
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটানো এই ফল রাজনৈতিকভাবে বড় পালাবদল। তবে ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছে এক অপ্রত্যাশিত নাম, ফুটবল সুপারস্টার লিওনেল মেসি।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এক্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মেসিকে নিয়ে মিম ও রসিকতার ঢেউ ওঠে। অনেকেই মজা করে ২০২৫ সালে কলকাতায় মেসির বিশৃঙ্খল সফরের সঙ্গে তৃণমূলের পরাজয়কে জুড়ে দেন। কেউ কেউ আর্জেন্টাইন তারকাকে ‘বিজেপি এজেন্ট’ বলেও ঠাট্টা করেন।
এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মেসি ২০১১ সালে কলকাতায় এসেছিল, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলেছিল। ২০২৫ সালে আবার কলকাতায় এলো, আবার সরকার বদলাল। GOAT-এর ক্ষমতা অবিশ্বাস্য।’
history witnessed everytime Messi stepped in West Bengal ruling parties lost their power lol the real game changer. #lionelmessi https://t.co/axIjKdsqJy pic.twitter.com/VtudnPKb71
— Rupsa. (@roystalee) May 5, 2026 আরেকজনের মন্তব্য, ‘বিজেপি এজেন্ট মেসি দিদির পতনের শুরুটা করে দিয়েছিল।’ কেউ আবার লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে মেসি মোদির চেয়েও বেশি করেছে।’
BJP agent Messi kicked off the downfall of Didi pic.twitter.com/vtuYHCtHXc
— Gabbar (@GabbbarSingh) May 4, 2026 এই রসিকতার পেছনে আছে ২০২৫ সালের কলকাতা সফরের সেই বিতর্কিত ঘটনা। বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে দেখতে বিপুল অর্থ খরচ করে গিয়েছিলেন বহু দর্শক। কিন্তু আর্জেন্টাইন তারকা মাঠে ছিলেন খুব অল্প সময়। তাকে ঘিরে রাজনীতিক, কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের ভিড়ে পরিকল্পিত স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণও ঠিকভাবে হয়নি।
এরপর গ্যালারিতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বোতল ছোড়া, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যে আয়োজন কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেটিই পরিণত হয় বড় প্রশাসনিক অস্বস্তিতে।
ঘটনার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তদন্তের নির্দেশ দেন। আয়োজককেও আটক করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিজেপি এই ঘটনাকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারে ব্যবহার করে। নির্বাচনি প্রচারে কলকাতার ‘আন্তর্জাতিক লজ্জা’ হিসেবে মেসি সফরের বিশৃঙ্খলার কথা তুলে ধরা হয়।
All those who were responsible for the debacle of Messis event in Kolkata are rewarded with tickets by TMC.
— BJP West Bengal (@BJP4Bengal) March 19, 2026 তবে বিজেপির জয়ের পেছনে সরাসরি মেসির সফরের কোনো ভূমিকা ছিল, এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অ্যান্টি ইনকামবেন্সি, সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটের মাঠের নানা সমীকরণ।
তবু নেটদুনিয়ার গল্পটা অনেক সহজ। মেসি কলকাতায় এলেন, আয়োজন ঘিরে বিতর্ক হলো, কয়েক মাস পর বদলে গেল সরকার। আর সেখান থেকেই জন্ম নিল নতুন মিম, মেসি নাকি আবারও ‘খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছেন’।
VVIP culture and greed of TMC leaders is way more important than the sentiment of Football fan community of West Bengal. pic.twitter.com/oHU8lhbOy7




