অনেক পুরুষই মনে করেন, বন্ধ্যত্বের সমস্যা হলে সেটি মূলত নারীদের দিক থেকেই আসে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের দিকেও সমস্যা থাকতে পারে, এবং তার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে।
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ সাধারণত মুড, যৌন ইচ্ছা বা পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে—এটা অনেকেই জানেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ যে প্রজনন ক্ষমতা বা শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। যদিও শুধু স্ট্রেসই বন্ধ্যত্বের একমাত্র কারণ নয়, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্ট্রেস হলে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন তৈরি হয়। স্বল্পমেয়াদে এটি শরীরকে সতর্ক থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই চাপ থাকলে শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এর ফলে ঘুমের সমস্যা, শারীরিক শক্তি কমে যাওয়া, মুড পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি এবং যৌন আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শুক্রাণু তৈরি হতে সাধারণত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। তাই দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। নিয়মিত চাপ, ঘুমের অভাব এবং ক্লান্তি ধীরে ধীরে শুক্রাণুর মান কমিয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি স্ট্রেস থাকলে শুক্রাণুর সংখ্যা কমতে পারে এবং গঠনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়লে তা সরাসরি শুক্রাণুর ক্ষতি করতে পারে।
যারা দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকেন, তাদের জীবনযাত্রায়ও কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন—ঘুম কম হওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া এবং ধূমপান, অ্যালকোহল বা অন্যান্য পদার্থের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়া।
এসব বিষয় একসঙ্গে মিলে প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেকেই ভাবেন, যৌন সক্ষমতা ঠিক থাকলে সব ঠিক আছে। কিন্তু এটি সবসময় সত্য নয়। একজন পুরুষের যৌন সক্ষমতা ঠিক থাকলেও প্রজনন ক্ষমতা ও শুক্রাণুর সমস্যা থাকতে পারে।
সাধারণত এক বছর চেষ্টা করার পর সন্তান না হলে (নারীর বয়স ৩৫-এর কম হলে) বা ছয় মাসে না হলে (৩৫-এর বেশি হলে) চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে ঝুঁকি মনে হলে আগেই পরীক্ষা করানো ভালো।
শুক্রাণু বিশ্লেষণ বা সিমেন অ্যানালাইসিস একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যা শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি ও গঠন সম্পর্কে ধারণা দেয়।
সবসময় স্ট্রেস পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কখনই সম্ভব নয়। তবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।
এসব বিষয় হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পুরুষের প্রজননক্ষমতা শুধু একটি শারীরিক অঙ্গের বিষয় নয়, এটি পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের স্ট্রেস যদি শরীরকে দুর্বল করে, তাহলে তার প্রভাব প্রজননক্ষমতার ওপরও পড়তে পারে।
তাই বিষয়টি উপেক্ষা না করে, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : সিএনএন




