টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের অন্যতম ভরসা হিসেবে দেখা হয়েছিল অভিষেক শর্মাকে। বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হিসেবে টুর্নামেন্টে নামলেও গ্রুপ পর্ব শেষে তার রানসংখ্যা—শূন্য। তিন ম্যাচে টানা তিন ‘ডাক’—ভারতের এই ওপেনারের জন্য যা বড় ধাক্কা।
ভারতের পরবর্তী ম্যাচ সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এর আগে অভিষেকের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার মনে করছেন, প্রত্যাশার চাপই তরুণ ব্যাটারের ওপর প্রভাব ফেলছে।
স্টার স্পোর্টসে গাভাস্কার বলেন, ‘হয়তো প্রত্যাশার চাপ ওর ওপর একটু বেশি পড়ছে। সে দারুণ প্রতিভাবান ছেলে। প্রথম ম্যাচে যদি ভালো শুরু পেত, পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। এখন ওর ওপর ‘বড় হিটার’, ‘২০০ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটার’—এই ট্যাগগুলোই চাপ তৈরি করছে।’
তিন ম্যাচে মোটে আট বল খেলেই ফিরেছেন অভিষেক। গাভাস্কারের মতে, শুরুতেই বড় শট খোঁজার মানসিকতা বদলাতে হবে তাকে। ‘ওর শটের ভান্ডার বিশাল। কিন্তু শুরুতেই বাউন্ডারি বা ছক্কা খুঁজতে যাওয়া ঠিক নয়। কয়েকটা ডট বল হলে সমস্যা নেই। আগে ক্রিজে সময় কাটাতে হবে, পিচ বুঝতে হবে,’ বলেন তিনি।
আরও সরাসরি ভাষায় গাভাস্কার যোগ করেন, ‘ও যেভাবে আউট হচ্ছে, সেটা খুবই পূর্বানুমানযোগ্য। মনে হচ্ছে, নিজেকে প্রমাণ করার তাড়নায় সে নির্দিষ্ট ধরনের শট খেলতে যাচ্ছে। ভারতের হয়ে খেলতে নামলে আগে রান খুলতে হবে—এক-দুটি সিঙ্গেল নিলেই আত্মবিশ্বাস আসবে।’
২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পাঁচটি ‘ডাক’ ইতোমধ্যে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত এক তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। গত বছর পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব এক ক্যালেন্ডার বছরে ছয়টি শূন্য করেছিলেন—এবার সেই রেকর্ডের দিকেই এগোচ্ছেন অভিষেক।
সুপার এইটের লড়াইয়ের আগে ভারতের জন্য বড় প্রশ্ন—অভিষেক কি দ্রুত ছন্দে ফিরতে পারবেন, নাকি প্রত্যাশার ভারই হয়ে উঠবে তার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ?







