পূর্ব ব্রাজিলে টানা ভারী বৃষ্টির পর ভূমিধস ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে ও প্লাবিত এলাকায় জীবিতদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে মিনাস গেরাইস রাজ্যে। সেখানে জুইজ ডি ফোরা ও উবা শহর মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। খবর আল-জাজিরার
রাজ্যের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত পাঁচজন এখনও নিখোঁজ। সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে বা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক বিচ্ছিন্ন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
ব্রাজিলের জাতীয় আবহাওযা সংস্থা সতর্ক করেছে, মিনাস গেরাইসের পাশাপাশি আটলান্টিক উপকূলবর্তী রাজ্য রিও ডি জেনিরো এবং সাও পাওলোতে আবহাওয়ার ‘খুবই খারাপ’ অবস্থা। সংস্থাটি ভূমিধস, নদী উপচে পড়া এবং বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মিনাস গেরাইস সফর করবেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ওপর দিয়ে উড়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন এবং জুইজ ডি ফোরা, উবা ও মাতিয়াস বারবোসার মেয়রদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ফেডারেল সরকার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার জন্য প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন রিয়েল, অর্থাৎ প্রায় ৬৬০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে।
ব্রাজিলের দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ সংস্থার ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জুইজ ডি ফোরার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ ভূমি ও পানিসম্পর্কিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস করেন। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পর্যটন নগরী পারাটিতে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তাজুড়ে ঘোলা বাদামি পানি স্রোতের মতো বয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের প্লাবিত এলাকা, পাহাড়ের ঢাল এবং বজ্রপাতের ঝুঁকির কারণে বড় গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। পরিবেশবাদী সংগঠন Greenpeace Brazil সামাজিকমাধ্যমে শহরগুলোকে দুর্যোগ-সহনশীল করে গড়ে তুলতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, এ ধরনের ট্র্যাজেডি কেবল প্রাকৃতিক নয়, নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলও বটে।
প্রায় দুই বছর আগে দক্ষিণের রিও গ্রান্ডে দো সুল রাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মিনাস গেরাইসের সাম্প্রতিক বিপর্যয় সেই স্মৃতিকে আবারও সামনে নিয়ে এলো, এবং জলবায়ু ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রস্তুতির প্রশ্ন নতুন করে তুলেছে।




