ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ইতিহাসের সর্বনিম্ন জন্মহারে চীন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:১১
ছবি: সংগৃহীত

চীনের জন্মহার দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর এবারই জন্মহার সবচেয়ে কম বলে টিআরটি নিউজের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে প্রতি এক হাজার মানুষের মধ্যে জন্ম হয়েছে মাত্র ৫.৬ জনের। মোট নবজাতকের সংখ্যা নেমে এসেছে ৭৯ লাখে। আগের বছরের তুলনায় এটি প্রায় ১৬ লাখ কম, যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় পতন। এই পরিস্থিতির ফলে চীনের মোট জনসংখ্যা কমেছে ৩৪ লাখ। টানা চতুর্থ বছরের মতো জনসংখ্যা হ্রাসের ঘটনা এটি।

এই পরিসংখ্যান চীনের সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে সরকার একটি পরিবারবান্ধব ও সন্তান জন্মে উৎসাহমূলক সমাজ গড়ার কথা বললেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার নগদ আর্থিক সহায়তা, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানোসহ নানা প্রণোদনা চালু করলেও জন্মহার বাড়েনি।

২০২৪ সালে চীনে বিয়ের সংখ্যাও রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। ওই বছর মাত্র ৬১ লাখ দম্পতি বিয়ে করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২০.৫ শতাংশ কম। একই সময়ে বিবাহবিচ্ছেদের হার বেড়েছে ১.১ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনে কম জন্মহারের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সন্তান ধারণের উপযুক্ত বয়সী নারীর সংখ্যা কমে যাওয়া, তরুণ প্রজন্মের দেরিতে বিয়ে করা, সন্তান নেওয়া পিছিয়ে দেওয়া এবং উচ্চ জীবনযাত্রার খরচ ও চাকরির অনিশ্চয়তা এর মধ্যে অন্যতম। সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেকেই পরিবার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

সরকার বিয়ে ও জন্মহার বাড়াতে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত সেগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখা যায়নি। ২০২৪ সালে চীনের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৪০ কোটি, যা ২০২১ সালের পর টানা তৃতীয় বছরের মতো কমেছে।

এদিকে জনসংখ্যা কমলেও চীনের অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনীতি ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব বলছে, চীনের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রথমবারের মতো ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে, যা প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকা, মূল্যস্ফীতির চাপ কমে যাওয়া, আবাসন খাতে দীর্ঘ মন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিজনিত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি।

উপসংহার হিসেবে বলা যায়, চীন একদিকে জনসংখ্যা সংকটের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে কম জন্মহার ও বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা দেশটির শ্রমবাজার, সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ও বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ এখন চীনের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

উপকূলে দেখা ‘রহস্যময় আলো’ ভারতের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের
কক্সবাজার, ঝালকাঠি, বরগুনা, বাগেরহাটসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আকাশে শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় রহস্যময় আলো দেখা যায়। উপকূলজুড়ে দেখা ওই আলো ইসরায়েল-আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের ব্যবহৃত সিজ্জিল মিসাইলের আলোর মতো ছিল।  এদিকে ভারত তাদের অত্যাধুনিক আন্তঃমহাদেশীয় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার জন্য বুধবার (৬ মে) থেকে শনিবার (৯ মে) পর্যন্ত ওড়িশা উপকূলের আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে শুরু করে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোরজুড়ে নোটাম (নোটিস টু এয়ারমেন) জারি করে। নোটাম জারি করে আকাশসীমা সীমিত করা হয়। সিজ্জিল মিসাইলের মতো আলো আর ভারতের নোটাম জারি মিলিয়ে অনেকেই উপকূলের ওই ‘রহস্যময়’ আলোকে ক্ষেপণাস্ত্রের আলো বলে ধারণা করেছিলেন। এবার মালয়শিয়া ভিত্তিক সামরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া এক প্রতিবেদনে ওই আলোকে ভারতে ‘অগ্নি ৬’ বা অন্য কোনো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আলো বলে উল্লেখ করেছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ মে বঙ্গোপসাগরে ভারতের বহুল আলোচিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন করে কৌশলগত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। কারণ, এই পরীক্ষা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন চীন, পাকিস্তান এবং হাইপারসনিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে ঘিরে পারমাণবিক আধুনিকায়নের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওড়িশা উপকূলের চন্ডিপুর ও আব্দুল কালাম দ্বীপসংলগ্ন ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে উৎক্ষেপণটি পরিচালিত হয়। সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত জলসীমা নোটাম করায় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে এটি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরেও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা জানানো হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া এটিকে ‘পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় হাইপারসনিক ক্ষেপনাস্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) কিংবা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সন্ধ্যার আকাশ চিরে উজ্জ্বল আলোর রেখা দ্রুত উপরে উঠে যাচ্ছে। ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশের সীতাকুণ্ডু ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশে দীর্ঘস্থায়ী আলো দেখতে পাওয়ার কথা জানান, যার সাধারণত উচ্চগতির কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাথ কয়েক দিন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নয়াদিল্লি প্রথম ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জের একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা করতে যাচ্ছে। এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অগ্নি-৬’। পারমাণবিক ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করার জন্য প্রস্তুত এবং সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যালে’র অপেক্ষায় রয়েছে। গত বুধবার দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘অগ্নি-৬: পরাশক্তি হওয়ার পথে ভারতের অগ্রযাত্রা! ১০ হাজারের বেশি কিলোমিটার পাল্লা ও এমআইআরভি প্রযুক্তি নিয়ে অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের নিরাপত্তাকে অভেদ্য করে তুলবে এবং আমাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর কাতারে স্থান দেবে। শক্তিশালী ভারত, সুরক্ষিত ভারত!’ বিজেপি একটি ভিডিও আপলোড করেছে। তাতে দলটি ব্যাখ্যা করেছে যে, এখন পর্যন্ত কেবল ‘পাঁচটি দেশের কাছেই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতা রয়েছে: আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। এখন ভারতও এই একই সারিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চলেছে। অগ্নি-৬ হলো ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র... দূরপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতার ফলে ভারতের প্রভাব কেবল আঞ্চলিকই নয়, বরং আরও বেশি বৈশ্বিক হতে চলেছে।’ অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রে এমআইআরভি প্রযুক্তি থাকার কথা রয়েছে। এর ফলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড ছোড়া যাবে এবং সেগুলো আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারবে। এতে ক্ষেপণাস্ত্রটির আক্রমণ ক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। পাশাপাশি, ভারত সম্প্রতি একটি লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক মিসাইলেরও (এলআর-এএসএইচএম) পরীক্ষা চালিয়েছে, যার পাল্লা ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি এবং সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ১০ বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধের বার্ষিকী উদযাপনের সময় এই আইসিবিএম পরীক্ষার খবরটি সামনে এলো। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বার্ষিকীর সঙ্গে এই পরীক্ষার সময় মিলিয়ে পাকিস্তান ও চীন উভয়কেই একটি জোরালো কৌশলগত বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে।
উপকূলে দেখা ‘রহস্যময় আলো’ ভারতের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের
বিশ্ব তেল সংকটে বিপাকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ তেল সংকটে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান। জোটের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র এই সংকটের প্রভাব অনুভব করছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসিয়ান নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে সামুদ্রিক পথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন বন্দরে জাহাজের জটলা দেখা দিয়েছে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মতো জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো চরম বিপাকে পড়েছে।  সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোও এই সংকটের বাইরে নয়। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সেবু সিটিতে চলমান সম্মেলনে একটি জরুরি পরিকল্পনা স্বাক্ষর করবেন নেতারা। রপ্তানিমুখী দেশ হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের উৎপাদন চেইন সচল রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্নতা। সিঙ্গাপুর ইরানের সঙ্গে কোনো আপস না করার সিদ্ধান্ত নিলেও, জ্বালানির জন্য ৯৮ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল ফিলিপাইন আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে। জ্বালানির এই সংকট সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। জ্বালানির দাম বাড়লে তা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  বৃহস্পতিবার (৭ মে) ফিলিপাইনের সেবু সিটিতে ৪৮তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে জোটের চেয়ারম্যান ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জোর দিয়ে বলেছেন, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার মধ্যেও আসিয়ান তার সক্ষমতা ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ইরান যুদ্ধ এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তবে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আসিয়ান দেশগুলো নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে এবং নিজেদের অর্থনীতি রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জোটের ১১টি দেশ এখন একযোগে কাজ করছে যাতে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা টিকে থাকতে পারে।
বিশ্ব তেল সংকটে বিপাকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা: এফএও
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটি বলছে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে জরুরি কৃষি উপকরণের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর পেছনে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা বড় ভূমিকা রাখছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ হয়ে গেলে সারের উচ্চমূল্যের কারণে বৈশ্বিক ফলন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যের দামে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরিও বলেন, পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। আমরা এখন ফসল রোপণ ও তোলার সময়সূচির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছি। তিনি বলেন, এশিয়ার কিছু দেশে ইতোমধ্যে বীজ বপনের মৌসুম পেরিয়ে গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো এমন ফসল চাষে ঝুঁকতে পারে, যা জমিতে বেশি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সক্ষম। ফলে গম ও ভুট্টার বদলে সয়াবিন চাষ বাড়তে পারে। এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কিছু কৃষক জৈব জ্বালানি উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকছেন। তোরিও বলেন, গম ও সয়াবিনের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হতে পারে এবং আগামী বছর পণ্যমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা উচ্চ পণ্যমূল্য এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি দেখছি। কারণ খাদ্য শুধু কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে না, এর সঙ্গে জ্বালানির দামও জড়িত। সতর্ক করে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে। ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, পরিস্থিতি তত খারাপের দিকে যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা  
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা: এফএও
মালয়েশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে রেলপথ নির্মাণে থাইল্যান্ডের মহাপরিকল্পনা 
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় রেল নেটওয়ার্কের আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ব্যাংকক। এ নিয়ে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় একটি কৌশলপত্র তৈরি করেছে। থাই উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী ফিফ্যাট র‌্যাচেকিটপ্রকারণের নেতৃত্বে ১০০ বিলিয়নের বেশি থাই বাথ তথা প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ফেইজ-২ রেল মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।   ডাবল রেল লাইন নির্মাণের এ প্রকল্পের জন্য চলতি বছরই দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন থাই গণমাধ্যম। এর মধ্যে ৩০ বিলিয়ন বাথের বেশি বা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চুম্ফন থেকে সুরাট থানি সেকশন। এ ছাড়া সুরাট থানি থেকে হাট-ইয়াই টু সঙ্খলা পর্যন্ত ৩২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেললাইনের আধুনিকায়ন ও নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬ বিলিয়ন বাথ, তথা সোয়া ২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, হাট-ইয়াই টু পাদাং বেসার অংশের ৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের লাইনটি নির্মাণে পৌনে বিলিয়ন থাই বাথ তথা প্রায় ২৪ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হবে। মূলত হাট-ইয়াই টু পাদাং বেসার অংশটি থাইল্যান্ডের সঙ্গে মালয়েশিয়াকে যুক্ত করবে। এ নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। গত ২৯ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ আলোচনার মূল বিষয় ছিল দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অচল থাকা প্রস্তাবিত থাইল্যান্ডের ঐতিহাসিক সুঙ্গাই কোলোক টু মালয়েশিয়ার রানতাও পানজাং রেল নেটওয়ার্কটি পুনরুজ্জীবিত করা। আলোচনায় যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় বলে জানিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। সূত্র: ন্যাশনাল থাইল্যান্ড, দ্য স্টার
