
হাড়ের যত্ন বলতে সাধারণত আমরা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের কথাই বেশি শুনি। তবে কিছু খাবার আছে, যেগুলো অনেকেই গুরুত্ব দেন না, অথচ সেগুলোও হাড় ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে নারীদের হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাবারের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন কয়েকটি প্রুন বা শুকনো আলুবোখারা খেলে হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখতে সাহায্য হতে পারে। বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাদের মতে, প্রুন শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা হাড় ক্ষয় ধীর করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মেনোপজের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়। এতে হাড় দ্রুত দুর্বল হতে শুরু করে। তাই এই সময় সঠিক খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
হাড় শক্ত রাখতে শুধু খাবার নয়, নিয়মিত ব্যায়ামও প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বেশি হলে বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি থাকলে অতিরিক্ত জাম্পিং বা বেশি চাপের ব্যায়াম এড়িয়ে চলা ভালো। এর বদলে হাঁটা, হালকা অ্যারোবিক্স, সিঁড়ি ওঠানামা বা এলিপটিক্যাল মেশিন ব্যবহার করা নিরাপদ ও উপকারী হতে পারে।
হাড়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পুষ্টি উপাদান হলো ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি। ক্যালসিয়াম হাড়ের মূল গঠন তৈরি করে, আর ভিটামিন ডি শরীরকে সেই ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর হাড় থেকে ক্যালসিয়াম নিতে শুরু করে, তাই খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম পাওয়া জরুরি।
দুধ, দই, পনির, শাকসবজি—এসব হাড়ের জন্য ভালো বলে সবাই জানেন। তবে আরও কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলোও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।
শুকনো ডুমুর বা ফিগে ভালো পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে। এটি ওটস, স্মুদি বা সালাদের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে।
ক্যানজাত স্যামন মাছেও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। কারণ এতে ছোট নরম কাঁটাও থাকে, যা সহজে খাওয়া যায়।
বাদামের দুধ, সয়া দুধ বা রাইস মিল্কের মতো উদ্ভিজ্জ দুধেও অনেক সময় বাড়তি ক্যালসিয়াম যোগ করা থাকে। তবে কেনার আগে লেবেল দেখে নেওয়া ভালো।
টোফু হাড়ের জন্য বেশ উপকারী। এতে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি প্রোটিনও থাকে, যা হাড় ও পেশি দুটোর জন্যই ভালো।
বাদাম ও বাদামের বাটারেও কিছুটা ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। পাশাপাশি এটি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
সাদা বিন বা শিমজাতীয় খাবারেও ভালো পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকে, যা হাড়ের শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকদের মতে, অস্টিওপোরোসিস অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে বাড়ে। কারও উচ্চতা কমে যাওয়া বা পিঠ একটু বাঁকা হয়ে যাওয়া ইঙ্গিত হতে পারে। তবে অনেক সময় প্রথম লক্ষণ হয় হাড় ভেঙে যাওয়া।
এ কারণে বয়স বাড়লে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা বা ডেক্সা স্ক্যান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে হাড় কতটা শক্ত বা দুর্বল, তা বোঝা যায়। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সি নারীদের নিয়মিত এই পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি খাবার থেকেই নেওয়ার চেষ্টা করা সবচেয়ে ভালো। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সঠিক খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হাড় ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: হার্ভার্ড হেল্থ পাবলিশিং




