ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE
বৈষম্যবিরোধী সমন্বয়কদের দুগ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪
বৈষম্যবিরোধী সমন্বয়কদের দুগ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের দুই গ্রুপের কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে উপজেলার শহীদ মিনার চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের চারজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন একপক্ষের সাজেদুল ইসলাম সবুজ ও রঞ্জ মিয়া।  অন্যপক্ষ মেহেদী হাসান রনি ও মো. রাফি। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার (২৩ মে) রৌমারী থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠনো হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত। তবে এ ব্যাপারে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে প্রকল্পের
ফুলবাড়ীতে চাহিদার চেয়ে ৩ হাজারের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত 
ফুলবাড়ীতে চাহিদার চেয়ে ৩ হাজারের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত 
শ্যাম্পু ছাড়া গোসল করে না ১৫ মণের সুলতান
শ্যাম্পু ছাড়া গোসল করে না ১৫ মণের সুলতান
প্রশিক্ষণার্থী নারীকে অপদস্থের পর ক্ষমা চাইলেন সেই কৃষি কর্মকর্তা
প্রশিক্ষণার্থী নারীকে অপদস্থের পর ক্ষমা চাইলেন সেই কৃষি কর্মকর্তা
বই চুরির মামলায় অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার গ্রেপ্তার
বই চুরির মামলায় অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার গ্রেপ্তার
বন্যা না আসতেই ধসে গেল নদী রক্ষা বাঁধ
বন্যা না আসতেই ধসে গেল নদী রক্ষা বাঁধ
হারানো ২০০ মোবাইল উদ্ধার, মালিককে বুঝিয়ে দিল পুলিশ
হারানো ২০০ মোবাইল উদ্ধার, মালিককে বুঝিয়ে দিল পুলিশ
ভিডব্লিউবি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।   বুধবার (২১ মে) দুপুরে সরেজমিনে শালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, উপকারভোগীদের কাছ থেকে তিন মাসের চাল উত্তোলনের কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও বাস্তবে দুই মাসের চাল বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মাসসহ মোট পাঁচ মাসের চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। আজ তিন মাসের কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে দুই মাসের চাল দেওয়া হচ্ছে। চাল নিতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি কার্ডধারীর কাছ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্সের বাবদ ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে চালের টোকেন দেওয়া হচ্ছে না। মাহবুব আলম নামে এক ব্যক্তি গিয়েছিলেন তার সহধর্মিণী ফিরোজ বেগমকে নিয়ে চাল উত্তোলন করতে। তিনি কালবেলাকে জানান, আমার স্ত্রীর কাছে ৩টা কাগজে স্বাক্ষর নিছে। কিন্তু চাল দিয়েছে দুই বস্তা। সবাই স্বাক্ষর করছিল, এজন্য সেও স্বাক্ষর করেছে। আরেক বস্তা দেওয়া হবে কি না সেটা বলে নাই।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহবধূ বলেন, আমি জানতাম না যে চাল নিতে টাকা লাগবে। একশ টাকা কম ছিল বলে আমাকে চাল দিচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে এক চৌকিদারের কাছ থেকে টাকা ধার করে চাল নিতে হয়েছে। আমিনুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, আজকে দুই বস্তা চাল দিছে কিন্তু স্বাক্ষর নিছে তিন বস্তার। দুইশ করে টাকা নিছে। চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ সংস্কারের জন্য টাকা নিচ্ছে। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসহায় নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিডব্লিউবি কার্ডের ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসের চাল বিতরণের জন্য খাদ্য অফিসকে চিঠি করে দেওয়া হয়েছে। এই মাসের মধ্যে পাঁচ মাসের চাল বিতরণ করা হবে। শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ২৫৫ জন কার্ডধারীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি হিসেবে পাঁচ মাসের মোট ৩৮ টন ২৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পঞ্চগড় জেলার উপ-পরিচালক একেএম ওয়াহেদুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, পাঁচ মাসের চাল এই মাসে দেওয়া হবে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি দুই বস্তা করে হিসেবে চাল বিতরণ করেছেন। তিন মাসের স্বাক্ষর নিয়ে দুই মাসের চাল দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে উচ্চস্বরে কথা বলা শুরু করেন এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নিতে বলেন। এদিকে দেবীগঞ্জ সরকারি খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার কালবেলাকে বলেন, আমাদের এখন ধান, চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। এর পাশাপাশি ভিডব্লিউবি চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শালডাঙ্গা ইউনিয়ন ১৯ টন চাল উত্তোলন করেছে। এদিকে ৩৮ টন ২৫০ কেজি বরাদ্দের মধ্যে ১৯ টন বা ৬৩৩ বস্তা চাল উত্তোলন করা হয়েছে। জনপ্রতি দুই বস্তা করে মোট ৫১০ বস্তা চাল বিতরণ করা হলেও এখনো বাকি রয়েছে ১২৩ বস্তা চাল। স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে তিন বস্তা চালের। এ বিষয়ে শালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, মাস্টার রোলের কাগজে এবং বইয়ে দুই বস্তার স্বাক্ষর আছে। চাল উত্তোলন করা হয়েছে ৬৫০ বস্তা। তিন বস্তা করে তো দেওয়া সম্ভব না। শুরুর দিকে ইউপি সদস্যরা তিনটা করে স্বাক্ষর নিয়েছিল, এটা শোনার পর আমি গিয়ে দুইটা করে স্বাক্ষর নিতে বলি। কেউ যদি তিনটা করে স্বাক্ষর দিয়ে থাকে তাহলে ভুল করে করেছে। চাল বিতরণের সময় টাকা নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স তোলার অধিকার বা ক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদের রয়েছে। যেহেতু তারা একসঙ্গে চাল তুলতে এসেছে, তাই তাদের কাছ থেকে রশিদ দিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।
পঞ্চগড়ে সীমান্ত দিয়ে ২১ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় জয়ধরভাঙ্গা বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২১ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এর মধ্যে ছয়জন নারী, দুজন পুরুষ ও ১৩ জন শিশু রয়েছে।  বুধবার (২১ মে) রাত ৪টার দিকে নীলফামারী ৫৬-বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৭ এর ১০ নম্বর সাব পিলার এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করা হয়।  পরে জয়ধরভাঙ্গা বিওপির টহল দল তাদের আটক করে। তারা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। তবে আটককৃতদের নাম ঠিকানা বিস্তারিত জানা যায়নি। আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে অবস্থান করে কাজ করছিল। গত ২১ মে ভারতীয় পুলিশ তাদের গুজরাট এলাকা থেকে আটক করে বিমানযোগে কলকাতা নিয়ে যায়। পরে কলকাতা থেকে বাসযোগে ২২ মে রাত ২টায় নিয়ে এসে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর বিএসএফের ৯৩ ব্যাটালিয়নের টিয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের নিকট হস্তান্তর করে। পরে টিয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প তাদের টিয়াপাড়া বড়বাড়ি সীমান্ত গেট দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে। নীলফামারী ৫৬-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন, জয়ধর ভাঙ্গা ক্যাম্পের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী শিশুসহ ২১ জনকে অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশের পাঠিয়েছে বিএসএফ। পরে আমাদের টহল দল সীমান্তে তাদের আনাগোনা দেখে আটক করে। ইতোমধ্যে আমাদের ব্যাটালিয়ন কোম্পানি ও ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বিএসএফের কাছে জানতে চেয়েছি তারা কেন অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশে তাদেরকে ফেরত পাঠালো। বিজিবিকে জানিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আমরা বিজিবির পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা দায়ের করব। তবে যারা শিশু রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে নয়। সীমান্তে বিজিবি সর্বদা সচেতন আছে। যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিজিবির টহল দল ২৪ ঘণ্টা সীমান্তে কড়া টহলদারি করছেন।
পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে পুশইন
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এর মধ্যে ৯ জন নারী ও সাত শিশু ও দুজন পুরুষ রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। বুধবার (২১ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রহমতপুর ধবলসতী গাটিয়ারভিটা সীমান্তের প্রধান পিলার ৮২৫ নম্বরের ১ নম্বর এবং শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সীমান্তে বাজার এলাকায় দিয়ে তাদেরকে ভারতীয় গেট দিয়ে পাঠানো হয় বাংলাদেশে।  বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিজিবির ধবলসুতী ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আব্দুল মতিন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাটিয়ারভিটা ও শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইন হয়ে দেশে ঢোকার পর তারা হেঁটে পাটগ্রামের দিকে যেতে শুরু করেন। তবে স্থানীয় নতুন বাজার ঐ সীমান্তে বাজার পৌঁছালে বাজারের লোকজনের সন্দেহ হলে তাদের আটকে পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে ভারত থেকে পাঠানো হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেন। পরে বিজিবিকে খবর দেন স্থানীয়রা। বিজিবি তাদের নিয়ে যায়। ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ধবলসুতী ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আব্দুল মতিন বলেন, তাদেরকে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুই সীমান্ত থেকে মোট ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক তবে দীর্ঘদিন থেকে ভারতে বসবাস করতেন। বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে সুন্দর করা হবে।
মেয়াদ শেষেও কাজ হয়নি অর্ধেক