মালয়েশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে রেলপথ নির্মাণে থাইল্যান্ডের মহাপরিকল্পনা 
কারাগার থেকে সু চি আবার গৃহবন্দি
মিয়ানমারের কারারুদ্ধ সাবেক নেত্রী অং সান সু চিকে গৃহবন্দি করে স্থানান্তর করা হয়েছে। জান্তা সরকারের নির্দেশে তাকে রাজধানী নেপিডোতে স্থানান্তর করা হয়। চলতি সপ্তাহে সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন তার আইনজীবীরা। চলতি মাসের দ্বিতীয়বারের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার সু চির ২৭ বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে সাজা কমল ৯ বছর। ফলে নোবেলজয়ী এই নারীকে ১৮ বছরের কিছু বেশি সময় সাজা ভোগ করতে হবে। তবে আইনজীবীরা নিশ্চিত করে জানায়নি যে, সু চি তার বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় ভোগ করতে পারবেন কি না। আইনজীবী দলের একজন রয়টার্সকে বলেন, অং সান সু চি বর্তমানে নেপিডোতে আছেন। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাকে গৃহবন্দি করা হবে; কিন্তু কোথায় করা হবে, তা বলা হয়নি। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সু চির একটি ছবিও প্রচার করেছে। ছবিতে তাকে দুজন উর্দিধারী কর্মকর্তার সঙ্গে একটি কাঠের বেঞ্চে বসে থাকতে দেখা যায়। সু চির আইনি দল তার অবস্থান নিয়ে আলোচনা করতে ও তাকে কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে রোববার ৮০ বছর বয়সী নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন। তারা জানান, পরিস্থিতি বদলে গেছে। মনে হয়, এটি আর শুধু একটি সাধারণ জেল সাক্ষাৎ থাকবে না, বরং এটি এমন একটি বৈঠক হবে যেখানে আইনি দল গিয়ে তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর পর থেকে নোবেল বিজয়ী সু চি আটক রয়েছেন। এই অভ্যুত্থানের ফলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ৮০ বছর বয়সি সু চি একাধিক অপরাধের জন্য ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে উসকানি ও দুর্নীতি থেকে শুরু করে ভোট জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সু চি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় জান্তা সরকার নিয়ন্ত্রিত আদালত। পরে তা কমিয়ে ২৭ বছর করে জান্তা সরকার। এরপর ১৭ এপ্রিল মিয়ানমারের নববর্ষে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার সময় আবারও তার সাজা কমানো হয়। ওই ক্ষমার আওতায় তার সহযোগী ও সহঅভিযুক্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার আইনজীবীর ভাষ্যমতে, মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং তাকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আওতায় অং সান সু চির সাজার মেয়াদ এক-ষষ্ঠাংশ কমানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসেবে সাড়ে চার বছরের সাজা মওকুফ পাচ্ছেন তিনি।
কারাগার থেকে সু চি আবার গৃহবন্দি
উপকূলে দেখা ‘রহস্যময় আলো’ ভারতের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের
উপকূলে দেখা ‘রহস্যময় আলো’ ভারতের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের
কক্সবাজার, ঝালকাঠি, বরগুনা, বাগেরহাটসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আকাশে শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় রহস্যময় আলো দেখা যায়। উপকূলজুড়ে দেখা ওই আলো ইসরায়েল-আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের ব্যবহৃত সিজ্জিল মিসাইলের আলোর মতো ছিল।  এদিকে ভারত তাদের অত্যাধুনিক আন্তঃমহাদেশীয় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার জন্য বুধবার (৬ মে) থেকে শনিবার (৯ মে) পর্যন্ত ওড়িশা উপকূলের আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে শুরু করে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোরজুড়ে নোটাম (নোটিস টু এয়ারমেন) জারি করে। নোটাম জারি করে আকাশসীমা সীমিত করা হয়। সিজ্জিল মিসাইলের মতো আলো আর ভারতের নোটাম জারি মিলিয়ে অনেকেই উপকূলের ওই ‘রহস্যময়’ আলোকে ক্ষেপণাস্ত্রের আলো বলে ধারণা করেছিলেন। এবার মালয়শিয়া ভিত্তিক সামরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া এক প্রতিবেদনে ওই আলোকে ভারতে ‘অগ্নি ৬’ বা অন্য কোনো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আলো বলে উল্লেখ করেছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ মে বঙ্গোপসাগরে ভারতের বহুল আলোচিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন করে কৌশলগত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। কারণ, এই পরীক্ষা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন চীন, পাকিস্তান এবং হাইপারসনিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে ঘিরে পারমাণবিক আধুনিকায়নের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওড়িশা উপকূলের চন্ডিপুর ও আব্দুল কালাম দ্বীপসংলগ্ন ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে উৎক্ষেপণটি পরিচালিত হয়। সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত জলসীমা নোটাম করায় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে এটি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরেও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা জানানো হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া এটিকে ‘পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় হাইপারসনিক ক্ষেপনাস্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) কিংবা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সন্ধ্যার আকাশ চিরে উজ্জ্বল আলোর রেখা দ্রুত উপরে উঠে যাচ্ছে। ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশের সীতাকুণ্ডু ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশে দীর্ঘস্থায়ী আলো দেখতে পাওয়ার কথা জানান, যার সাধারণত উচ্চগতির কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাথ কয়েক দিন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নয়াদিল্লি প্রথম ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জের একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা করতে যাচ্ছে। এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অগ্নি-৬’। পারমাণবিক ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করার জন্য প্রস্তুত এবং সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যালে’র অপেক্ষায় রয়েছে। গত বুধবার দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘অগ্নি-৬: পরাশক্তি হওয়ার পথে ভারতের অগ্রযাত্রা! ১০ হাজারের বেশি কিলোমিটার পাল্লা ও এমআইআরভি প্রযুক্তি নিয়ে অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের নিরাপত্তাকে অভেদ্য করে তুলবে এবং আমাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর কাতারে স্থান দেবে। শক্তিশালী ভারত, সুরক্ষিত ভারত!’ বিজেপি একটি ভিডিও আপলোড করেছে। তাতে দলটি ব্যাখ্যা করেছে যে, এখন পর্যন্ত কেবল ‘পাঁচটি দেশের কাছেই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতা রয়েছে: আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। এখন ভারতও এই একই সারিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চলেছে। অগ্নি-৬ হলো ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র... দূরপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতার ফলে ভারতের প্রভাব কেবল আঞ্চলিকই নয়, বরং আরও বেশি বৈশ্বিক হতে চলেছে।’ অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রে এমআইআরভি প্রযুক্তি থাকার কথা রয়েছে। এর ফলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড ছোড়া যাবে এবং সেগুলো আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারবে। এতে ক্ষেপণাস্ত্রটির আক্রমণ ক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। পাশাপাশি, ভারত সম্প্রতি একটি লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক মিসাইলেরও (এলআর-এএসএইচএম) পরীক্ষা চালিয়েছে, যার পাল্লা ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি এবং সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ১০ বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধের বার্ষিকী উদযাপনের সময় এই আইসিবিএম পরীক্ষার খবরটি সামনে এলো। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বার্ষিকীর সঙ্গে এই পরীক্ষার সময় মিলিয়ে পাকিস্তান ও চীন উভয়কেই একটি জোরালো কৌশলগত বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে।
বিশ্ব তেল সংকটে বিপাকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো
বিশ্ব তেল সংকটে বিপাকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ তেল সংকটে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান। জোটের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র এই সংকটের প্রভাব অনুভব করছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসিয়ান নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে সামুদ্রিক পথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন বন্দরে জাহাজের জটলা দেখা দিয়েছে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মতো জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো চরম বিপাকে পড়েছে।  সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোও এই সংকটের বাইরে নয়। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সেবু সিটিতে চলমান সম্মেলনে একটি জরুরি পরিকল্পনা স্বাক্ষর করবেন নেতারা। রপ্তানিমুখী দেশ হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের উৎপাদন চেইন সচল রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্নতা। সিঙ্গাপুর ইরানের সঙ্গে কোনো আপস না করার সিদ্ধান্ত নিলেও, জ্বালানির জন্য ৯৮ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল ফিলিপাইন আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে। জ্বালানির এই সংকট সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। জ্বালানির দাম বাড়লে তা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  বৃহস্পতিবার (৭ মে) ফিলিপাইনের সেবু