
অনেকেই মনে করেন, হাড় মজবুত রাখতে হলে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (যেমন চা বা কফি) এড়িয়ে চলা উচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, Tea পান করা সব সময় ক্ষতিকর নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি হাড়ের জন্য উপকারীও হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ের মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান ক্যাফেইনের সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে বেশি উপকার দিতে পারে। বিশেষ করে এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত চা পান করলে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম কমে যায় বা হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে - এমন প্রমাণ শক্তভাবে পাওয়া যায়নি। বরং কিছু পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, চা পানকারীদের হাড়ের ঘনত্ব স্বাভাবিক থাকে।
বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়, যা হাড় দুর্বল হওয়ার একটি বড় কারণ। কিছু গবেষণা বলছে, গ্রিন টি-তে থাকা উপাদান এই হরমোনের মতো কাজ করতে পারে এবং হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করতে পারে।
২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ১ থেকে ৩ কাপ গ্রিন টি পান করেন, তাদের মধ্যে অস্টিওপেনিয়া এবং অস্টিওপোরোসিস হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাড়ের ঘনত্ব (Bone Mineral Density)। এটি হাড় কতটা শক্ত বা দুর্বল, তা বোঝার একটি সূচক। নতুন ধরনের গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের স্বাভাবিকভাবেই চা পছন্দ করার প্রবণতা বেশি, তাদের হাড়ের ঘনত্বও তুলনামূলক ভালো হতে পারে, বিশেষ করে ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের মধ্যে।
তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করিয়ে দেন, এসব গবেষণা মূলত পর্যবেক্ষণভিত্তিক। তাই সরাসরি কারণ-প্রভাব সম্পর্ক পুরোপুরি নিশ্চিত বলা যায় না। অর্থাৎ, শুধু চা খাওয়ার কারণেই হাড় ভালো থাকে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পরিমিত পরিমাণে চা পান সাধারণত নিরাপদ এবং এটি হাড়ের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে হাড় ভালো রাখতে শুধু চায়ের ওপর নির্ভর না করে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ভেরি ওয়েল হেল্থ




