ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

মেয়াদ শেষেও কাজ হয়নি অর্ধেক

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

  ২২ মে ২০২৫, ১০:০৩
সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ভোগান্তিতে গ্রামবাসী। ছবি : কালবেলা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে খড়খড়ি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পার হলেও অর্ধেকও সম্পন্ন হয়নি। সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি ঘিরে প্রতিদিন চলাচল করেন আশপাশের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই কাজ শেষ না হলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা খড়খড়ি নদী পার হয়ে সোনাহার ইউনিয়নের ৪, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বাদশা বাজার ও ভবানীগঞ্জ এলাকার প্রায় দশ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল ও উপজেলা সদরে যাওয়ার এটি একমাত্র সহজ যোগাযোগের পথ। এ ছাড়া শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে নদীটি হেঁটে পার হওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ‘IRIDP-3’ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকায় খড়খড়ি নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৪ টাকা। নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড।

২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি পিলার নির্মাণ কাজও।

বুধবার (২১ মে) সরেজমিনে সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকায় সেতু নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে দেখা যায়, নির্ধারিত চারটি পিলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনটি পিলারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি একটির কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণেও কোনো অগ্রগতি নেই। নদীর দুই পাশেই নির্মাণসামগ্রী এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও রডে মরিচা ধরে গেছে। পিলারের ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত পাথরের সঙ্গে মাটির মিশ্রণ স্পষ্ট যা নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। এ ছাড়া কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে এই নদীর ওপর বাঁশের তৈরি একটি সাঁকো থাকলেও সেতুর নির্মাণ শুরুর আগে সেটি ভেঙে ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে বর্তমানে এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন ধীরগতিতে কাজ চলতে থাকলে আগামী বর্ষার আগেই সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়া অনিশ্চিত, আর তা হলে ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, ২০২৩ সালে সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ এখনো পিলার নির্মাণের কাজই শেষ হয়নি। এখানে একটা বাঁশের সাঁকো ছিল, সেটিও কাজের সুবিধার্থে ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেভাবে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে অল্প কিছুদিনের মধ্যে নদীতে পানি চলে আসবে। তখন এই এলাকার মানুষ কীভাবে যাতায়াত করবে?

ভ্যানচালক আব্দুল হাকিম বলেন, এক বছর ধরে ব্রিজের কাজ চলছে। কখনো কাজ করে, আবার থেমে যায়। যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হয়। নদী পার হতে আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

কলেজ শিক্ষার্থী মো. মামুন ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো ব্রিজ ছিল না। বাঁশের সাঁকো দিয়ে কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যেতে হতো। দেড় বছর আগে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও এখনো তা শেষ হয়নি। মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু কবে কাজ শেষ হবে তার কোনো খবর নেই।

কাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও কেন এখনো ব্রিজের অর্ধেক কাজও সমাপ্ত হয়নি- এমন প্রশ্নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি আরিফ ইসলাম বলেন, আমি এখানে ১৫ দিন আগে এসেছি। এর আগে এখানে কী হয়েছে সে সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আপনাদের অভিযোগগুলো আমি শুনেছি সেগুলো আমি ঠিকাদারকে জানাব।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক আল আমিন খন্দকার বলেন, সেতু নির্মাণের শুরু থেকেই অনিয়ম চলছে। ঢালাইয়ের কাজে দিনাজপুরের ব্ল্যাক স্টোন ব্যবহারের কথা থাকলেও মাটিযুক্ত নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারকে জানালে তিনি উল্টো মামলার হুমকি দেন। এই এলাকায় কাজ না করার কথা বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, সময় বাড়ানো হয়েছে। আকস্মিক বৃষ্টিপাতের কারণে টেম্পোরারি সেতুটি নষ্ট হয়ে গেছে। এটি পুনরায় নির্মাণ করে সচল করা হবে।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় নেই ডাম্পিং স্টেশন
১৯৯৯ সালে তৃতীয় শ্রেণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌরসভা। একপর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণি ও সর্বশেষ ২০১৯ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে উন্নীত হয়। তবে নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। প্রায় ১০.৭৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় ৫০ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস। এ পৌরসভায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ টন বর্জ্য তৈরি হয়। অথচ এই বর্জ্য অপসারণে নেই আধুনিক কোনো ব্যবস্থা।  স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের প্রধান বাজারের পাশেই ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। এতে দুর্গন্ধ পৌরবাসীর এখন নিত্যসঙ্গী। এতে করে পৌরবাসীর মধ্যে ছড়াচ্ছে রোগ-জীবাণু। পাশেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্গন্ধ সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে ও বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা পর্যাপ্ত আয় এবং জমির অভাবে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করতে পারছেন না।  ফার্নিচার ব্যবসায়ী আক্কাস রানা ও হাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংলগ্নে ময়লার দুর্গন্ধে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতা আগের মতো আর আসে না।  অক্সফোর্ড একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত আল করিম বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে নিয়ে স্কুলে আসতে হচ্ছে ও বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই আমাদের শরীর খারাপ হচ্ছে।  চাইলেনীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা রোজী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ময়লা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। এই দুর্গন্ধের ফলে অনেক শিক্ষার্থী নানা ধরনের অসুস্থতার কথা জানাচ্ছে।   উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বর্জ্য-আবর্জনার দুর্গন্ধের কারণে ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটের পীড়াসহ সব ধরনের রোগ হতে পারে।   উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহাদুল ইসলাম জানান, ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে নাগরিক সেবার পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের ময়লা-আবর্জনাকে সম্পদে পরিণত করতে পারে। তাদের সংগৃহীত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব।  মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক নাদির শাহ নাদির বলেন, পর্যাপ্ত আয় ও জায়গা না থাকায় ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। একটি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করতে প্রায় এক একর জমির প্রয়োজন। আমাদের পৌরসভায় ছোট হওয়ায় সেরকম জায়গা মিলছে না। আগামী অর্থ বছরে ডাম্পিং স্টেশনের স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে।   
প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় নেই ডাম্পিং স্টেশন
ঈদে হাট কাঁপাতে আসছে ‘লালু সর্দার’ ও ‘কালিয়া’
