
ওজন কমানো ও সুস্থ থাকার জন্য এখন অনেকেই ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস অনুসরণ করছেন। বিশেষ করে এখন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, এই ধরনের ফাস্টিং হৃদযন্ত্রের জন্য সত্যিই ভালো কি না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাস্টিং কিছু মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিতভাবে ফাস্টিং করলে ওজন কমতে পারে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব পরিবর্তন হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। কিছু গবেষক মনে করেন, নিয়মিত ব্যায়ামের সঙ্গে ফাস্টিং মিলিয়ে চললে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
তবে ২০২৪ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি গবেষণা নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। সেখানে বলা হয়, যারা প্রতিদিন মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে সব খাবার খেতেন, তাদের মধ্যে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে আগে থেকে হৃদরোগ বা ক্যানসারের সমস্যা থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। এতে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান বা ওজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফাস্টিং নয়, পুরো জীবনযাপনই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
মেদান্ত হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. রঞ্জন মোদির মতে, ফাস্টিং হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো না খারাপ হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও কী ধরনের ফাস্টিং করা হচ্ছে তার ওপর।
তার ভাষায়, ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ অনেকের ক্ষেত্রে ওজন, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রও উপকৃত হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা অতিরিক্ত কঠোর ফাস্টিং বয়স্ক মানুষ, ডায়াবেটিস রোগী কিংবা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে পানিশূন্যতা, রক্তে শর্করা কমে যাওয়া বা শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা হার্টের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই ফাস্টিং শুরু করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যদি কারও আগে থেকেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থাকে।
ফাস্টিংয়ের সময় কী খাচ্ছেন, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাস্টিং কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিলিয়েই এটি অনুসরণ করা উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি




