
মিরপুরে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ার পর বাংলাদেশ চাইছিল নতুন বলে দ্রুত আঘাত। স্কোরবোর্ডের চাপ ছিল, উইকেটে ছিল ওঠানামা, হাতে ছিল তিন পেসার। কিন্তু পাকিস্তান দ্বিতীয় দিনের শেষটা করল অনেক বেশি স্বস্তি নিয়ে। অভিষিক্ত আজান আওয়াইসের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে দিন শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ৪৬ ওভারে ১ উইকেটে ১৭৯ রান। বাংলাদেশের চেয়ে তারা এখনোও পিছিয়ে ২৩৪ রানে।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষের সময় আজান ৮৫ রানে অপরাজিত। ১৩৩ বলের ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১২টি চার। অন্য প্রান্তে আবদুল্লাহ ফজল অপরাজিত ৩৭ রানে। দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশ শুধু ইমাম-উল-হকের উইকেটটি নিতে পেরেছে। মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ইমাম করেন ৪৫ রান।
বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। চা বিরতির সময় ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান তুলে ফেলেছিল তারা। ইমাম তখন ২৮, আজান ১৮। বাংলাদেশের পেসাররা গতি পেলেও লাইন-লেংথে ধারাবাহিক ছিলেন না। তাসকিন ও ইবাদত শুরুতেই নো-বল করেন। কয়েকবার ব্যাটের কানায় বল লাগলেও স্লিপে তা হাতে যায়নি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ইবাদতের বলে। ২৩ রানে থাকা ইমাম কভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে এজ দেন। তৃতীয় স্লিপে মাহমুদুল হাসান জয়ের কাছে কঠিন ক্যাচ যায়, কিন্তু তিনি ধরে রাখতে পারেননি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইমাম পরে ওপেনিং জুটিকে ১০৬ রানে নিয়ে যান।
পেস আক্রমণে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছিলেন নাহিদ রানা। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ১৪০.৯ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে আজানের হেলমেটে আঘাত করেন তিনি। ফিজিও মাঠে আসেন, কনকাশন পরীক্ষা হয়, বদলানো হয় হেলমেটও। পরে আজান মাথা ঘোরার কথাও জানান। কিন্তু সব সামলে বাঁহাতি এই তরুণ ব্যাটসম্যান ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং ধীরে ধীরে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন।
আজানের ইনিংসের সৌন্দর্য ছিল তার স্থিরতায়। প্রথম টেস্ট, হেলমেটে আঘাত, সামনে ৪১৩ রানের চাপ, কিছুই তাকে খুব বেশি বিচলিত করতে পারেনি। ইবাদতকে কভার ড্রাইভ, তাসকিনকে কভার দিয়ে চার, নাহিদের গতি ব্যবহার করে বাউন্ডারি, সব মিলিয়ে তার ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। ৬৬ বলে তুলে নেন অভিষেক টেস্টের ফিফটি।
ইমামও শুরুতে বাংলাদেশি পেসারদের ঢিলেঢালা লাইন কাজে লাগিয়েছেন। তবে মিরাজ আক্রমণে আসার পর বাংলাদেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। ২২তম ওভারের শেষ বলে মিরাজের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে সামনে পা বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ইমাম। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। আল্ট্রা এজে ব্যাটের ছোঁয়া ছিল না, বল ট্র্যাকিংয়ে তিন লাল। পাকিস্তানের প্রথম উইকেট পড়ে ১০৬ রানে।
ইমামের পর ক্রিজে এসে আবদুল্লাহ ফজল শুরুতে সময় নিয়েছেন। নিজের প্রথম টেস্ট রান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে নাহিদকে পয়েন্টের ওপর দিয়ে চার মেরে রানের খাতা খোলেন। দিন যত গড়িয়েছে, তত স্থির হয়েছেন তিনি। আজানের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন জুটি পাকিস্তানকে দিনের শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদে পড়তে দেয়নি।
বাংলাদেশের বোলিংয়ে আক্ষেপ থাকবে একাধিক। নতুন বলে উইকেট পাওয়া যায়নি, নো-বল বেশি হয়েছে, রিভিউ নষ্ট হয়েছে, ক্যাচও পড়েছে। শেষ সেশনের দিকে তাসকিনের বলে আবদুল্লাহর আরেকটি কঠিন সুযোগও স্লিপে ধরতে পারেননি সাদমান। বড় সংগ্রহের পর এমন সুযোগ হাতছাড়া করলে চাপ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।
দিনের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং দিয়ে। ৩০১/৪ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ থামে ৪১৩ রানে। শান্তর ১০১, মুমিনুলের ৯১, মুশফিকের ৭১ এবং শেষ দিকে তাসকিনের ১৯ বলে ২৮ রানের ক্যামিও বড় সংগ্রহ এনে দেয় স্বাগতিকদের। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস নেন ৫ উইকেট।
তবু দ্বিতীয় দিনের শেষ ছবিটা পাকিস্তানের জন্য বেশি স্বস্তির। ৪১৩ রানের জবাবে ১৭৯/১, হাতে ৯ উইকেট।