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে খড়খড়ি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পার হলেও অর্ধেকও সম্পন্ন হয়নি। সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি ঘিরে প্রতিদিন চলাচল করেন আশপাশের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই কাজ শেষ না হলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা খড়খড়ি নদী পার হয়ে সোনাহার ইউনিয়নের ৪, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বাদশা বাজার ও ভবানীগঞ্জ এলাকার প্রায় দশ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল ও উপজেলা সদরে যাওয়ার এটি একমাত্র সহজ যোগাযোগের পথ। এ ছাড়া শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে নদীটি হেঁটে পার হওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। দেবীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ‘IRIDP-3’ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকায় খড়খড়ি নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৪ টাকা। নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড। ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি পিলার নির্মাণ কাজও। বুধবার (২১ মে) সরেজমিনে সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকায় সেতু নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে দেখা যায়, নির্ধারিত চারটি পিলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনটি পিলারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি একটির কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণেও কোনো অগ্রগতি নেই। নদীর দুই পাশেই নির্মাণসামগ্রী এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও রডে মরিচা ধরে গেছে। পিলারের ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত পাথরের সঙ্গে মাটির মিশ্রণ স্পষ্ট যা নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। এ ছাড়া কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয়রা জানান, আগে এই নদীর ওপর বাঁশের তৈরি একটি সাঁকো থাকলেও সেতুর নির্মাণ শুরুর আগে সেটি ভেঙে ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে বর্তমানে এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন ধীরগতিতে কাজ চলতে থাকলে আগামী বর্ষার আগেই সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়া অনিশ্চিত, আর তা হলে ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, ২০২৩ সালে সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ এখনো পিলার নির্মাণের কাজই শেষ হয়নি। এখানে একটা বাঁশের সাঁকো ছিল, সেটিও কাজের সুবিধার্থে ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেভাবে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে অল্প কিছুদিনের মধ্যে নদীতে পানি চলে আসবে। তখন এই এলাকার মানুষ কীভাবে যাতায়াত করবে? ভ্যানচালক আব্দুল হাকিম বলেন, এক বছর ধরে ব্রিজের কাজ চলছে। কখনো কাজ করে, আবার থেমে যায়। যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হয়। নদী পার হতে আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। কলেজ শিক্ষার্থী মো. মামুন ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো ব্রিজ ছিল না। বাঁশের সাঁকো দিয়ে কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যেতে হতো। দেড় বছর আগে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও এখনো তা শেষ হয়নি। মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু কবে কাজ শেষ হবে তার কোনো খবর নেই। কাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও কেন এখনো ব্রিজের অর্ধেক কাজও সমাপ্ত হয়নি- এমন প্রশ্নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি আরিফ ইসলাম বলেন, আমি এখানে ১৫ দিন আগে এসেছি। এর আগে এখানে কী হয়েছে সে সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আপনাদের অভিযোগগুলো আমি শুনেছি সেগুলো আমি ঠিকাদারকে জানাব। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক আল আমিন খন্দকার বলেন, সেতু নির্মাণের শুরু থেকেই অনিয়ম চলছে। ঢালাইয়ের কাজে দিনাজপুরের ব্ল্যাক স্টোন ব্যবহারের কথা থাকলেও মাটিযুক্ত নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারকে জানালে তিনি উল্টো মামলার হুমকি দেন। এই এলাকায় কাজ না করার কথা বলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, সময় বাড়ানো হয়েছে। আকস্মিক বৃষ্টিপাতের কারণে টেম্পোরারি সেতুটি নষ্ট হয়ে গেছে। এটি পুনরায় নির্মাণ করে সচল করা হবে।
টিসিবির পণ্য বাড়িতে নেওয়ার চেষ্টা, আটকে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিতরণ শেষে অবশিষ্ট মালামাল রাতে গোপনে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দারা তা আটকে দেন। বুধবার (২১ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভানোর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে।  স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ভ্যানগাড়ি থামিয়ে দেয় এবং ডিলারের সহকারী রাজুকে আটক করেন। পরে টিসিবির পণ্যসহ রাজুকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত তাকে আটকে রাখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা নবাব জানান, রাতে ১৫টি প্যাকেজ নিয়ে ভ্যানে করে রাজু বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে আমি দৌড়ে গিয়ে ভ্যানটি থামাই। পরে বাজারে থাকা আরও কয়েকজন লোক এসে সহযোগিতা করে। পণ্যগুলো আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলেই আমাদের ধারণা। ঘটনার সময় আটক হওয়া রাজু জানান, সাবডিলার একরামুল হকের নির্দেশে আমি পণ্যগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলাম। এসব পণ্য পরবর্তী মাসে সমন্বয়ের জন্য রাখা হচ্ছিল। ভানোর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, বিতরণ শেষে অবশিষ্ট ১৫টি প্যাকেজ কাউকে না জানিয়ে রাতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ডিলারের সহকারী। স্থানীয়রা আটকে দিয়েছে। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছি। তিনিও ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবির ডিলার মেসার্স মাহিম এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল আওয়াল বলেন, পাঁচ দিন ধরে পণ্য বিতরণ চলছে। দায়িত্বে থাকা সাবডিলার একরামুলের বাবা অসুস্থ, তাই তিনি নিজে আসতে পারেননি। ঘটনা জানার পর আমি একরামুল ও ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করেছি। তবে উপজেলা প্রশাসন বা ইউপি চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে কেন রাতে পণ্য সরানো হচ্ছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সাবডিলার একরামুল হক। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার দেবনাথ বলেন, উদ্ধার হওয়া মালপত্র ইউপি চেয়ারম্যানের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিলার জানান, ভানোর ইউনিয়নে টিসিবির স্মার্ট কার্ডধারী সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৭৫৫ জন। এর মধ্যে ৭৪০ জনকে পণ্য বিতরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে এক বছর আগেও গভীর রাতে টিসিবির পণ্য আত্মসাতের চেষ্টার সময় একরামুল হককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং অনেকেই পুনরায় স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটের উৎপাদন শুরু
দুই দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়েছে।  বুধবার (২১ মে) রাত ৯টার দিকে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক।  গত ১৯ মে রাত ১টার দিকে বয়লারের টিউব লিক হলে ১২৫ মেগাওয়াটের ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় ১২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম। দুই দিন বন্ধ থাকার পর মেরামত শেষে বুধবার বিকেলে বয়লারে ফায়ারিং উৎপাদনে যায়।  কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াটের ১ নম্বর ইউনিটটি থেকে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। ১ নম্বর ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন পড়বে। বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট। ১ নম্বর ও ২ নম্বর ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াটের দুটি এবং তিন নম্বর ইউনিট ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। ২০২০ সালে নভেম্বর থেকে ২ নম্বর ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এখনো বন্ধ রয়েছে।   প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক কালবেলাকে বলেন, মেরামত শেষে বুধবার বিকেল ৫টা ইউনিটটির বয়লারে ফায়ারিং করা হয়। রাত ৯টা থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটির বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।   
বিদ্যুৎস্পর্শে পুত্রবধূ-শ্বশুরের মৃত্যু, শাশুড়ি হাসপাতালে
নীলফামারীতে বিদ্যুৎস্পর্শে ঘটনাস্থলেই পুত্রবধূ ও শ্বশুরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শাশুড়ি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  বুধবার (২১ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা সদরের চাপড়াসরমজানি ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইটাপির ফকিরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেন নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক এম আর সাঈদ।   নিহতরা হলে ওই গ্রামের সোলাইমান বাবু (৭০) ও তার পুত্রবধূ সাবানা বেগম (৩৫)। সোলাইমানের স্ত্রী ওয়াতুননেসা (৬০) গুরুতর আহত অবস্থায় নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে চাপড়াসরমজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম শাহ্ ফকির কালবেলাকে জানান, সম্প্রতি ঝড়বৃষ্টিতে সোলাইমান বাবুর বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বুধবার সকাল থেকে স্ত্রী ওয়াতুননেসা ও পুত্রবধূ সাবানাকে সঙ্গে নিয়ে বসতবাড়ি মেরামতের কাজ করছিলেন সোলাইমান। এসময় বসতঘরে বাঁশের খুঁটি লাগাতে গিয়ে ওই খুঁটির আঘাতে বৈদ্যুতিক তার টিনের বেড়ার উপড়ে ছিঁড়ে পড়ায় সোলাইমান বিদ্যুৎস্পর্শে কাঁপতে থাকেন। তিনি আরও বলেন, এসময় পুত্রবধূ সাবানা বেগম সোলাইমানকে স্পর্শ করলে তিনিও বিদ্যুতায়িত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। স্বামী ও পুত্রবধূকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে ওয়াতুননেসা চিৎকার দিয়ে তাদের স্পর্শ করা মাত্র তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। ঘটনাস্থলেই মারা যান সোলাইমান বাবু ও তার পুত্রবধূ সাবানা বেগম। গুরুতর আহত অবস্থায় ওয়াতুননেসা নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও