঘণ্টার আগেই দুই ওপেনার ফিরে গেলে বাংলাদেশর সাবধানী শুরু পরিণত হয় চাপে। দিনের শেষে স্কোরবোর্ড অবশ্য অন্য গল্প বলছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

৮৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ৩০১। শুরুতে ৩১ রানে ২ উইকেট হারানো দলটির জন্য এটি স্বস্তির দিনই বলতে হবে। শান্ত সেঞ্চুরি করেছেন, মুমিনুল হক সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে থেমেছেন, আর শেষ বিকেলে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস দিন শেষ করে ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। স্টাম্পসের সময় মুশফিক ৪৮ ও লিটন ৮ রানে অপরাজিত।

বাংলাদেশের দিনের ভিত গড়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর তাদের ১৭০ রানের জুটি পাকিস্তানের সকালের সাফল্যকে অনেকটাই মুছে দেয়। শান্ত ছিলেন বেশি ইতিবাচক, মুমিনুল ছিলেন বেশি ধৈর্যশীল। দুজনের ব্যাটিংয়ের ধরন আলাদা হলেও লক্ষ্য ছিল এক, নতুন বলে তৈরি হওয়া চাপকে লম্বা ইনিংসে বদলে দেওয়া।

শান্ত সেটি করেছেন অধিনায়কের মতোই। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে কভার দিয়ে চার মেরে ১২৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম শতক, পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম। এর আগে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টেস্টে তার কোনো ফিফটিও ছিল না। সেঞ্চুরির পর গ্যালারির গর্জন, ড্রেসিংরুমের করতালি আর শান্তর উচ্ছ্বাস, সব মিলিয়ে মুহূর্তটা ছিল দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল ছবি।

তবে ক্রিকেট কখনো কখনো আনন্দকে খুব দ্রুত আক্ষেপে বদলে দেয়। সেঞ্চুরির পরের বলেই আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন শান্ত। ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১০১ রানের ইনিংস শেষ হয় ১২৯ বলে। বাংলাদেশের স্কোর তখন ২০১/৩।

শান্ত ফেরার পর ইনিংসের ভার আরও বেশি করে চলে আসে মুমিনুলের ওপর। তার ব্যাটিংয়ে ছিল পুরোনো দিনের টেস্ট মেজাজ। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়েছেন, শরীরের কাছে খেলেছেন, অযথা শট খেলেননি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাকিস্তানের পেস, স্পিন, গরম, সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে যখন সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গেছেন, তখনই এলো দিনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।

৭৪তম ওভারে নোমান আলীর দ্রুতগতির বল স্কিড করে নিচু থাকে। মুমিনুল ব্যাকফুটে গিয়ে আড়াআড়ি ব্যাটে সামলাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বল গিয়ে লাগে প্যাডে। আম্পায়ার আউট দিলে সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন তিনি। আল্ট্রা এজে ব্যাটের ছোঁয়া মেলেনি, বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল লাগত মিডল-লেগ স্টাম্পে। ২০০ বলে ১০ চারে ৯১ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।

মুমিনুলের আউটের সময় বাংলাদেশের রান ২৭৭/৪। পাকিস্তান তখন মনে করতেই পারে, শেষ সেশনের শেষ ভাগে আরও এক-দুটি উইকেট পেলে দিনটার রং কিছুটা বদলে দেওয়া যাবে। বিশেষ করে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পাওয়ার পর শাহিন-আব্বাসরা নতুন করে চাপ তৈরির সুযোগ পেয়েছিলেন।

কিন্তু মুশফিক ও লিটন সেটি হতে দেননি। মুশফিক শুরুতে সময় নিয়েছেন, পরে সুযোগ পেলে চার মেরেছেন। আব্বাসের বল দেরিতে খেলে স্লিপ-গালির ফাঁক দিয়ে চার, হাসান আলীর বলে এজ হলেও সীমানা, সব মিলিয়ে তার ইনিংসে ছিল অভিজ্ঞতার ছাপ। দিন শেষে তিনি ৪৮ রানে অপরাজিত, আর বাংলাদেশের স্কোর ৩০০ পেরিয়ে গেছে।

লিটনের কাজ ছিল শেষ বিকেলটা পেরিয়ে যাওয়া। নতুন বলের সময় সেটিই করেছেন তিনি। ৩৫ বল খেলে ৮ রানে অপরাজিত থেকেছেন। খুব চোখে পড়ার মতো রান নয়, কিন্তু দিনের শেষ আধঘণ্টায় উইকেট না হারানোই ছিল তখন বাংলাদেশের সবচেয়ে জরুরি কাজ।

পাকিস্তানের জন্য দিনটি মিশ্র। শুরুটা তারা চেয়েছিল এমনই, দুই ওপেনারকে দ্রুত ফিরিয়ে। শাহিন জয়কে ফেরান, হাসান আলী তুলে নেন সাদমানকে। পরে আব্বাস শান্তকে ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তি দেন, নোমান আলী মুমিনুলের বড় ইনিংস থামান। কিন্তু ৩১/২ থেকে ৩০১/৪, এই হিসাব বলছে দিনের বড় অংশে নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের।

ফিল্ডিং ও শৃঙ্খলার জায়গায় পাকিস্তানের আক্ষেপও থাকবে। নোমান আলীর একাধিক নো-বল, রিজওয়ানের কিছু বাই, পুরোনো বলে ধার কমে যাওয়া, সব মিলিয়ে তারা যে চাপ তৈরি করেছিল, সেটি ধরে রাখতে পারেনি। দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েও দিনের শেষে আর উইকেট আসেনি।

প্রথম দিনের শেষে স্বাগতিকদের ড্রেসিংরুমে স্বস্তি থাকার কথা। সবুজ উইকেটে টসে হেরে ব্যাটিং, ৩১/২ থেকে শান্তর সেঞ্চুরি, মুমিনুলের ৯১, শেষে মুশফিকের অপরাজিত ৪৮। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা তাই বাংলাদেশেরই।

মিরাজের ফাইফারে পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে থামাল বাংলাদেশ
মিরপুর টেস্টে একসময় পাকিস্তান বড় লিডের পথে বলে মনে হচ্ছিল। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার জুটিতে চাপ বাড়ছিল বাংলাদেশের ওপর। কিন্তু শেষ সেশনে দৃশ্যপট পাল্টে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। তাদের সম্মিলিত আক্রমণে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের চেয়ে ২৭ রানে পিছিয়েই থেমেছে। দিনের শেষ ভাগে ৮৯.৪ ওভারে রিজওয়ানকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল। ৭৯ বলে ৮ চারে ৫৯ রান করা রিজওয়ান এগিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ধরা পড়েন। এরপর নাহিদ রানার গতিতে ফেরেন সালমান আগা। ৯৪ বলে ৫৮ রান করা এই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন। এরপর টেলএন্ডে আঘাত করেন মিরাজ। নোমান আলীকে স্লিপে শান্তর ক্যাচ বানিয়ে চাপে ফেলেন পাকিস্তানকে। এরপর শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম পাঁচ উইকেট। শেষ উইকেটে হাসান আলীকে বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ করেন তাইজুল। এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসের মাঝপথেও বড় ধাক্কা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের বলে শান মাসুদ ফিরেছিলেন ৯ রানে, এরপর মিরাজের বলে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন সৌদ শাকিল। অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফজল ৬০ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তাকেও ফেরান মিরাজ। তবে বাংলাদেশের আক্ষেপও আছে। ৬৪তম ওভারে তাসকিনের বলে সালমান আগা কট বিহাইন্ড হলেও নো-বলের কারণে বেঁচে যান। তখনই পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট ২০ রানের মধ্যে পড়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। পরে সেই সালমানই রিজওয়ানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে বিপদ থেকে তুলেছিলেন।
মিরাজের ফাইফারে পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে থামাল বাংলাদেশ
জ্যোতিকে অধিনায়ক করে নারী বিশ্বকাপের দল ঘোষণা
আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তারকে।   বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে প্রস্তুতির জন্য স্কটল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ নারী দল। আগামী ২৫ মে এডিনবরার উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন জ্যোতিরা। সেখানে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবে বাংলাদেশ।   