কফি অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। সকালে ঘুম ভাঙানো থেকে শুরু করে কাজের ফাঁকে ক্লান্তি কাটানো - সব জায়গাতেই কফির ব্যবহার দেখা যায়। তবে এর মধ্যে থাকা ক্যাফেইন শরীরে প্রভাব ফেলে, আর হঠাৎ করে কফি ছেড়ে দিলে শরীরেও কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
সামাজিকমাধ্যমে প্রায়ই ৩০ দিনে কফি ছাড়ার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে নানা দাবি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এসব নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক পরিবর্তন সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। বাস্তব পরিবর্তন ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
কফি এখন এমন একটি উপাদান, যা শুধু খাবারের স্বাদেই নয়, স্বাস্থ্য আলোচনাতেও ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে রন্ধনশিল্পীরা কফি দিয়ে নানা ধরনের পানীয় ও ডেজার্ট তৈরি করছেন, অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গবেষকরা এর প্রভাব নিয়ে নিয়মিত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কফি মস্তিষ্ক, লিভার ও হৃদযন্ত্রে কীভাবে প্রভাব ফেলে, হঠাৎ করে কফি ছেড়ে দিলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়, প্রতিদিন কতটুকু কফি পান করা নিরাপদ, খালি পেটে কফি খাওয়া উচিত কি না - এসব নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এর পাশাপাশি দুধসহ বা দুধ ছাড়া কফি পান করা ভালো কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে বহু গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, তবে সামাজিকমাধ্যমে সঠিক তথ্যের পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়ে পড়ছে।
চিকিৎসকদের মতে, কফি বন্ধ করার ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিবর্তনের উপসর্গ শুরু হতে পারে। এই সময় সাধারণত মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া ও খিটখিটে মেজাজ হওয়ার সমস্যা দেখা যায়।
আর এ মাথাব্যথার মূল কারণ হলো মস্তিষ্কে রক্তনালির প্রসারণ এবং অ্যাডেনোসিন নামের রাসায়নিকের কার্যকারিতা বেড়ে যাওয়া।
২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আগের সমস্যাগুলোর সঙ্গে বমিভাব, শরীর ব্যথা আর সর্দি-জ্বরের মতো অনুভূতি দেখা দিতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এগুলো ক্যাফেইন ছাড়ার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
এরপর ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে উপসর্গ কমতে শুরু করে। মেজাজের খিটখিটে ভাব ও কফির প্রতি আগ্রহ এ সময়েও থাকতে পারে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে এ সময়। কারণ এই সময় শরীর থেকে ক্যাফেইন প্রায় পুরোপুরি বের হয়ে যায়।

৭ থেকে ১০ দিনের পর এই সময় বেশিরভাগ মানুষের এসব উপসর্গ অনেকটাই কমে যায়। এ পর্যায়ে মেজাজ কিছুটা স্থিতিশীল হয় ও শরীরের শক্তির মাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই রকম সময় লাগে না এটি খেয়াল রাখা জরুরি।
১০ দিনের পর থেকে ৩০ দিনের মাঝে পরিবর্তনগুলো চোখে পরার মতো। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মস্তিষ্ক পুরোপুরি নতুনভাবে মানিয়ে নেয় বা হঠাৎ করেই স্মৃতিশক্তি বাড়ে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের নির্দিষ্ট সময়সীমার দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে খুব শক্তভাবে প্রমাণিত নয়।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শক্তি বা ঘুমের উন্নতি দেখা যেতে পারে, তবে এটি নির্ভর করে যার যার খাদ্যাভ্যাস, ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাফেইন ছাড়ার উপসর্গ সাধারণত ২ থেকে ৯ দিনের মধ্যে চলে যায় আর বেশিরভাগ মানুষ এক সপ্তাহের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রচলিত নির্দিষ্ট দিনভিত্তিক পরিবর্তনের ধারণা সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়।
কফি ছেড়ে দিলে শরীরে কিছু পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক, বিশেষ করে প্রথম কয়েক দিনে। তবে ৩০ দিনের একটি নির্দিষ্ট টাইমলাইন সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শরীরের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র : এনডিটিভি




