পুরুষদের শরীরে শক্তি, কর্মক্ষমতা ও যৌন স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, যা অনেক সময় নানা শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এই স্বাভাবিক পরিবর্তনকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যান্ড্রোপজ বলা হয়।
টেস্টোস্টেরন হরমোন সাধারণত হঠাৎ কমে যায় না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে কমতে থাকে। গড়ে ৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ করে এই হরমোন কমতে পারে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করে।
যৌনস্বাস্থ্যে পরিবর্তন : যৌন চাহিদা কমে যাওয়া, যৌন দুর্বলতা বা কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার অন্যতম লক্ষণ। কিছু ক্ষেত্রে অণ্ডকোষের আকারও ছোট হয়ে যেতে পারে।
মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন : অনেকেই কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আত্মবিশ্বাস কমে যায়, মনোযোগে সমস্যা হয় এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিষণ্ণতা বা খিটখিটে মেজাজও দেখা দেয়।
শক্তি ও উদ্যম কমে যাওয়া : আগের মতো উদ্যম বা কাজ করার ইচ্ছা থাকে না। শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজেও অনীহা তৈরি হয়।
শারীরিক পরিবর্তন : পেশির শক্তি কমে যাওয়া, শরীরে মেদ জমা এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
সব ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলোর কারণ শুধু টেস্টোস্টেরন নয়। থাইরয়েড সমস্যা, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত মদ্যপান বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা যেতে পারে। তাই নিশ্চিত হতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অ্যান্ড্রোপজ কোনো রোগ নয়, এটি জীবনের একটি স্বাভাবিক ধাপ। বয়সের সঙ্গে শরীরে পরিবর্তন আসবে, সেটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে উপসর্গ বেশি হলে অবহেলা না করে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে টেস্টোস্টেরন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা নেওয়া হয়। তবে এটি সবার জন্য প্রয়োজন হয় না এবং এর উপকারিতা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া মানেই জীবনের গতি থেমে যাওয়া নয়। সচেতন জীবনযাপন ও সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই পরিবর্তনের মধ্যেও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব।
সূত্র : শিক্ষক বাতায়ন