স্কটল্যান্ড পর্ব শেষ করে বাংলাদেশ দল যাবে লাফবরোতে। সেখানে হবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ। এরপর ১৪ জুন এজবাস্টনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ঘোষিত দলে অভিজ্ঞদের সঙ্গে রাখা হয়েছে তরুণ ক্রিকেটারদেরও। ব্যাটিংয়ে জ্যোতির সঙ্গে আছেন শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারী, দিলারা আক্তার, জুয়ারিয়া ফেরদৌস ও তাজনেহার।    অলরাউন্ড সামর্থ্য নিয়ে দলে আছেন স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন ও সুলতানা খাতুন। বোলিং বিভাগে বড় ভরসা সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার। তার সঙ্গে আছেন রাবেয়া খান, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলা। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে পেস ও স্পিনের ভারসাম্য মাথায় রেখেই দল সাজিয়েছে বিসিবি।   বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল নিগার সুলতানা জ্যোতি, নাহিদা আক্তার, শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারী, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুয়ারিয়া ফেরদৌস ও তাজনেহার।
জ্যোতিকে অধিনায়ক করে নারী বিশ্বকাপের দল ঘোষণা
মিরপুর টেস্ট / আজানের ব্যাটে দিন শেষে স্বস্তিতে পাকিস্তান
মিরপুরে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ার পর বাংলাদেশ চাইছিল নতুন বলে দ্রুত আঘাত। স্কোরবোর্ডের চাপ ছিল, উইকেটে ছিল ওঠানামা, হাতে ছিল তিন পেসার। কিন্তু পাকিস্তান দ্বিতীয় দিনের শেষটা করল অনেক বেশি স্বস্তি নিয়ে। অভিষিক্ত আজান আওয়াইসের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে দিন শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ৪৬ ওভারে ১ উইকেটে ১৭৯ রান। বাংলাদেশের চেয়ে তারা এখনোও পিছিয়ে ২৩৪ রানে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষের সময় আজান ৮৫ রানে অপরাজিত। ১৩৩ বলের ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১২টি চার। অন্য প্রান্তে আবদুল্লাহ ফজল অপরাজিত ৩৭ রানে। দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশ শুধু ইমাম-উল-হকের উইকেটটি নিতে পেরেছে। মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ইমাম করেন ৪৫ রান। বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। চা বিরতির সময় ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান তুলে ফেলেছিল তারা। ইমাম তখন ২৮, আজান ১৮। বাংলাদেশের পেসাররা গতি পেলেও লাইন-লেংথে ধারাবাহিক ছিলেন না। তাসকিন ও ইবাদত শুরুতেই নো-বল করেন। কয়েকবার ব্যাটের কানায় বল লাগলেও স্লিপে তা হাতে যায়নি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ইবাদতের বলে। ২৩ রানে থাকা ইমাম কভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে এজ দেন। তৃতীয় স্লিপে মাহমুদুল হাসান জয়ের কাছে কঠিন ক্যাচ যায়, কিন্তু তিনি ধরে রাখতে পারেননি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইমাম পরে ওপেনিং জুটিকে ১০৬ রানে নিয়ে যান। পেস আক্রমণে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছিলেন নাহিদ রানা। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ১৪০.৯ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে আজানের হেলমেটে আঘাত করেন তিনি। ফিজিও মাঠে আসেন, কনকাশন পরীক্ষা হয়, বদলানো হয় হেলমেটও। পরে আজান মাথা ঘোরার কথাও জানান। কিন্তু সব সামলে বাঁহাতি এই তরুণ ব্যাটসম্যান ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং ধীরে ধীরে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন। আজানের ইনিংসের সৌন্দর্য ছিল তার স্থিরতায়। প্রথম টেস্ট, হেলমেটে আঘাত, সামনে ৪১৩ রানের চাপ, কিছুই তাকে খুব বেশি বিচলিত করতে পারেনি। ইবাদতকে কভার ড্রাইভ, তাসকিনকে কভার দিয়ে চার, নাহিদের গতি ব্যবহার করে বাউন্ডারি, সব মিলিয়ে তার ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। ৬৬ বলে তুলে নেন অভিষেক টেস্টের ফিফটি। ইমামও শুরুতে বাংলাদেশি পেসারদের ঢিলেঢালা লাইন কাজে লাগিয়েছেন। তবে মিরাজ আক্রমণে আসার পর বাংলাদেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। ২২তম ওভারের শেষ বলে মিরাজের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে সামনে পা বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ইমাম। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। আল্ট্রা এজে ব্যাটের ছোঁয়া ছিল না, বল ট্র্যাকিংয়ে তিন লাল। পাকিস্তানের প্রথম উইকেট পড়ে ১০৬ রানে। ইমামের পর ক্রিজে এসে আবদুল্লাহ ফজল শুরুতে সময় নিয়েছেন। নিজের প্রথম টেস্ট রান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে নাহিদকে পয়েন্টের ওপর দিয়ে চার মেরে রানের খাতা খোলেন। দিন যত গড়িয়েছে, তত স্থির হয়েছেন তিনি। আজানের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন জুটি পাকিস্তানকে দিনের শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদে পড়তে দেয়নি। বাংলাদেশের বোলিংয়ে আক্ষেপ থাকবে একাধিক। নতুন বলে উইকেট পাওয়া যায়নি, নো-বল বেশি হয়েছে, রিভিউ নষ্ট হয়েছে, ক্যাচও পড়েছে। শেষ সেশনের দিকে তাসকিনের বলে আবদুল্লাহর আরেকটি কঠিন সুযোগও স্লিপে ধরতে পারেননি সাদমান। বড় সংগ্রহের পর এমন সুযোগ হাতছাড়া করলে চাপ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। দিনের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং দিয়ে। ৩০১/৪ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ থামে ৪১৩ রানে। শান্তর ১০১, মুমিনুলের ৯১, মুশফিকের ৭১ এবং শেষ দিকে তাসকিনের ১৯ বলে ২৮ রানের ক্যামিও বড় সংগ্রহ এনে দেয় স্বাগতিকদের। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস নেন ৫ উইকেট। তবু দ্বিতীয় দিনের শেষ ছবিটা পাকিস্তানের জন্য বেশি স্বস্তির। ৪১৩ রানের জবাবে ১৭৯/১, হাতে ৯ উইকেট। 
আজানের ব্যাটে দিন শেষে স্বস্তিতে পাকিস্তান
বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তানের ভালো শুরু
মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ার পর বাংলাদেশ চাইছিল নতুন বলে দ্রুত আঘাত। স্কোরবোর্ডের চাপ ছিল, উইকেটে এখনও ওঠানামা আছে, আর হাতে ছিল তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও নাহিদ রানার পেস আক্রমণ। কিন্তু পাকিস্তানের দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক ও আজান আওয়াইস দ্বিতীয় দিনের চা বিরতি পর্যন্ত সেই চাপ সামলে রেখেছেন। চা বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান। ইমাম ৪১ বলে ২৮ এবং অভিষিক্ত আজান ২৩ বলে ১৮ রানে অপরাজিত। বাংলাদেশের চেয়ে এখনও ৩৬৩ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪১৩ রানে। প্রথম দিনের শান্ত-মুমিনুলের গড়া ভিতের ওপর দ্বিতীয় দিনে মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম ও শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের রান যোগ হয়ে স্বাগতিকরা চারশ পেরোয়। মুশফিক ৭১, লিটন ৩৩, তাইজুল ১৭ এবং তাসকিন ১৯ বলে ২৮ রান করেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে দ্বিতীয় স্লিপে সৌদ শাকিলের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন তাসকিন। পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার মোহাম্মদ আব্বাস। ৩৪ ওভারে ৯২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। লিটন, মিরাজ, তাইজুলের পর ইবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন অভিজ্ঞ এই পেসার। শাহিন নেন ২ উইকেট, হাসান আলী ১টি। বাংলাদেশের বোলিং শুরুতে খুব নিয়ন্ত্রিত ছিল না। তাসকিন প্রথম ওভারেই নো-বল করেন, ইমামের ব্যাটের কানায় বলও লাগে, তবে তা স্লিপে পৌঁছায়নি। ইবাদতের প্রথম ওভারেও নো-বল ছিল। পেসাররা গতি পাচ্ছিলেন, কিন্তু লাইন-লেংথে ধারাবাহিকতা আসছিল না। সেই সুযোগে ইমাম ও আজান স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। তবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে সবচেয়ে আলোড়ন তোলেন নাহিদ রানা। সপ্তম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ১৪০.৯ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে আজান আওয়াইসের হেলমেটে আঘাত করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ফিজিও মাঠে আসেন, কনকাশন পরীক্ষা হয় এবং হেলমেটও বদলাতে হয়। কিছুক্ষণ পর আজান আবার ব্যাটিং শুরু করেন। নাহিদের সেই ওভারে অবশ্য দুটি নো-বলও ছিল। গতি ও আগ্রাসন ছিল, কিন্তু নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি থাকায় পাকিস্তান রান তুলে নেয়। ইমাম তাকে কভার পয়েন্ট দিয়ে চার মারেন। পরের ওভারে নাহিদ ইমামকে এলবিডব্লিউও করেছিলেন। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ইমাম, বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল অফ স্টাম্প মিস করত। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ইবাদতের বলে। ২৩ রানে থাকা ইমাম কভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে এজ দেন, তৃতীয় স্লিপে মাহমুদুল হাসান জয়ের কাছে কঠিন ক্যাচ যায়। জয় ঝাঁপিয়েও ধরে রাখতে পারেননি। সুযোগটি নিতে পারলে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ নতুন বলের চাপও বাড়াতে পারত।  
বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তানের ভালো শুরু
৩২ বলে ১০৮! নরসিংদীতে তরিকুল পরশের ব্যাটে রানের টর্নেডো
দেশজুড়ে চলমান প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ির’ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার জেলা পর্যায়ে এক অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডব দেখল নরসিংদী। সদর উপজেলার হয়ে শিবপুর উপজেলার বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাত্র ৩২ বলে ১০৮ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেছেন কিশোর ক্রিকেটার তরিকুল ইসলাম পরশ। তার এই বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে বিশাল জয় পেয়েছে নরসিংদী সদর উপজেলা। নরসিংদী জেলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই শিবপুরের বোলারদের ওপর চড়াও হন পরশ। মাঠের চারদিকে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে তিনি পূর্ণ করেন শতরান। তার এই অপরাজিত ইনিংসে ছিল ১০টি দর্শনীয় চার এবং ১০টি বিশাল ছক্কা। পরশের এই অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১১ রানের পাহাড়সম পুঁজি সংগ্রহ করে নরসিংদী সদর উপজেলা। টি-টেন ক্রিকেটের ইতিহাসে যা এক বিরল সংগ্রহ। ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পরশের ঝড়ের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শিবপুর উপজেলার ব্যাটাররা। সদর উপজেলার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ১০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৬ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা। ফলে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট কাটে নরসিংদী সদর উপজেলা। তরিকুল ইসলাম পরশের ক্রিকেটে উঠে আসার গল্পটা সংগ্রামের। তার বাবা পেশায় একজন কৃষক এবং মা গৃহিণী। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর প্রতিভার জোরেই আজ সে মাঠ মাতাচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং করার সুযোগই পায়নি পরশ। তবে সেদিন বল হাতে ২ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। উল্লেখ্য, তৃণমূল পর্যায় থেকে আগামীর ক্রিকেটার তৈরির লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে চলছে এই ‘নতুন কুঁড়ি’ টি-টেন ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। পরশের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের প্রত্যাশা, সঠিক পরিচর্যা পেলে তরিকুল ইসলাম পরশ একদিন জাতীয় দলের জার্সিতেও দেশের নাম উজ্জ্বল করবেন।
৩২ বলে ১০৮! নরসিংদীতে তরিকুল পরশের ব্যাটে রানের টর্নেডো
মিরাজের ফাইফারে পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে থামাল বাংলাদেশ
মিরাজের ফাইফারে পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে থামাল বাংলাদেশ
মিরপুর টেস্টে একসময় পাকিস্তান বড় লিডের পথে বলে মনে হচ্ছিল। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার জুটিতে চাপ বাড়ছিল বাংলাদেশের ওপর। কিন্তু শেষ সেশনে দৃশ্যপট পাল্টে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। তাদের সম্মিলিত আক্রমণে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের চেয়ে ২৭ রানে পিছিয়েই থেমেছে। দিনের শেষ ভাগে ৮৯.৪ ওভারে রিজওয়ানকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল। ৭৯ বলে ৮ চারে ৫৯ রান করা রিজওয়ান এগিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ধরা পড়েন। এরপর নাহিদ রানার গতিতে ফেরেন সালমান আগা। ৯৪ বলে ৫৮ রান করা এই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন। এরপর টেলএন্ডে আঘাত করেন মিরাজ। নোমান আলীকে স্লিপে শান্তর ক্যাচ বানিয়ে চাপে ফেলেন পাকিস্তানকে। এরপর শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম পাঁচ উইকেট। শেষ উইকেটে হাসান আলীকে বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ করেন তাইজুল। এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসের মাঝপথেও বড় ধাক্কা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের বলে শান মাসুদ ফিরেছিলেন ৯ রানে, এরপর মিরাজের বলে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন সৌদ শাকিল। অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফজল ৬০ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তাকেও ফেরান মিরাজ। তবে বাংলাদেশের আক্ষেপও আছে। ৬৪তম ওভারে তাসকিনের বলে সালমান আগা কট বিহাইন্ড হলেও নো-বলের কারণে বেঁচে যান। তখনই পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট ২০ রানের মধ্যে পড়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। পরে সেই সালমানই রিজওয়ানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে বিপদ থেকে তুলেছিলেন।
জ্যোতিকে অধিনায়ক করে নারী বিশ্বকাপের দল ঘোষণা
জ্যোতিকে অধিনায়ক করে নারী বিশ্বকাপের দল ঘোষণা
আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তারকে।   বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে প্রস্তুতির জন্য স্কটল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ নারী দল। আগামী ২৫ মে এডিনবরার উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন জ্যোতিরা। সেখানে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবে বাংলাদেশ।   স্কটল্যান্ড পর্ব শেষ করে বাংলাদেশ দল যাবে লাফবরোতে। সেখানে হবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ। এরপর ১৪ জুন এজবাস্টনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ঘোষিত দলে অভিজ্ঞদের সঙ্গে রাখা হয়েছে তরুণ ক্রিকেটারদেরও। ব্যাটিংয়ে জ্যোতির সঙ্গে আছেন শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারী, দিলারা আক্তার, জুয়ারিয়া ফেরদৌস ও তাজনেহার।    অলরাউন্ড সামর্থ্য নিয়ে দলে আছেন স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন ও সুলতানা খাতুন। বোলিং বিভাগে বড় ভরসা সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার। তার সঙ্গে আছেন রাবেয়া খান, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলা। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে পেস ও স্পিনের ভারসাম্য মাথায় রেখেই দল সাজিয়েছে বিসিবি।   বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল নিগার সুলতানা জ্যোতি, নাহিদা আক্তার, শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারী, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুয়ারিয়া ফেরদৌস ও তাজনেহার।
আজানের ব্যাটে দিন শেষে স্বস্তিতে পাকিস্তান
মিরপুর টেস্ট / আজানের ব্যাটে দিন শেষে স্বস্তিতে পাকিস্তান
মিরপুরে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ার পর বাংলাদেশ চাইছিল নতুন বলে দ্রুত আঘাত। স্কোরবোর্ডের চাপ ছিল, উইকেটে ছিল ওঠানামা, হাতে ছিল তিন পেসার। কিন্তু পাকিস্তান দ্বিতীয় দিনের শেষটা করল অনেক বেশি স্বস্তি নিয়ে। অভিষিক্ত আজান আওয়াইসের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে দিন শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ৪৬ ওভারে ১ উইকেটে ১৭৯ রান। বাংলাদেশের চেয়ে তারা এখনোও পিছিয়ে ২৩৪ রানে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষের সময় আজান ৮৫ রানে অপরাজিত। ১৩৩ বলের ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১২টি চার। অন্য প্রান্তে আবদুল্লাহ ফজল অপরাজিত ৩৭ রানে। দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশ শুধু ইমাম-উল-হকের উইকেটটি নিতে পেরেছে। মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ইমাম করেন ৪৫ রান। বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। চা বিরতির সময় ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান তুলে ফেলেছিল তারা। ইমাম তখন ২৮, আজান ১৮। বাংলাদেশের পেসাররা গতি পেলেও লাইন-লেংথে ধারাবাহিক ছিলেন না। তাসকিন ও ইবাদত শুরুতেই নো-বল করেন। কয়েকবার ব্যাটের কানায় বল লাগলেও স্লিপে তা হাতে যায়নি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ইবাদতের বলে। ২৩ রানে থাকা ইমাম কভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে এজ দেন। তৃতীয় স্লিপে মাহমুদুল হাসান জয়ের কাছে কঠিন ক্যাচ যায়, কিন্তু তিনি ধরে রাখতে পারেননি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইমাম পরে ওপেনিং জুটিকে ১০৬ রানে নিয়ে যান। পেস আক্রমণে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছিলেন নাহিদ রানা। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ১৪০.৯ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে আজানের হেলমেটে আঘাত করেন তিনি। ফিজিও মাঠে আসেন, কনকাশন পরীক্ষা হয়, বদলানো হয় হেলমেটও। পরে আজান মাথা ঘোরার কথাও জানান। কিন্তু সব সামলে বাঁহাতি এই তরুণ ব্যাটসম্যান ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং ধীরে ধীরে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন। আজানের ইনিংসের সৌন্দর্য ছিল তার স্থিরতায়। প্রথম টেস্ট, হেলমেটে আঘাত, সামনে ৪১৩ রানের চাপ, কিছুই তাকে খুব বেশি বিচলিত করতে পারেনি। ইবাদতকে কভার ড্রাইভ, তাসকিনকে কভার দিয়ে চার, নাহিদের গতি ব্যবহার করে বাউন্ডারি, সব মিলিয়ে তার ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। ৬৬ বলে তুলে নেন অভিষেক টেস্টের ফিফটি। ইমামও শুরুতে বাংলাদেশি পেসারদের ঢিলেঢালা লাইন কাজে লাগিয়েছেন। তবে মিরাজ আক্রমণে আসার পর বাংলাদেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। ২২তম ওভারের শেষ বলে মিরাজের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে সামনে পা বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ইমাম। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। আল্ট্রা এজে ব্যাটের ছোঁয়া ছিল না, বল ট্র্যাকিংয়ে তিন লাল। পাকিস্তানের প্রথম উইকেট পড়ে ১০৬ রানে। ইমামের পর ক্রিজে এসে আবদুল্লাহ ফজল শুরুতে সময় নিয়েছেন। নিজের প্রথম টেস্ট রান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে নাহিদকে পয়েন্টের ওপর দিয়ে চার মেরে রানের খাতা খোলেন। দিন যত গড়িয়েছে, তত স্থির হয়েছেন তিনি। আজানের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন জুটি পাকিস্তানকে দিনের শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদে পড়তে দেয়নি। বাংলাদেশের বোলিংয়ে আক্ষেপ থাকবে একাধিক। নতুন বলে উইকেট পাওয়া যায়নি, নো-বল বেশি হয়েছে, রিভিউ নষ্ট হয়েছে, ক্যাচও পড়েছে। শেষ সেশনের দিকে তাসকিনের বলে আবদুল্লাহর আরেকটি কঠিন সুযোগও স্লিপে ধরতে পারেননি সাদমান। বড় সংগ্রহের পর এমন সুযোগ হাতছাড়া করলে চাপ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। দিনের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং দিয়ে। ৩০১/৪ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ থামে ৪১৩ রানে। শান্তর ১০১, মুমিনুলের ৯১, মুশফিকের ৭১ এবং শেষ দিকে তাসকিনের ১৯ বলে ২৮ রানের ক্যামিও বড় সংগ্রহ এনে দেয় স্বাগতিকদের। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস নেন ৫ উইকেট। তবু দ্বিতীয় দিনের শেষ ছবিটা পাকিস্তানের জন্য বেশি স্বস্তির। ৪১৩ রানের জবাবে ১৭৯/১, হাতে ৯ উইকেট। 
বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তানের ভালো শুরু
বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তানের ভালো শুরু
মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ার পর বাংলাদেশ চাইছিল নতুন বলে দ্রুত আঘাত। স্কোরবোর্ডের চাপ ছিল, উইকেটে এখনও ওঠানামা আছে, আর হাতে ছিল তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও নাহিদ রানার পেস আক্রমণ। কিন্তু পাকিস্তানের দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক ও আজান আওয়াইস দ্বিতীয় দিনের চা বিরতি পর্যন্ত সেই চাপ সামলে রেখেছেন। চা বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান। ইমাম ৪১ বলে ২৮ এবং অভিষিক্ত আজান ২৩ বলে ১৮ রানে অপরাজিত। বাংলাদেশের চেয়ে এখনও ৩৬৩ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪১৩ রানে। প্রথম দিনের শান্ত-মুমিনুলের গড়া ভিতের ওপর দ্বিতীয় দিনে মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম ও শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের রান যোগ হয়ে স্বাগতিকরা চারশ পেরোয়। মুশফিক ৭১, লিটন ৩৩, তাইজুল ১৭ এবং তাসকিন ১৯ বলে ২৮ রান করেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে দ্বিতীয় স্লিপে সৌদ শাকিলের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন তাসকিন। পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার মোহাম্মদ আব্বাস। ৩৪ ওভারে ৯২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। লিটন, মিরাজ, তাইজুলের পর ইবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন অভিজ্ঞ এই পেসার। শাহিন নেন ২ উইকেট, হাসান আলী ১টি। বাংলাদেশের বোলিং শুরুতে খুব নিয়ন্ত্রিত ছিল না। তাসকিন প্রথম ওভারেই নো-বল করেন, ইমামের ব্যাটের কানায় বলও লাগে, তবে তা স্লিপে পৌঁছায়নি। ইবাদতের প্রথম ওভারেও নো-বল ছিল। পেসাররা গতি পাচ্ছিলেন, কিন্তু লাইন-লেংথে ধারাবাহিকতা আসছিল না। সেই সুযোগে ইমাম ও আজান স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। তবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে সবচেয়ে আলোড়ন তোলেন নাহিদ রানা। সপ্তম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ১৪০.৯ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে আজান আওয়াইসের হেলমেটে আঘাত করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ফিজিও মাঠে আসেন, কনকাশন পরীক্ষা হয় এবং হেলমেটও বদলাতে হয়। কিছুক্ষণ পর আজান আবার ব্যাটিং শুরু করেন। নাহিদের সেই ওভারে অবশ্য দুটি নো-বলও ছিল। গতি ও আগ্রাসন ছিল, কিন্তু নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি থাকায় পাকিস্তান রান তুলে নেয়। ইমাম তাকে কভার পয়েন্ট দিয়ে চার মারেন। পরের ওভারে নাহিদ ইমামকে এলবিডব্লিউও করেছিলেন। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ইমাম, বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল অফ স্টাম্প মিস করত। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ইবাদতের বলে। ২৩ রানে থাকা ইমাম কভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে এজ দেন, তৃতীয় স্লিপে মাহমুদুল হাসান জয়ের কাছে কঠিন ক্যাচ যায়। জয় ঝাঁপিয়েও ধরে রাখতে পারেননি। সুযোগটি নিতে পারলে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ নতুন বলের চাপও বাড়াতে পারত।