
বিশ্বকাপ মানেই আর্জেন্টিনার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে সবসময়ই থাকেন দলটির সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি। কাতারে যে গল্পটা পূর্ণতা পেয়েছিল, ২০২৬ সালে সেটির পুনরাবৃত্তির আশাও কম নয়। কিন্তু মেসি নিজে সেই আবেগে ভেসে যাচ্ছেন না। বরং বিশ্বকাপের এক মাসের একটু বেশি সময় আগে আর্জেন্টিনার অবস্থান নিয়ে বেশ বাস্তববাদী কথা বললেন দেশটির অধিনায়ক।
মেসির চোখে আর্জেন্টিনা লড়াই করবে, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবে, কিন্তু শিরোপার সবচেয়ে বড় ফেবারিট নয়। তার মতে, বর্তমান অবস্থায় আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে আছে আরও কয়েকটি দল।
‘লো দেল পোয়ো’ অনুষ্ঠানে মেসি বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা ভালো অবস্থায় আছে। অনেক খেলোয়াড় এখন চোট আর ম্যাচ ফিটনেসের সমস্যায় আছে, তবে দলটা ঐক্যবদ্ধ। এই দল দেখিয়েছে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, সব সময় জিততে চায় এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবকিছু দেয়।’
এরপরই তিনি যোগ করেন বাস্তবতার অংশটি, ‘আমাদের রোমাঞ্চিত হতে হবে, যেমন আর্জেন্টাইনরা সব সময় হয়, কোপা আমেরিকা হোক বা বিশ্বকাপ। তবে এটাও মানতে হবে, আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে আরও কয়েকটি ফেবারিট দল, যারা দলগতভাবে ও সামগ্রিকভাবে ভালো অবস্থায় আছে।’
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি খেলবেন কি না, সেটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। বারবার প্রশ্ন উঠলেও তিনি কখনও স্পষ্ট ঘোষণা দেননি। তবে তার কথাবার্তায় বোঝা যায়, সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। টুর্নামেন্ট চলাকালীন তার বয়স হবে ৩৯।
কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে এবার বিরল সুযোগ, টানা দুই বিশ্বকাপ জেতার। আধুনিক ফুটবলে কাজটি কত কঠিন, তা মেসিও জানেন। তবু তিনি বিশ্বাস করেন, এই দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
মেসির ভাষায়, ‘এই আর্জেন্টিনা দল সব সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং নিজেদের সেরাটা দেবে, যেমনটা এই দল একসঙ্গে হওয়ার পর থেকে করে আসছে।’
বিশ্বকাপে কারা এগিয়ে, সেই প্রশ্নে মেসির উত্তর ছিল দ্রুত ও পরিষ্কার। তার চোখে ফ্রান্স আবারও শক্তিশালী। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের দলকে তিনি সবচেয়ে বড় দাবিদারদের একটি হিসেবেই দেখছেন।
মেসি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ফ্রান্সকে আবারও খুব ভালো দেখাচ্ছে। তাদের অনেক শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড় আছে। স্পেনও আছে। ব্রাজিল সাম্প্রতিক সময়ে সেরা ছন্দে না থাকলেও তারা সব সময় দাবিদার, সব প্রতিযোগিতায় লড়াই করার মতো খেলোয়াড় তাদের আছে।’
এর বাইরে জার্মানি, ইংল্যান্ড, পর্তুগালের কথাও বলেছেন মেসি। তার মতে, বড় শক্তির দলগুলোকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। পর্তুগালকেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও ভালো দল বলেছেন। আর বিশ্বকাপে সব সময়ই কোনো না কোনো চমক দেখা যায়, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
কাতারে মেসি বিশ্বকাপের ওজন বুঝেছেন, স্বপ্ন পূরণের মূল্যও জেনেছেন। ২০২৬ সালে তিনি থাকলে সেটি হতে পারে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ নাচ। তবে সেই নাচে শিরোপা আসবে কি না, তা নিয়ে এখনই বড় দাবি নয়। মেসির বার্তা পরিষ্কার, আর্জেন্টিনা লড়বে, কিন্তু পথটা সহজ নয়।