সিটিতে ৪৮তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে জোটের চেয়ারম্যান ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জোর দিয়ে বলেছেন, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার মধ্যেও আসিয়ান তার সক্ষমতা ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ইরান যুদ্ধ এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তবে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আসিয়ান দেশগুলো নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে এবং নিজেদের অর্থনীতি রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জোটের ১১টি দেশ এখন একযোগে কাজ করছে যাতে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা টিকে থাকতে পারে।
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা: এফএও
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা: এফএও
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটি বলছে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে জরুরি কৃষি উপকরণের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর পেছনে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা বড় ভূমিকা রাখছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ হয়ে গেলে সারের উচ্চমূল্যের কারণে বৈশ্বিক ফলন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যের দামে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরিও বলেন, পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। আমরা এখন ফসল রোপণ ও তোলার সময়সূচির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছি। তিনি বলেন, এশিয়ার কিছু দেশে ইতোমধ্যে বীজ বপনের মৌসুম পেরিয়ে গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো এমন ফসল চাষে ঝুঁকতে পারে, যা জমিতে বেশি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সক্ষম। ফলে গম ও ভুট্টার বদলে সয়াবিন চাষ বাড়তে পারে। এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কিছু কৃষক জৈব জ্বালানি উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকছেন। তোরিও বলেন, গম ও সয়াবিনের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হতে পারে এবং আগামী বছর পণ্যমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা উচ্চ পণ্যমূল্য এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি দেখছি। কারণ খাদ্য শুধু কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে না, এর সঙ্গে জ্বালানির দামও জড়িত। সতর্ক করে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে। ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, পরিস্থিতি তত খারাপের দিকে যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা  
মালয়েশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে রেলপথ নির্মাণে থাইল্যান্ডের মহাপরিকল্পনা 
মালয়েশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে রেলপথ নির্মাণে থাইল্যান্ডের মহাপরিকল্পনা 
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় রেল নেটওয়ার্কের আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ব্যাংকক। এ নিয়ে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় একটি কৌশলপত্র তৈরি করেছে। থাই উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী ফিফ্যাট র‌্যাচেকিটপ্রকারণের নেতৃত্বে ১০০ বিলিয়নের বেশি থাই বাথ তথা প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ফেইজ-২ রেল মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।   ডাবল রেল লাইন নির্মাণের এ প্রকল্পের জন্য চলতি বছরই দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন থাই গণমাধ্যম। এর মধ্যে ৩০ বিলিয়ন বাথের বেশি বা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চুম্ফন থেকে সুরাট থানি সেকশন। এ ছাড়া সুরাট থানি থেকে হাট-ইয়াই টু সঙ্খলা পর্যন্ত ৩২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেললাইনের আধুনিকায়ন ও নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬ বিলিয়ন বাথ, তথা সোয়া ২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, হাট-ইয়াই টু পাদাং বেসার অংশের ৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের লাইনটি নির্মাণে পৌনে বিলিয়ন থাই বাথ তথা প্রায় ২৪ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হবে। মূলত হাট-ইয়াই টু পাদাং বেসার অংশটি থাইল্যান্ডের সঙ্গে মালয়েশিয়াকে যুক্ত করবে। এ নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। গত ২৯ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ আলোচনার মূল বিষয় ছিল দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অচল থাকা প্রস্তাবিত থাইল্যান্ডের ঐতিহাসিক সুঙ্গাই কোলোক টু মালয়েশিয়ার রানতাও পানজাং রেল নেটওয়ার্কটি পুনরুজ্জীবিত করা। আলোচনায় যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় বলে জানিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। সূত্র: ন্যাশনাল থাইল্যান্ড, দ্য স্টার