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে দুটি ব্যতিক্রমী কোরবানির ষাঁড়—‘লালু সর্দার’ ও ‘কালিয়া’। বিশাল আকৃতি, স্বাস্থ্যবান গঠন এবং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালিত হওয়ায় ইতোমধ্যেই এই ষাঁড় দুটির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় হাটবাজার থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই দুটি ষাঁড় লালনপালন করছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে খামার ‘এম এইচ বি এম এগ্রো’, যার কর্ণধার মেহেদী হাসান বাবু মিয়াজী। তিনি জানান, কোনো প্রকার কৃত্রিম হরমোন বা ওষুধ ছাড়াই দেশীয় পদ্ধতিতে এবং প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে পশুগুলোর পরিচর্যা করা হয়েছে। গরুগুলোর প্রতি রয়েছে সন্তানের মতো ভালোবাসা। খামারে প্রতিটি গরুর দেখভাল করা হয় নিবিড়ভাবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সম্পূর্ণ মানবিক পদ্ধতিতে। লাল রঙের ‘লালু সর্দার’ ও কালো রঙের ‘কালিয়া’ দুটিই হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়। ‘লালু সর্দার’-এর ওজন প্রায় ১২ থেকে ১৩ মণ। গত কোরবানিতে হাটে উঠলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিক্রি করা হয়নি। এবার তার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ‘কালিয়া’-এর ওজন প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মণ। এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মালিক বাবু মিয়াজী জানান, আকাশছোঁয়া দাম চেয়ে লাভ নেই। আমি ফিক্সড দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি। মতলব উত্তর উপজেলার ভেতরে কেউ কিনলে বাড়ি পর্যন্ত ফ্রি ডেলিভারি দিচ্ছি। ‘লালু সর্দার’ ও ‘কালিয়া’ ছাড়াও বাবু মিয়াজীর খামারে রয়েছে আরও দুটি বিশাল গরু—‘সুন্দর আলী’ ও ‘কালো বীর’। প্রতিটি গরুই রয়েছে আকর্ষণীয় দৈহিক গড়ন ও স্বাস্থ্য। এসব গরুর ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। খামারি মিয়াজী জানান, আমার পূর্বপুরুষরাও গরু মোটাতাজাকরণে যুক্ত ছিলেন। আমি ২০০৭ সাল থেকে এই পেশায় আছি। এই ব্যবসায়ে লাভ যেমন হয়েছে, তেমনি কিছু বছর লোকসানও গুনতে হয়েছে। তবে এবারের ঈদে আমার খামারের গরুগুলো খুবই চমৎকার। আমি আশাবাদী, ন্যায্যমূল্যে এগুলো বিক্রি হবে। খামার পরিদর্শনে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল মুফতী বলেন, আমি প্রতিবার কোরবানির আগে বিভিন্ন খামার ঘুরি, কিন্তু এবারের ‘লালু সর্দার’ ও ‘কালিয়া’ দেখে সত্যি অবাক হয়েছি। এমন গঠন আর পরিচর্যা মতলবে খুব কমই দেখা যায়। দামটাও তুলনামূলকভাবে যথাযথ মনে হয়েছে। আরেক দর্শনার্থী গজরা ইউনিয়নের আমুয়াকান্দি গ্রাম থেকে আসা ইসমাইল খান টিটু জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেখে খামারে এসেছিলাম। গরুগুলো একেবারেই ভিন্ন রকম। সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে, কোন ধরনের হরমোন ছাড়া গরুগুলো বড় করা হয়েছে। চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ‘এম এইচ বি এম এগ্রো’ খামারের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ শুধু পশু পালনেই নয়, সচেতন ও মানবিক কোরবানির বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে। গরু যেন শুধুই ব্যবসার পণ্য নয়, বরং সঠিক পদ্ধতিতে পালন করে তা হতে পারে গর্বের প্রতীক।
ঈদে হাট কাঁপাতে আসছে ‘লালু সর্দার’ ও ‘কালিয়া’
ছুটির দিনে ঘুরতে গিয়ে খুন হলেন আব্দুল্লাহ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক পাড়ে ঘুরতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আব্দুল্লাহ (১৪) নামে এক কিশোর খুন হয়েছে।  শুক্রবার (২৩ মে) রাত ৮টার দিকে গোদনাইল ধণকুন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  নিহত আব্দুল্লাহ ধণকূন্ডা এলাকার আতাউর মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. শামীমের ছেলে।  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ তার বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপ দোকানে কাজ করত। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় সন্ধ্যার দিকে ডিএনডি লেক পাড় ঘুরতে আসে। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।  স্থানীয়দের অভিযোগ, লেকপাড় এলাকায় হৃদয় ও সাব্বিরসহ কয়েকজন যুবক লেকপাড় এলাকায় ঘুরতে আসা বিভিন্ন লোকজনকে ধরে অর্থ আদায় করে থাকে। এ জন্য তারা লেকপাড়ের পাশে একটি অফিস খুলে বসেছে। লোকজনকে ধরে নিয়ে অফিসের ভেতর আটক রেখে মারধর ও অর্থ আদায় করা তাদের কাজ। ধারণা করা হচ্ছে ওই গ্রুপটিই আব্দুল্লাহকে ধরে নিয়ে ছুরিকাঘাত করেছে।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহিনুর আলম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। সন্দেহজনক হৃদয় ও সাব্বির চক্রের সদস্যদের আটক করার চেষ্টা চলছে।
ছুটির দিনে ঘুরতে গিয়ে খুন হলেন আব্দুল্লাহ
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
কুমিল্লা নগরের একটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতনে তিনি মারা গেছেন। শুক্রবার (২৩ মে) নগরের ঢুলিপাড়ায় অবস্থিত নিউ যত্ন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও রোগীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে কেন্দ্রে  চিকিৎসাধীন রোগীরা ভাঙচুর চালায়। নিহত যুবক সোহেল বরুড়া উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা। একই ভবন থেকে ওই সময় এনামুল নামে আরও একজন রোগী লাফ দিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পায়নি। এদিকে নিহত সোহেলের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবারের দাবি, নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা নির্যাতনের মাধ্যমে সোহেলকে হত্যা করেছে। কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, তবে কাজ করার সুযোগ পাইনি। হত্যা মামলা হলে তদন্ত হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
চরে হঠাৎ জোয়ারের পানি, মৃত অবস্থায় ৩৪ গরু উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীবেষ্টিত ভাটি বলাকী গ্রামে ভয়াবহ এক ঘটনায় কচুরিপানার চাপে ৩৪টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। জোয়ারের তোড়ে খালে ভেসে আসা কচুরিপানার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে একের পর এক গরুর প্রাণহানিতে গোটা গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক পরিবার। শুক্রবার (২৩ মে) বিকেল ৪টার দিকে হোসেন্দী ইউনিয়নের মেঘনা চরাঞ্চলের ভাটি বলাকী গ্রামের খালে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে গ্রামের কৃষকরা তাদের গরুগুলো চরে ঘাস খাওয়ানোর জন্য খোলা মাঠে ছেড়ে দেন। তবে দুপুর গড়িয়ে গেলেও গরুগুলো বাড়ি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন গরুর মালিকেরা। একপর্যায়ে খালের পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানার বিশাল স্তূপের নিচে একের পর এক গরু মরে ভেসে উঠছে। খবর পেয়ে গ্রামবাসী ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। তখনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে ক্ষতির ভয়াবহতা।  স্থানীয় বাসিন্দা সুজন জানান, ঘটনাস্থলে এসে যে দৃশ্য দেখেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। একের পর এক গরুর মরদেহ ভেসে উঠছিল। যারা গরু হারিয়েছে, তাদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রয়েছেন গ্রামের এমার ২টা, মহাসিনের ৪টা, ইয়ানুরের ৩টা, মাসুমের ১টি, ওয়াহিদুজ্জামানের ১টা, রনির ১টা, নাহিদের ৩টা, হেলানির ১টা, হানিফার ২টা, মনার ২টা, শরীফের ৩টি, তরিকুলের ২টা, কবির খানের ৩টা, আবুল হোসেনের ৩টা, জামালের ১টা, শাহাজালালের ৩টা, রসুল গাজীর ১টা। সব মিলিয়ে প্রায় তিন ডজন গরুর প্রাণহানি ঘটেছে। গরু হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন গরুর মালিকরা।  স্থানীয়রা বলছেন, এ ঘটনায় পুরো গ্রাম শোকস্তব্ধ। গরুগুলো ছিল অধিকাংশ পরিবারের একমাত্র সম্বল। এখন এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছি। কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় একযোগে কাজ চলছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চরে হঠাৎ জোয়ারের পানি, মৃত অবস্থায় ৩৪ গরু উদ্ধার
প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় নেই ডাম্পিং স্টেশন
প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় নেই ডাম্পিং স্টেশন
১৯৯৯ সালে তৃতীয় শ্রেণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌরসভা। একপর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণি ও সর্বশেষ ২০১৯ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে উন্নীত হয়। তবে নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। প্রায় ১০.৭৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় ৫০ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস। এ পৌরসভায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ টন বর্জ্য তৈরি হয়। অথচ এই বর্জ্য অপসারণে নেই আধুনিক কোনো ব্যবস্থা।  স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের প্রধান বাজারের পাশেই ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। এতে দুর্গন্ধ পৌরবাসীর এখন নিত্যসঙ্গী। এতে করে পৌরবাসীর মধ্যে ছড়াচ্ছে রোগ-জীবাণু। পাশেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্গন্ধ সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে ও বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা পর্যাপ্ত আয় এবং জমির অভাবে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করতে পারছেন না।  ফার্নিচার ব্যবসায়ী আক্কাস রানা ও হাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংলগ্নে ময়লার দুর্গন্ধে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতা আগের মতো আর আসে না।  অক্সফোর্ড একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত আল করিম বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে নিয়ে স্কুলে আসতে হচ্ছে ও বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই আমাদের শরীর খারাপ হচ্ছে।  চাইলেনীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা রোজী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ময়লা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। এই দুর্গন্ধের ফলে অনেক শিক্ষার্থী নানা ধরনের অসুস্থতার কথা জানাচ্ছে।   উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বর্জ্য-আবর্জনার দুর্গন্ধের কারণে ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটের পীড়াসহ সব ধরনের রোগ হতে পারে।   উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহাদুল ইসলাম জানান, ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে নাগরিক সেবার পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের ময়লা-আবর্জনাকে সম্পদে পরিণত করতে পারে। তাদের সংগৃহীত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব।  মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক নাদির শাহ নাদির বলেন, পর্যাপ্ত আয় ও জায়গা না থাকায় ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। একটি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করতে প্রায় এক একর জমির প্রয়োজন। আমাদের পৌরসভায় ছোট হওয়ায় সেরকম জায়গা মিলছে না। আগামী অর্থ বছরে ডাম্পিং স্টেশনের স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে।   
ঈদে হাট কাঁপাতে আসছে ‘লালু সর্দার’ ও ‘কালিয়া’
ঈদে হাট কাঁপাতে আসছে ‘লালু সর্দার’ ও ‘কালিয়া’
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে দুটি ব্যতিক্রমী কোরবানির ষাঁড়—‘লালু সর্দার’ ও ‘কালিয়া’। বিশাল আকৃতি, স্বাস্থ্যবান গঠন এবং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালিত হওয়ায় ইতোমধ্যেই এই ষাঁড় দুটির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় হাটবাজার থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই দুটি ষাঁড় লালনপালন করছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে খামার ‘এম এইচ বি এম এগ্রো’, যার কর্ণধার মেহেদী হাসান বাবু মিয়াজী। তিনি জানান, কোনো প্রকার কৃত্রিম হরমোন বা ওষুধ ছাড়াই দেশীয় পদ্ধতিতে এবং প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে পশুগুলোর পরিচর্যা করা হয়েছে। গরুগুলোর প্রতি রয়েছে সন্তানের মতো ভালোবাসা। খামারে প্রতিটি গরুর দেখভাল করা হয় নিবিড়ভাবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সম্পূর্ণ মানবিক পদ্ধতিতে। লাল রঙের ‘লালু সর্দার’ ও কালো রঙের ‘কালিয়া’ দুটিই হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়। ‘লালু সর্দার’-এর ওজন প্রায় ১২ থেকে ১৩ মণ। গত কোরবানিতে হাটে উঠলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিক্রি করা হয়নি। এবার তার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ‘কালিয়া’-এর ওজন প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মণ। এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মালিক বাবু মিয়াজী জানান, আকাশছোঁয়া দাম চেয়ে লাভ নেই। আমি ফিক্সড দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি। মতলব উত্তর উপজেলার ভেতরে কেউ কিনলে বাড়ি পর্যন্ত ফ্রি ডেলিভারি দিচ্ছি। ‘লালু সর্দার’ ও ‘কালিয়া’ ছাড়াও বাবু মিয়াজীর খামারে রয়েছে আরও দুটি বিশাল গরু—‘সুন্দর আলী’ ও ‘কালো বীর’। প্রতিটি গরুই রয়েছে আকর্ষণীয় দৈহিক গড়ন ও স্বাস্থ্য। এসব গরুর ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। খামারি মিয়াজী জানান, আমার পূর্বপুরুষরাও গরু মোটাতাজাকরণে যুক্ত ছিলেন। আমি ২০০৭ সাল থেকে এই পেশায় আছি। এই ব্যবসায়ে লাভ যেমন হয়েছে, তেমনি কিছু বছর লোকসানও গুনতে হয়েছে। তবে এবারের ঈদে আমার খামারের গরুগুলো খুবই চমৎকার। আমি আশাবাদী, ন্যায্যমূল্যে এগুলো বিক্রি হবে। খামার পরিদর্শনে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল মুফতী বলেন, আমি প্রতিবার কোরবানির আগে বিভিন্ন খামার ঘুরি, কিন্তু এবারের ‘লালু সর্দার’ ও ‘কালিয়া’ দেখে সত্যি অবাক হয়েছি। এমন গঠন আর পরিচর্যা মতলবে খুব কমই দেখা যায়। দামটাও তুলনামূলকভাবে যথাযথ মনে হয়েছে। আরেক দর্শনার্থী গজরা ইউনিয়নের আমুয়াকান্দি গ্রাম থেকে আসা ইসমাইল খান টিটু জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেখে খামারে এসেছিলাম। গরুগুলো একেবারেই ভিন্ন রকম। সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে, কোন ধরনের হরমোন ছাড়া গরুগুলো বড় করা হয়েছে। চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ‘এম এইচ বি এম এগ্রো’ খামারের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ শুধু পশু পালনেই নয়, সচেতন ও মানবিক কোরবানির বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে। গরু যেন শুধুই ব্যবসার পণ্য নয়, বরং সঠিক পদ্ধতিতে পালন করে তা হতে পারে গর্বের প্রতীক।
ছুটির দিনে ঘুরতে গিয়ে খুন হলেন আব্দুল্লাহ
ছুটির দিনে ঘুরতে গিয়ে খুন হলেন আব্দুল্লাহ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক পাড়ে ঘুরতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আব্দুল্লাহ (১৪) নামে এক কিশোর খুন হয়েছে।  শুক্রবার (২৩ মে) রাত ৮টার দিকে গোদনাইল ধণকুন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  নিহত আব্দুল্লাহ ধণকূন্ডা এলাকার আতাউর মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. শামীমের ছেলে।  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ তার বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপ দোকানে কাজ করত। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় সন্ধ্যার দিকে ডিএনডি লেক পাড় ঘুরতে আসে। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।  স্থানীয়দের অভিযোগ, লেকপাড় এলাকায় হৃদয় ও সাব্বিরসহ কয়েকজন যুবক লেকপাড় এলাকায় ঘুরতে আসা বিভিন্ন লোকজনকে ধরে অর্থ আদায় করে থাকে। এ জন্য তারা লেকপাড়ের পাশে একটি অফিস খুলে বসেছে। লোকজনকে ধরে নিয়ে অফিসের ভেতর আটক রেখে মারধর ও অর্থ আদায় করা তাদের কাজ। ধারণা করা হচ্ছে ওই গ্রুপটিই আব্দুল্লাহকে ধরে নিয়ে ছুরিকাঘাত করেছে।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহিনুর আলম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। সন্দেহজনক হৃদয় ও সাব্বির চক্রের সদস্যদের আটক করার চেষ্টা চলছে।
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
কুমিল্লা নগরের একটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতনে তিনি মারা গেছেন। শুক্রবার (২৩ মে) নগরের ঢুলিপাড়ায় অবস্থিত নিউ যত্ন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও রোগীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে কেন্দ্রে  চিকিৎসাধীন রোগীরা ভাঙচুর চালায়। নিহত যুবক সোহেল বরুড়া উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা। একই ভবন থেকে ওই সময় এনামুল নামে আরও একজন রোগী লাফ দিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পায়নি। এদিকে নিহত সোহেলের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবারের দাবি, নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা নির্যাতনের মাধ্যমে সোহেলকে হত্যা করেছে। কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, তবে কাজ করার সুযোগ পাইনি। হত্যা মামলা হলে তদন্ত হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।