
পানি পান করা খুব সাধারণ একটি অভ্যাস, কিন্তু অনেকেই এটি সঠিকভাবে করেন না। আমাদের শরীর খাবার হজম থেকে শুরু করে পুষ্টি পরিবহন - সবকিছুর জন্য পানির ওপর নির্ভর করে। তবে শুধু কতটা পানি খাচ্ছেন তা নয়, কীভাবে খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পানি খাওয়া আর একবারে গিলে ফেলা, এই ছোট পার্থক্যই হজমের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হজম প্রক্রিয়া আসলে মুখ থেকেই শুরু হয়। এখানে লালা (Saliva) খাবার ভাঙতে সাহায্য করে। যখন ধীরে ধীরে পানি পান করা হয়, তখন এটি লালার সঙ্গে মিশে সহজভাবে শরীরে প্রবেশ করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে।
অন্যদিকে, একবারে অনেকটা পানি গিলে ফেললে শরীরকে হঠাৎ করে সেই পরিমাণ তরল সামলাতে হয়। এতে হজম প্রক্রিয়ায় সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসক বিনীত কুমার গুপ্ত বলেন, ‘ধীরে ধীরে পানি খেলে তা শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয় এবং হজমে সাহায্য করে। কিন্তু খুব দ্রুত পানি খেলে হজমের ওপর চাপ পড়তে পারে।’
ধীরে পানি খাওয়ার আরেকটি সুবিধা হলো, এটি শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখে। অল্প অল্প করে পানি গেলে পাকস্থলী সহজে তা গ্রহণ করতে পারে এবং হজমের এনজাইমগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি এটি সারাদিন শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
তবে দ্রুত পানি খাওয়া সবসময় খারাপ নয়। খুব গরমে বা ব্যায়ামের পর শরীর দ্রুত পানি চাইতে পারে। কিন্তু প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে, বিশেষ করে খাবারের সময় একসঙ্গে বেশি পানি খেলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে হঠাৎ পেট ভরা অনুভূতি হয়, হজম ধীর হয়ে যেতে পারে এবং পাকস্থলীর রস সাময়িকভাবে পাতলা হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া খুব ঠান্ডা পানি দ্রুত খেলে গলা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। যদিও এসব সমস্যা সাধারণত সাময়িক, কিন্তু অভ্যাসে পরিণত হলে হজমের সমস্যা বাড়তে পারে।
কেবল কীভাবে পানি খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের আগে বা পরে একসঙ্গে অনেক পানি খাওয়ার বদলে, সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো। খাবারের সময় প্রয়োজন হলে ছোট ছোট চুমুক নেওয়াই যথেষ্ট।
সবশেষে বলা যায়, পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করাই শরীরের জন্য বেশি উপকারী। এটি হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং শরীরকে আরাম দেয়। ছোট এই অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া




