
মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ার পর বাংলাদেশ চাইছিল নতুন বলে দ্রুত আঘাত। স্কোরবোর্ডের চাপ ছিল, উইকেটে এখনও ওঠানামা আছে, আর হাতে ছিল তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও নাহিদ রানার পেস আক্রমণ। কিন্তু পাকিস্তানের দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক ও আজান আওয়াইস দ্বিতীয় দিনের চা বিরতি পর্যন্ত সেই চাপ সামলে রেখেছেন।
চা বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান। ইমাম ৪১ বলে ২৮ এবং অভিষিক্ত আজান ২৩ বলে ১৮ রানে অপরাজিত। বাংলাদেশের চেয়ে এখনও ৩৬৩ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪১৩ রানে। প্রথম দিনের শান্ত-মুমিনুলের গড়া ভিতের ওপর দ্বিতীয় দিনে মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম ও শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের রান যোগ হয়ে স্বাগতিকরা চারশ পেরোয়। মুশফিক ৭১, লিটন ৩৩, তাইজুল ১৭ এবং তাসকিন ১৯ বলে ২৮ রান করেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে দ্বিতীয় স্লিপে সৌদ শাকিলের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন তাসকিন।
পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার মোহাম্মদ আব্বাস। ৩৪ ওভারে ৯২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। লিটন, মিরাজ, তাইজুলের পর ইবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন অভিজ্ঞ এই পেসার। শাহিন নেন ২ উইকেট, হাসান আলী ১টি।
বাংলাদেশের বোলিং শুরুতে খুব নিয়ন্ত্রিত ছিল না। তাসকিন প্রথম ওভারেই নো-বল করেন, ইমামের ব্যাটের কানায় বলও লাগে, তবে তা স্লিপে পৌঁছায়নি। ইবাদতের প্রথম ওভারেও নো-বল ছিল। পেসাররা গতি পাচ্ছিলেন, কিন্তু লাইন-লেংথে ধারাবাহিকতা আসছিল না। সেই সুযোগে ইমাম ও আজান স্কোরবোর্ড সচল রাখেন।
তবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে সবচেয়ে আলোড়ন তোলেন নাহিদ রানা। সপ্তম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ১৪০.৯ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে আজান আওয়াইসের হেলমেটে আঘাত করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ফিজিও মাঠে আসেন, কনকাশন পরীক্ষা হয় এবং হেলমেটও বদলাতে হয়। কিছুক্ষণ পর আজান আবার ব্যাটিং শুরু করেন।
নাহিদের সেই ওভারে অবশ্য দুটি নো-বলও ছিল। গতি ও আগ্রাসন ছিল, কিন্তু নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি থাকায় পাকিস্তান রান তুলে নেয়। ইমাম তাকে কভার পয়েন্ট দিয়ে চার মারেন। পরের ওভারে নাহিদ ইমামকে এলবিডব্লিউও করেছিলেন। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ইমাম, বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল অফ স্টাম্প মিস করত।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ইবাদতের বলে। ২৩ রানে থাকা ইমাম কভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে এজ দেন, তৃতীয় স্লিপে মাহমুদুল হাসান জয়ের কাছে কঠিন ক্যাচ যায়। জয় ঝাঁপিয়েও ধরে রাখতে পারেননি। সুযোগটি নিতে পারলে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ নতুন বলের চাপও বাড়াতে পারত।




