ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে। এতিহাদ স্টেডিয়ামে রোববারের এই ম্যাচকে অনেকেই দেখছেন কার্যত ‘প্রিমিয়ার লিগ ফাইনাল’ হিসেবে যেখানে জয়-পরাজয়ই ঠিক করে দিতে পারে লিগের ভাগ্য।
মৌসুমের শেষ ছয় ম্যাচ বাকি থাকতে টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল ছয় পয়েন্টে এগিয়ে। তবে একটি ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির সামনে এখনও সুযোগ আছে সমতায় ফেরার। এই ম্যাচে জিততে পারলে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে এনে শিরোপা লড়াই পুরোপুরি জমিয়ে তুলতে পারবে পেপ গার্দিওলার দল।
ম্যাচের গুরুত্ব বুঝিয়েই আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বলেছেন, ‘আমরা জয়ের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ড্র নিয়ে এক সেকেন্ডও ভাবছি না।’
অন্যদিকে গার্দিওলাও ম্যাচটিকে প্রায় ফাইনালের মতোই দেখছেন। ‘আমাদের জন্য এটা জিততেই হবে। না হলে সব শেষ হয়ে যাবে,’—স্বীকার করেছেন সিটি বস।
গত কয়েক মৌসুম ধরে এই দুই দলই লড়ছে ইংল্যান্ডের সিংহাসনের জন্য। তবে শেষ হাসি হেসেছে সিটিই। ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ মৌসুমে শেষ মুহূর্তে চাপ সামলাতে না পেরে পিছিয়ে পড়ে আর্সেনাল। এবারও প্রায় একই পরিস্থিতি, যদিও এবার কিছুটা এগিয়ে থেকেই ম্যাচে নামছে ‘গানার্স’রা।
এই মৌসুমে সপ্তম ম্যাচডে থেকে টানা ২৭ ম্যাচ শীর্ষে থেকেছে আর্সেনাল। অন্যদিকে শুরুতে ছন্দ খুঁজে না পাওয়া সিটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার শিরোপা দৌড়ে ফিরে এসেছে। বিশেষ করে কারাবাও কাপ ফাইনালে আর্সেনালকে হারানোর পর মানসিকভাবে বেশ চাঙা গার্দিওলার দল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা চাপেই আছে আর্সেনাল। সাম্প্রতিক কয়েক ম্যাচে পয়েন্ট খোয়ানো এবং পারফরম্যান্সে ওঠানামা শঙ্কা তৈরি করেছে। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ওঠা কিছুটা আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে তাদের।
গার্দিওলা বলেন, ‘ছয় পয়েন্ট খুব বড় ব্যবধান নয়। আমাদের সুযোগ আছে।’
এখন সবকিছু নির্ভর করছে এই ম্যাচের ওপর। সিটি জিতলে শিরোপা লড়াই আবার পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে যাবে, আর আর্সেনাল জিতলে দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে যাবে তারা।
সব মিলিয়ে, এটিহাদের এই লড়াই শুধু আরেকটি ম্যাচ নয় এটি হতে পারে পুরো মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৯০ মিনিট।




