ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

‘বিশেষ সুবিধা’ পেতে ৪৬ কারারক্ষীকে জিম্মি করল বন্দিরা

এপি আন্তর্জাতিক

  ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৫
রেনোভাসিওন ১ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগারের টহল টাওয়ারে একজন বন্দি। ছবি : সংগৃহীত

মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালার তিনটি কারাগারে দাঙ্গার সময় বন্দিরা কমপক্ষে ৪৬ কর্মীকে জিম্মি করেছে। কারাগারগুলো পুনরুদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশেষ সুযোগ-সুবিধার দাবিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে গ্যাং সদস্যরা এই সহিংসতা শুরু করে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় এদিন বিকেল পর্যন্ত জিম্মিদের মধ্যে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গুয়াতেমালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও ভিলেদা। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জিম্মিদের বেশিরভাগই কারারক্ষী। তবে তাদের মধ্যে একজন মনোবিজ্ঞানীও রয়েছেন।

ভিলেদা জানান, তিনটি কারাগারে একযোগে দাঙ্গা ছড়ানো হয়। তার অভিযোগ, কুখ্যাত ব্যারিও ১৮ গ্যাং এই সহিংসতার নেপথ্যে রয়েছে। গ্যাংটির এক শীর্ষ নেতা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ চিকিৎসার দাবিতে অন্য কারাগারে স্থানান্তর চাওয়ায় পরিস্থিতি বিস্ফোরণ ঘটায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্যাং নেতাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্তের ‘সরাসরি প্রতিক্রিয়া’ হিসেবেই এই দাঙ্গা শুরু হয়। ভিলেদা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো চুক্তি করব না। এই ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। সহিংসতা বন্ধের বিনিময়ে তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গুয়াতেমালার দক্ষিণাঞ্চলের এসকুইন্টলা প্রদেশে অবস্থিত রেনোভাসিওন ১ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগারের চারপাশে পুলিশ ও সেনারা নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে রেখেছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য বাইরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। টহল টাওয়ার থেকে কারাগারের ভেতরে বন্দিদের ওপর থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। কেউ কেউ জাম্পস্যুট পরলেও অধিকাংশ বন্দি ট্যাঙ্ক টপ ও শর্টস পরে ছিলেন। পোশাকের টুকরো দিয়ে তৈরি মুখোশে তাদের মুখ ঢাকা ছিল।

কাঁটাতারের আড়াল থেকে মুখোশধারী এক বন্দি দাবি করেন, কারাগারের ভেতরে তারা নিরাপদ নন এবং দ্রুত স্থানান্তর চান। কারা কর্তৃপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে এই বন্দি বলেন, ‘ওরা নিজেরাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তাহলে আমাদের নিরাপত্তা দেবে কীভাবে?’

গুয়াতেমালায় অতীতেও কারারক্ষীদের জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। তবে কর্মকর্তাদের মতে, এসকুইন্টলার এই দাঙ্গায় জিম্মির সংখ্যা আগের যে কোনো ঘটনার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

গ্যাং প্রভাবের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটির সরকার কারাগারের নিয়ন্ত্রণ রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে, বন্দিরা কঠোর এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট বার্নার্ডো আরেভালো কয়েক দিনের মধ্যে ২০ গ্যাং সদস্য পালিয়ে যাওয়ার পর তিন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কারাগার ব্যবস্থা ও বাইরের অপরাধের মধ্যে যোগসূত্র ছিন্ন করতে হবে। এজন্যই কারাগার ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের এসব প্রচেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

পাহাড়ি দুর্গে পদদলিত হয়ে প্রাণ গেল ২৫ পর্যটকের
ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র হাইতির উত্তরাঞ্চলে একটি ঐতিহাসিক পাহাড়ি দুর্গে পদদলিত হয়ে অন্তত ২৫ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। দুর্গটি ইউনেসকো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার ঘটনাটি ঘটে সিটাডেল লাফেরিয়ার নামের একটি দুর্গে। সেখানে প্রতি বছর একটি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এবারও সেই উৎসবে প্রচুর তরুণ-তরুণী একত্রিত হয়েছিলেন এবং সেই ভিড়ের মধ্যেই পদদলনের ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আরও অনেকের খোঁজ এখনও চলছে। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রোববারও ঘটনাস্থলে কিছু মরদেহ পড়ে ছিল। দেশটির জাতীয় পুলিশ একটি পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই তদন্তের সূত্র ধরে কর্তৃপক্ষ মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার পর্যন্ত ময়নাতদন্ত চলছিল। ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্গটি হাইতির স্বাধীনতার প্রতীক। ১৮০৪ সালে দাস বিদ্রোহের মাধ্যমে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর সম্ভাব্য ফরাসি আক্রমণ ঠেকাতে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি এখন ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ও একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই পর্যটন কেন্দ্রের অনুষ্ঠানটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চলেছিল। যে কারণে এতে উপস্থিতি ছিল প্রচুর। তাদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ ও শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানে প্রবেশপথের কাছে শুরুতেই বেশ জটলা তৈরি হয়। এরপর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি শুরু হলে বিপত্তি বাধে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিনা বিলম্বে প্রয়োজনীয় সহায়তা, সেবা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণরূপে সক্রিয় এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
পাহাড়ি দুর্গে পদদলিত হয়ে প্রাণ গেল ২৫ পর্যটকের
আটকের পর দ্বিতীয়বারের মতো আদালতে তোলা হচ্ছে মাদুরোকে
যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো অভিযানে আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার অপসারিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দ্বিতীয়বারের মতো নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হচ্ছে। সিএনএনের খবর জানাচ্ছে, এ দফার শুনানিতে মাদুরোর আইনজীবীরা মামলাটি খারিজ করার আবেদন জানাতে পারেন। গত জানুয়ারি মাসে কারাকাসে এক শ্বাসরুদ্ধকর নৈশ অভিযানের মাধ্যমে ৬৩ বছর বয়সি মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। গত তিন মাস ধরে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন তারা। এই নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের ফলে ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর পতন ঘটে এবং তেলসমৃদ্ধ দেশটি বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শর্ত মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছে। আটকের পর থেকে মাদুরো নিজেকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে দাবি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো চারটি অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে মাদুরোকে। একটি সূত্র জানিয়েছে, কারাগারে তিনি ইন্টারনেট বা সংবাদপত্রের সুযোগ পাচ্ছেন না এবং তিনি অধিকাংশ সময় বাইবেল পড়ে কাটাচ্ছেন। গত ৩ জানুয়ারি পরিচালিত মার্কিন কমান্ডো অভিযানে মাদুরোকে আটকের সময় অন্তত ৮৩ জন ভেনেজুয়েলান নাগরিক নিহত হন। মাদুরোর পতনের পর বর্তমানে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। মার্কিন চাপে তিনি ইতোমধ্যে রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী দেশটির খনিজ ও তেল নীতিতে ব্যাপক সংস্কার এনেছেন। এরই মধ্যে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভেনেজুয়েলার সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে।
আটকের পর দ্বিতীয়বারের মতো আদালতে তোলা হচ্ছে মাদুরোকে
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬ জনে পৌঁছেছে। দুটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে এ তথ্য জানায় রয়টার্স। উদ্ধার কার্যক্রম এখনও চলছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কলম্বিয়ার পুতুমায়ো বিভাগের গভর্নর জন গ্যাব্রিয়েল মলিনা। দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি লকহিড মার্টিনের তৈরি হারকিউলিস সি ১৩০ মডেলের। পেরু সীমান্তবর্তী পুয়ের্তো লাগুইজামো এলাকা থেকে উড্ডয়নের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় রানওয়েতে কিছু একটার সঙ্গে ধাক্কা লেগে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর উড়োজাহাজের ডানা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা এদুয়ার্দো সান হুয়ান কাইয়েখাস জানান, দুর্ঘটনায় বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরিত হয়। দুর্গম এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পেছনে আহতদের বহন করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। পরে সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী যান ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। কলম্বিয়া বিমানবাহিনী জানায়, উড়োজাহাজটিতে ১২১ জন আরোহী ছিলেন। এরমধ্যে ১১০ জন সৈন্য ও ১১ জন ক্রু। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে এই সংখ্যার কিছুটা অমিল রয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে বিমানে মোট আরোহী ছিলেন ১২৫ জন। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নের ‍ওপর জোরারোপ করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নে আর দেরি করা যাবে না। আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকিতে।’ গত ফেব্রুয়ারির শেষে বলিভিয়ায়ও একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় ২০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরপর একই মডেলের দুটি দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনা তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত। ১৯৫০ এর দশকে হারকিউলিস সি ১৩০ মডেলের বিমান প্রথম চালু হয়। ১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে এই মডেল সংগ্রহ করে কলম্বিয়া। দেশটিতে প্রায়ই সেনা পরিবহনে এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হয়।
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত অন্তত ৩৪, আহত অনেক
উড্ডয়নের পরপরই কলম্বিয়া বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানায়, এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ২১ জন। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কলম্বিয়ার পুতুমায়ো বিভাগের গভর্নর জন গ্যাব্রিয়েল মলিনা। দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি লকহিড মার্টিনের তৈরি হারকিউলিস সি ১৩০ মডেলের। পেরু সীমান্তবর্তী পুয়ের্তো লাগুইজামো এলাকা থেকে উড্ডয়নের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় রানওয়েতে কিছু একটার সঙ্গে ধাক্কা লেগে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর উড়োজাহাজের ডানা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা এদুয়ার্দো সান হুয়ান কাইয়েখাস জানান, দুর্ঘটনায় বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরিত হয়। দুর্গম এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পেছনে আহতদের বহন করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। পরে সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী যান ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। কলম্বিয়া বিমানবাহিনী জানায়, উড়োজাহাজটিতে ১২১ জন আরোহী ছিলেন। এরমধ্যে ১১০ জন সৈন্য ও ১১ জন ক্রু। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে এই সংখ্যার কিছুটা অমিল রয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে বিমানে মোট আরোহী ছিলেন ১২৫ জন। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নের ‍ওপর জোরারোপ করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নে আর দেরি করা যাবে না। আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকিতে।’ গত ফেব্রুয়ারির শেষে বলিভিয়ায়ও একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় ২০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরপর একই মডেলের দুটি দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনা তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত। ১৯৫০ এর দশকে হারকিউলিস সি ১৩০ মডেলের বিমান প্রথম চালু হয়। ১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে এই মডেল সংগ্রহ করে কলম্বিয়া। দেশটিতে প্রায়ই সেনা পরিবহনে এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হয়।
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত অন্তত ৩৪, আহত অনেক
কিউবার সঙ্গে যা খুশি করতে পারি: ট্রাম্প
কোনো রাখঢাক না রেখেই এবার ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দেশ কিউবা দখলের কথা প্রকাশ্যে বললেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি দেশটি ‘দখল করলে সম্মান পাবেন’ বলে বিশ্বাস করেন তিনি। সোমবার (১৭ মার্চ) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সাংবাদিকের এসব কথা জানান। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কিউবার সঙ্গে আমি যা খুশি করতে পারি।’ তার এই মন্তব্যটি এমন সময় এল, যখন দুই দেশ তাদরে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক উন্নত করতে আলোচনা শুরু করেছে। তার এই মন্তব্যটি এমন সময় এল, যখন দুই দেশ তাদরে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক উন্নত করতে আলোচনা শুরু করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরানো। আলোচনায় সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, মার্কিন আলোচকরা কিউবার প্রতিনিধিদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, ডিয়াজ-কানেলকে সরে যেতে হবে। তবে এরপর কী হবে তা কিউবানদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসা ৬৫ বছর বয়সি ডিয়াজ-কানেল শুক্রবার বলেছেন, তিনি আশা করেন আলোচনা ‘উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে’ হবে। কিউবা ঐতিহাসিকভাবে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যে কোনো হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন। ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কিউবার কাছে তেল বিক্রি করে এমন যে কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ফলে কিউবা জানিয়েছে, তারা তিন মাস ধরে কোনো তেলের চালান পায়নি। দেশে কঠোর জ্বালানি রেশনিং চলছে এবং লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। সোমবার পুরো বিদ্যুৎ গ্রিড ভেঙে পড়ায় ১ কোটি মানুষের দেশটি একসঙ্গে বিদ্যুৎহীন হয়ে যায়। রোববার ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা কিউবার সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু আগে ইরানকে আঘাত করব।’ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এবং ইরানে হামলায় অংশ নেওয়ার পর কিউবাকে ‘পরবর্তী লক্ষ্য’ বলেও তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। ১৯৬২ সালের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সমাধানে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় সামরিক হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের আইনি ভিত্তি কী হবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনও কিছু জানায়নি। কিউবা সরকারও কোনো মন্তব্য করেনি।
কিউবার সঙ্গে যা খুশি করতে পারি: ট্রাম্প
পাহাড়ি দুর্গে পদদলিত হয়ে প্রাণ গেল ২৫ পর্যটকের
পাহাড়ি দুর্গে পদদলিত হয়ে প্রাণ গেল ২৫ পর্যটকের
ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র হাইতির উত্তরাঞ্চলে একটি ঐতিহাসিক পাহাড়ি দুর্গে পদদলিত হয়ে অন্তত ২৫ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। দুর্গটি ইউনেসকো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার ঘটনাটি ঘটে সিটাডেল লাফেরিয়ার নামের একটি দুর্গে। সেখানে প্রতি বছর একটি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এবারও সেই উৎসবে প্রচুর তরুণ-তরুণী একত্রিত হয়েছিলেন এবং সেই ভিড়ের মধ্যেই পদদলনের ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আরও অনেকের খোঁজ এখনও চলছে। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রোববারও ঘটনাস্থলে কিছু মরদেহ পড়ে ছিল। দেশটির জাতীয় পুলিশ একটি পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই তদন্তের সূত্র ধরে কর্তৃপক্ষ মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার পর্যন্ত ময়নাতদন্ত চলছিল। ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্গটি হাইতির স্বাধীনতার প্রতীক। ১৮০৪ সালে দাস বিদ্রোহের মাধ্যমে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর সম্ভাব্য ফরাসি আক্রমণ ঠেকাতে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি এখন ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ও একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই পর্যটন কেন্দ্রের অনুষ্ঠানটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চলেছিল। যে কারণে এতে উপস্থিতি ছিল প্রচুর। তাদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ ও শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানে প্রবেশপথের কাছে শুরুতেই বেশ জটলা তৈরি হয়। এরপর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি শুরু হলে বিপত্তি বাধে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিনা বিলম্বে প্রয়োজনীয় সহায়তা, সেবা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণরূপে সক্রিয় এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
আটকের পর দ্বিতীয়বারের মতো আদালতে তোলা হচ্ছে মাদুরোকে
আটকের পর দ্বিতীয়বারের মতো আদালতে তোলা হচ্ছে মাদুরোকে
যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো অভিযানে আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার অপসারিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দ্বিতীয়বারের মতো নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হচ্ছে। সিএনএনের খবর জানাচ্ছে, এ দফার শুনানিতে মাদুরোর আইনজীবীরা মামলাটি খারিজ করার আবেদন জানাতে পারেন। গত জানুয়ারি মাসে কারাকাসে এক শ্বাসরুদ্ধকর নৈশ অভিযানের মাধ্যমে ৬৩ বছর বয়সি মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। গত তিন মাস ধরে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন তারা। এই নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের ফলে ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর পতন ঘটে এবং তেলসমৃদ্ধ দেশটি বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শর্ত মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছে। আটকের পর থেকে মাদুরো নিজেকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে দাবি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো চারটি অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে মাদুরোকে। একটি সূত্র জানিয়েছে, কারাগারে তিনি ইন্টারনেট বা সংবাদপত্রের সুযোগ পাচ্ছেন না এবং তিনি অধিকাংশ সময় বাইবেল পড়ে কাটাচ্ছেন। গত ৩ জানুয়ারি পরিচালিত মার্কিন কমান্ডো অভিযানে মাদুরোকে আটকের সময় অন্তত ৮৩ জন ভেনেজুয়েলান নাগরিক নিহত হন। মাদুরোর পতনের পর বর্তমানে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। মার্কিন চাপে তিনি ইতোমধ্যে রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী দেশটির খনিজ ও তেল নীতিতে ব্যাপক সংস্কার এনেছেন। এরই মধ্যে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভেনেজুয়েলার সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে।
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬ জনে পৌঁছেছে। দুটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে এ তথ্য জানায় রয়টার্স। উদ্ধার কার্যক্রম এখনও চলছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কলম্বিয়ার পুতুমায়ো বিভাগের গভর্নর জন গ্যাব্রিয়েল মলিনা। দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি লকহিড মার্টিনের তৈরি হারকিউলিস সি ১৩০ মডেলের। পেরু সীমান্তবর্তী পুয়ের্তো লাগুইজামো এলাকা থেকে উড্ডয়নের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় রানওয়েতে কিছু একটার সঙ্গে ধাক্কা লেগে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর উড়োজাহাজের ডানা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা এদুয়ার্দো সান হুয়ান কাইয়েখাস জানান, দুর্ঘটনায় বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরিত হয়। দুর্গম এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পেছনে আহতদের বহন করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। পরে সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী যান ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। কলম্বিয়া বিমানবাহিনী জানায়, উড়োজাহাজটিতে ১২১ জন আরোহী ছিলেন। এরমধ্যে ১১০ জন সৈন্য ও ১১ জন ক্রু। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে এই সংখ্যার কিছুটা অমিল রয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে বিমানে মোট আরোহী ছিলেন ১২৫ জন। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নের ‍ওপর জোরারোপ করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নে আর দেরি করা যাবে না। আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকিতে।’ গত ফেব্রুয়ারির শেষে বলিভিয়ায়ও একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় ২০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরপর একই মডেলের দুটি দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনা তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত। ১৯৫০ এর দশকে হারকিউলিস সি ১৩০ মডেলের বিমান প্রথম চালু হয়। ১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে এই মডেল সংগ্রহ করে কলম্বিয়া। দেশটিতে প্রায়ই সেনা পরিবহনে এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হয়।
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত অন্তত ৩৪, আহত অনেক
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত অন্তত ৩৪, আহত অনেক
উড্ডয়নের পরপরই কলম্বিয়া বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানায়, এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ২১ জন। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কলম্বিয়ার পুতুমায়ো বিভাগের গভর্নর জন গ্যাব্রিয়েল মলিনা। দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি লকহিড মার্টিনের তৈরি হারকিউলিস সি ১৩০ মডেলের। পেরু সীমান্তবর্তী পুয়ের্তো লাগুইজামো এলাকা থেকে উড্ডয়নের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় রানওয়েতে কিছু একটার সঙ্গে ধাক্কা লেগে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর উড়োজাহাজের ডানা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা এদুয়ার্দো সান হুয়ান কাইয়েখাস জানান, দুর্ঘটনায় বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরিত হয়। দুর্গম এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পেছনে আহতদের বহন করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। পরে সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী যান ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। কলম্বিয়া বিমানবাহিনী জানায়, উড়োজাহাজটিতে ১২১ জন আরোহী ছিলেন। এরমধ্যে ১১০ জন সৈন্য ও ১১ জন ক্রু। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে এই সংখ্যার কিছুটা অমিল রয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে বিমানে মোট আরোহী ছিলেন ১২৫ জন। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নের ‍ওপর জোরারোপ করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নে আর দেরি করা যাবে না। আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকিতে।’ গত ফেব্রুয়ারির শেষে বলিভিয়ায়ও একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় ২০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরপর একই মডেলের দুটি দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনা তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত। ১৯৫০ এর দশকে হারকিউলিস সি ১৩০ মডেলের বিমান প্রথম চালু হয়। ১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে এই মডেল সংগ্রহ করে কলম্বিয়া। দেশটিতে প্রায়ই সেনা পরিবহনে এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হয়।