টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়া দলে স্টিভ স্মিথের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে মুখ খুলেছেন নির্বাচক টনি ডোডেমেইড। তিনি স্পষ্ট করেছেন, স্মিথকে মূল একাদশের অংশ হিসেবে নয়, বরং নির্দিষ্ট পজিশনের ‘কভার’ হিসেবেই দলে নেওয়া হয়েছিল।
২০০৯ সালের পর এই প্রথম কোনো আইসিসি সীমিত ওভারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত হার এবং পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় দলটি। হতাশাজনক এই পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই দেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিশেষ করে স্মিথকে শুরুতে দলে না রাখা এবং পরে অন্তর্ভুক্ত করেও ম্যাচ না খেলানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডোডেমেইড অবশ্য তাদের সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করে বলেন, ‘আমরা তাকে মূলত ওপেনিং পজিশনের কভার হিসেবে বিবেচনা করেছি। সে সেই ভূমিকাতেই দলে এসেছে।’
মিচেল মার্শ গ্রোয়িন ইনজুরির কারণে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে না পারায় স্মিথকে প্রথমে কভার হিসেবে ভাবা হয়। পরে পেসার জশ হ্যাজলউডের চোটের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন তিনি। তবে তৃতীয় ম্যাচে মার্শ–ট্রাভিস হেড জুটি ভালো করায় একাদশে জায়গা হয়নি স্মিথের।
ডোডেমেইডের ভাষ্য, ‘তৃতীয় ম্যাচে আমাদের সেরা পারফর্ম করা জুটি ছিল মার্শ ও হেড। পরিস্থিতি ভিন্ন হলে সিদ্ধান্তও ভিন্ন হতে পারত। তবে স্মিথ এখনো ওপেনিং পজিশনের কভার হিসেবেই বিবেচিত।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মার্শ ও হেড দ্রুত অর্ধশতক তুলে ৮.২ ওভারে ১০৪ রানের জুটি গড়লেও পরের ব্যাটাররা সেই ভিত্তি কাজে লাগাতে পারেননি। পুরো টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটার শীর্ষ ৩০ রানসংগ্রাহকের তালিকায় নেই। ম্যাট রেনশ’কে এক ম্যাচে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার মার্ক ওয়াহ স্মিথকে শুরুতে দলে না রাখাকে ‘বোধগম্য নয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘শুরু থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সমস্যা ছিল। স্মিথের মতো সেরা ব্যাটারকে বাইরে রাখা তার প্রতি অসম্মান।’
বিগ ব্যাশ লিগ ২০২৫/২৬ মৌসুমে ২৯৯ রান করে গড় ৫৯.৮০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬৭.৯৭ ছিল স্মিথের—যার মধ্যে ছিল একটি শতক ও দুটি অর্ধশতক। ফলে তার অন্তর্ভুক্তির দাবি জোরালো হয়।
অন্যদিকে, ক্যামেরন গ্রিনকে দলে রেখে ম্যাট রেনশ’কে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ম্যাথিউ হেইডেন ও গ্লেন ম্যাকগ্রা। হেইডেনের মতে, গ্রিন ব্যাট হাতে আত্মবিশ্বাসহীন দেখাচ্ছিলেন। ম্যাকগ্রা বলেন, যদি সে বোলিং না করে, তাহলে তাকে স্মিথের চেয়ে এগিয়ে রাখা কঠিন।
ডোডেমেইড জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পর পুরো টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা হবে। ‘এটা হতাশাজনক। শেষ ম্যাচটি জিতে শক্তভাবে শেষ করতে চাই, এরপর বিস্তারিত পর্যালোচনা হবে’ বলেন তিনি।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর অস্ট্রেলিয়া দলে পরিবর্তনের আভাস মিললেও স্মিথের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না।




