অনেকের কাছে পেটে ভর দিয়ে উপুর হয়ে ঘুমানো বেশ আরামদায়ক মনে হয়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি সবচেয়ে কম সুপারিশ করা ঘুমানোর ভঙ্গি। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, এমনটাই জানিয়েছেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. হর্ষবর্ধন রাও বি।
মেরুদণ্ডে চাপ পড়ে: এই ভঙ্গিতে ঘুমালে শরীরের মাঝখান (পেটের অংশ) ম্যাট্রেসে বেশি ডুবে যায়, ফলে কোমরের নিচের অংশ অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যায়। একই সঙ্গে ঘাড় একদিকে ঘুরে থাকে দীর্ঘ সময়। এতে সকালে শরীর শক্ত হয়ে থাকা, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা, ঘুমের মান খারাপ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘাড় ও কোমরের ব্যথা বাড়ে: দীর্ঘদিন এই ভঙ্গিতে ঘুমালে ঘাড় ও কোমরের ব্যথা ধীরে ধীরে স্থায়ী হতে পারে। অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারে না যে এর পেছনে ঘুমের ভঙ্গির ভূমিকা আছে।
হাত-পায়ে ঝিনঝিনি ভাব: ঘাড়ের সঠিক অবস্থান না থাকলে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। এর ফলে হাতে বা বাহুতে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব (pins and needles) অনুভূত হতে পারে।
ত্বকের ক্ষতি: প্রতিদিন মুখ বালিশে চেপে থাকার কারণে ত্বকে চাপ পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে বলিরেখা বা আগেভাগে বয়সের ছাপ ফেলতে পারে।
গর্ভবতী নারীরা ও যাদের আগে থেকেই কোমর বা পিঠের ব্যথা আছে
হঠাৎ করে ভঙ্গি বদলানো কঠিন হলে কিছু ছোট পরিবর্তন করা যেতে পারে। যেমন— মাথার নিচে খুব পাতলা বালিশ ব্যবহার করুন বা না-ও ব্যবহার করতে পারেন। কোমর বা পেটের নিচে ছোট বালিশ দিন বা মেরুদণ্ডকে ভালোভাবে সাপোর্ট দিতে শক্ত ম্যাট্রেস ব্যবহার করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিৎ হয়ে ঘুমানো (পিঠের ওপর) মেরুদণ্ডের জন্য সবচেয়ে ভালো। আর কাত হয়ে ঘুমানো, বিশেষ করে বাম পাশে, শ্বাসপ্রশ্বাস ভালো করে, নাক ডাকা কমায় এবং অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।
খেয়াল রাখবেন, পেটে ভর দিয়ে উপুড় হয়ে ঘুমানো অল্প সময়ের জন্য আরামদায়ক লাগলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের জন্য ভালো নয়। ধীরে ধীরে অভ্যাস পরিবর্তন করে স্বাস্থ্যকর ভঙ্গিতে ঘুমানোই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস




