আপনার ফোনে পুরো সিগন্যাল আছে, ফাইভ-জি চলছে স্বাভাবিকভাবে। এমন সময় হঠাৎ একটি এসএমএস এল। ব্যাংক কেওয়াইসি আপডেট না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ, কিংবা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে। বার্তাটি এতটাই বিশ্বাসযোগ্য যে, সন্দেহ করার সুযোগই থাকে না।
কিন্তু অজান্তেই তখন আপনার ফোনকে পাশের একটি ভুয়া মোবাইল টাওয়ার জোর করে টু-জি নেটওয়ার্কে নামিয়ে দিয়েছে। আর সে সুযোগেই প্রতারকরা পাঠাচ্ছে ফাঁদ পাতা বার্তা।
প্রযুক্তির এই নতুন কৌশলে বিভিন্ন দেশে বাড়ছে এসএমএস জালিয়াতি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী সবাইকে এখন বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশেও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু অনেকেই এখনো সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যবহারকারীরা কৌতূহলবশত যে কোনো লিংকে ক্লিক করে ফেলতে পারেন। তবে শুধু বয়স্করাই নন, যে কোনো স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এই প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
প্রতারকরা ব্যবহার করে একটি বিশেষ যন্ত্র। এর নাম ‘এসএমএস ব্লাস্টার’ বা ‘আইএমএসআই ক্যাচার’। আকারে ছোট ও সহজে বহনযোগ্য হলেও এর কাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক।
যন্ত্রটি নিজেকে আসল মোবাইল টাওয়ার হিসেবে পরিচয় দেয়। সাধারণত একটি ফোন আশপাশের বৈধ টাওয়ারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। কিন্তু এসএমএস ব্লাস্টার চালু হলে এটি শক্তিশালী সিগন্যাল ছড়িয়ে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকার ভেতরের ফোনগুলোকে নিজের নেটওয়ার্কে যুক্ত করে নেয়।
ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না, কখন ফোন ফাইভ-জি বা ফোর-জি থেকে টু-জি নেটওয়ার্কে নেমে গেছে।
টু-জি নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে কম নিরাপদ থাকে। এই নেটওয়ার্কে প্রেরকের নকল পরিচয় বানানো সহজ। ফলে বার্তাগুলো একেবারে অফিসিয়াল মনে হয়।
যেমন প্রেরকের নামে দেখা যেতে পারে এসবিআই-এসইসি, এইচডিএফসি ব্যাংক বা ইনকাম ট্যাক্স। এসব নাম দেখে অনেকেই সহজে বিশ্বাস করে ফেলেন।
ভুয়া টাওয়ার থেকে সাধারণত আতঙ্ক বা লোভ তৈরি করে এমন বার্তা পাঠানো হয়। যেমন—
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কেওয়াইসি মেয়াদ শেষের সতর্কতা
- বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকি
- কুরিয়ার আটকে আছে এমন দাবি
- রিওয়ার্ড পয়েন্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে বার্তা
- প্রতিদিন মোটা আয়ের পার্ট-টাইম কাজের প্রলোভন
আর এর সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি লিংক। একবার সেই লিংকে ক্লিক করলেই বিপদ। প্রতারকরা ব্যাংকের তথ্য, ওটিপি সংগ্রহ করে নিতে পারে মুহূর্তেই। আর সঙ্গে সঙ্গেই খালি হয়ে যেতে পারে আপনার অ্যাকাউন্ট।
ইন্ডিয়া টিভির তথ্য মতে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে টেলিকম সম্পর্কিত সাইবার জালিয়াতি প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই ভারতীয়রা ৩০ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থ হারিয়েছেন এসব চক্রের হাতে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
- ফোনের সেটিংসে গিয়ে টু-জি কানেক্টিভিটি বন্ধ রাখুন
- এসএমএসে আসা অচেনা লিংকে ক্লিক করবেন না
- ব্যাংক বা সরকারি কাজের জন্য শুধু অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন
হঠাৎ যদি ফোন ফাইভ-জি বা ফোর-জি থেকে টু-জি নেটওয়ার্কে নেমে যায়, সতর্ক হোন। এটি বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হতে পারে।
প্রতারকরা এখন প্রযুক্তিকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। আপনার ফোনই তাদের লক্ষ্য। তাই সামান্য সচেতনতা ও ধৈর্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি



