
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৬ আসনে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে মাত্র ৮০টি আসনের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। মোট আসনের মধ্যে ১৪৮টি আসন পেলেন সরকার গঠন করতে পারবে বিজয়ী দল। ফলে স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।
মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টার দিকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির কাছে ভূমিধস পরাজয়ের পর নিজ আসন ভবানীপুরেও হেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বশেষ ১৯তম রাউন্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী এই আসনে ভোট পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯২৬। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭২ হাজার ৯৩২ ভোট। মমতার চেয়ে ১৫ হাজার ৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
আরেকটি আসন নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করা পবিত্র করকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এই কৌশল কার্যত ব্যর্থ হয়ে গেল। কারণ, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ১০ হাজারের বেশি। যদিও নন্দীগ্রাম নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ‘নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতছে!’
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে লড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে হারতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। শেষ হাসি হাসেন শুভেন্দুই। প্রায় ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে জয় ছিনিয়ে আনেন লোকসভার সাবেক এই সাংসদ। সেই ফল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়। পাঁচ বছর পরে আরও একটি বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়ে গেলেও হাইকোর্টে সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয় পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছিল, তারা গত তিনবারের মতো এবারও বিপুল ব্যবধানে জয় পাবে। তবে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেখা যাচ্ছে বিজেপিকেই বেশিরভাগ মানুষ ভোট দিয়েছেন। এতে মমতার ১৫ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
২০২১ সালের আট দফায় অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি বা ২১৪টি (মতান্তরে ২১৫) আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। প্রধানবিরোধী দল বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল এবং বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট।



