
বিশ্বকাপে সাধারণত বড় দল আর ছোট দলের পার্থক্য অনেক সময় খুব বেশি চোখে পড়ে। আর্জেন্টিনা-স্পেনের মতো বড় দলের খেলোয়াড়রা বেশি দক্ষ, তাদের পাসিং ভালো, আক্রমণের ধরন পরিষ্কার, আর একক দক্ষতায় ম্যাচ বদলে দেওয়ার মতো ফুটবলারও থাকে বেশি।
কিন্তু ফুটবলে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যেখানে এই ব্যবধান অনেকটাই কমে যায়। কর্নার, ফ্রি কিক বা বক্সের আশপাশে পাওয়া সেট পিস তেমনই জায়গা।
সহজ করে বললে, সেট পিস মানে হলো খেলা থেমে যাওয়ার পর আবার নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বল চালু করা। যেমন কর্নার, ফ্রি কিক, লং থ্রো বা পেনাল্টি। এই মুহূর্তগুলোতে ওপেন প্লের মতো দীর্ঘ পাস, ড্রিবলিং বা বড় আক্রমণ সাজানোর দরকার পড়ে না। দরকার হয় এক ভালো ক্রস, এক ভালো হেড, এক ভুল মার্কিং বা গোলমুখে এক সেকেন্ডের সুযোগ।
২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলবে ৪৮ দল। ফলে অনেক ছোট ও মাঝারি শক্তির দল বড় দলগুলোর বিপক্ষে নামবে। তাদের জন্য পুরো ম্যাচে অনেক সুযোগ তৈরি করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু একটি কর্নার বা একটি ফ্রি কিক থেকেই গোলের দরজা খুলে যেতে পারে।
ধরুন নিউজিল্যান্ডের মতো দল। তারা হয়তো বেলজিয়াম বা মিসরের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে বেশি বল পাবে না। কিন্তু কর্নার পেলে ক্রিস উডের মতো লম্বা ও শক্তিশালী স্ট্রাইকারকে কাজে লাগাতে পারে। আবার প্যারাগুয়ের মতো দল রক্ষণে শক্ত, কিন্তু কর্নার বা ফ্রি কিক থেকে তাদের ডিফেন্ডাররা গোলের সামনে বিপদ তৈরি করতে পারে।
ছোট দলগুলোর জন্য এই জায়গাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বড় দলের বিপক্ষে ওপেন প্লেতে বারবার আক্রমণ করা কঠিন। কিন্তু কর্নার বা ফ্রি কিকে সবাই একই বক্সে দাঁড়ায়। সেখানে এক সঠিক বল, এক ভালো দৌড়, এক হেড, আর স্কোরলাইন বদলে যেতে পারে।
এখনকার ফুটবলে এই জায়গা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা হয়। কোনো খেলোয়াড় কোথায় দাঁড়াবে, কে সামনে দৌড় দেবে, কে পেছনে থাকবে, কে দ্বিতীয় বলের জন্য অপেক্ষা করবে, এসব আগেই ঠিক করা থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, গোলটা দেখতে সহজ মনে হলেও তার পেছনে থাকে অনেক অনুশীলন।
বিশ্বকাপে এই পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাতীয় দলগুলো একসঙ্গে খুব বেশি সময় অনুশীলন করতে পারে না। বড় ক্লাবের মতো মাসের পর মাস একই খেলোয়াড় নিয়ে খেলার সুযোগ নেই। তাই কর্নার বা ফ্রি কিকের মতো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা দ্রুত তৈরি করা সহজ।
আর এবার নতুন ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় দলগুলোরও পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তাই একটি ড্র, একটি গোল, এমনকি গোল ব্যবধানও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই জায়গায় কর্নার বা ফ্রি কিক থেকে পাওয়া একটি গোল পুরো গ্রুপের হিসাব বদলে দিতে পারে।
বড় দলগুলোর জন্যও তাই সতর্কবার্তা আছে। ছোট দলকে ৯০ মিনিট চেপে রাখলেই হবে না। কর্নার দেওয়া যাবে না, বক্সের পাশে অযথা ফাউল করা যাবে না, আর নিজের ডিফেন্সে মনোযোগ হারানো যাবে না।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক বড় অঘটনের শুরু হয়েছে এমন এক মুহূর্ত থেকে, যেটাকে প্রথমে খুব সাধারণ মনে হয়েছিল। একটি কর্নার, একটি ফ্রি কিক, একটি হেড, আর বড় দলের পরিকল্পনা এলোমেলো।
২০২৬ বিশ্বকাপে ছোট দলগুলোর হাতে হয়তো বল কম থাকবে। কিন্তু যদি তারা এই ছোট সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে, তাহলে বড় ম্যাচের গল্পও বদলে যেতে পারে।




