টেস্টোস্টেরন হলো এমন একটি হরমোন যা পুরুষদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অণ্ডকোষে তৈরি হয় এবং পুরুষদের গম্ভীর কণ্ঠস্বর, পেশিবহুল শরীর ও মুখে দাড়ি-গোঁফের মতো বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী। পাশাপাশি এই হরমোন লাল রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে, মুড ভালো রাখে, হাড় মজবুত করে এবং চিন্তাশক্তি উন্নত করে।
টেস্টোস্টেরনের ঘাটতিকে সাধারণভাবে ‘লো-টি (Low-T) বলা হয়, যা নানা ধরনের অস্বস্তিকর উপসর্গ তৈরি করতে পারে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের শুরুর দিকে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ৪০ বছর পার হওয়ার পর প্রতি বছর প্রায় ১% থেকে ২% করে কমে।
৫০-এর পর এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হতে পারে। এর ফলে যৌনক্ষমতা কমে যাওয়া বা আগ্রহের পরিবর্তন, হতাশা বা উদ্বেগ, পেশি কমে যাওয়া, শক্তি হ্রাস, ওজন বৃদ্ধি, রক্তস্বল্পতা এবং হট ফ্ল্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
যদিও বয়সের সঙ্গে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া স্বাভাবিক, কিছু শারীরিক অবস্থা বা জীবনযাত্রার কারণ এই হ্রাসকে আরও দ্রুত করে দিতে পারে। এর মধ্যে বিভিন্ন ঝুঁকির কারণও রয়েছে।
কম টেস্টোস্টেরনের লক্ষণ
কেন টেস্টোস্টেরন কমে যায়
শুধু বয়স নয়, আরও কিছু কারণে দ্রুত কমতে পারে।
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়
ডাক্তাররা সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা করেন বা উপসর্গ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। এ ছাড়া একাধিক রক্ত পরীক্ষা করেন (কারণ এ সময় হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করে)। প্রয়োজনে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা বা অন্য পরীক্ষাও করা হতে পারে।
সবার কি চিকিৎসা দরকার?
না। শুধু টেস্টোস্টেরন কম থাকলেই চিকিৎসা দরকার হয় না। যদি উল্লেখযোগ্য উপসর্গ না থাকে, তাহলে সাধারণত থেরাপি দেওয়া হয় না।
অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে মূল কারণ ঠিক করার চেষ্টা করা হয়, যেমন- ওজন কমানো, জীবনযাত্রা ঠিক করা বা বিভিন্ন ওষুধের পরিবর্তন।
কখন টেস্টোস্টেরন থেরাপি দেওয়া হয়?
যখন রক্তে টেস্টোস্টেরন কম বা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেয়, তখন টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (TRT) বিবেচনা করা হয়।
যাদের ক্ষেত্রে এই থেরাপি ঝুঁকিপূর্ণ
সাধারণত এই থেরাপি দেওয়া হয় না যদি রোগীর প্রোস্টেট বা স্তন ক্যানসার, প্রোস্টেট সমস্যার ঝুঁকি বেশি, বেশি রেড ব্লাড সেল, গুরুতর স্লিপ অ্যাপনিয়া, সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক অথবা রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা থাকে।
টেস্টোস্টেরন নেওয়ার পদ্ধতি
স্কিন প্যাচ : প্রতিদিন ত্বকে লাগানো হয়
জেল : বাহু বা কাঁধে লাগানো হয়
ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট : মুখে খাওয়া বা গামের সাথে লাগানো
পেলেট : ত্বকের নিচে বসানো হয় (৩–৬ মাস কাজ করে)
ইনজেকশন : ১ থেকে ২ সপ্তাহ পরপর নেওয়া হয়
এসব পদ্ধতি কত দিনে কাজ করে?
সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহে শক্তি ও মুডে উন্নতি দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি পেশি বাড়তে ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে।
তবে খেয়াল রাখবেন, টেস্টোস্টেরন থেরাপি সব সমস্যার দ্রুত সমাধান নয়। এটি নেওয়ার আগে ঝুঁকি ও উপকার দুটোই ভালোভাবে বুঝে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র : হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং




