২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র তিন মাস বাকি। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই আসর, যার যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। কিন্তু টুর্নামেন্ট ঘিরে ফুটবল উত্তেজনা বাড়ার বদলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে।
সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প ফুটবলকে রাজনৈতিক বার্তার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন যা ফিফার দীর্ঘদিনের নীতি ‘খেলা ও রাজনীতির পৃথক অবস্থান’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সম্প্রতি মেজর লিগ সকার (এমএলএস) চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ছিল ক্লাবের শিরোপা জয়ের উদ্যাপন। তবে অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর রাজনৈতিক বার্তা দেন।
মেসি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আত্মসমর্পণ না করে তবে তাদের ‘নিশ্চিত ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হবে।’ এই বক্তব্যের পর অনেকের মতে, অনুষ্ঠানটি আর কেবল ক্রীড়াবিষয়ক রইল না বরং তা রাজনৈতিক বার্তার অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি থেকে ভুল বার্তা যেতে পারে যে মেসি যেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। যদিও মেসি নিজে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্বকাপ ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান নিজেও ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কথা, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর দেশটির ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপে খেলছে ইরান নারী ফুটবল দল। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ইরানি ফরোয়ার্ড সারা দিবা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। ইরানে আমাদের পরিবার ও প্রিয়জনরা নিরাপদ আছে কি না তা নিয়েই আমরা ভাবছি। তবু আমরা এখানে এসেছি আমাদের দেশের মানুষকে কিছু ভালো খবর দেওয়ার জন্য।’
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও কঠিন হয়ে পড়েছে অনেক খেলোয়াড়ের জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রেক্ষাপটে ফুটবলকে রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা বিশ্বকাপ আয়োজনের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফিফার নীতিতে ক্রীড়া ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার কথা বলা হলেও, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
ফলে প্রশ্ন উঠছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কি সেই ক্রীড়াবান্ধব নিরপেক্ষতার অবস্থান ধরে রাখতে পারছে?




