বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম। দায়িত্বে থাকার সময়কার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে বোর্ড ভেঙে যাওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত নানা বিষয় তুলে ধরেছেন তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে।
নিজের সময়টাকে ফিরে দেখে আমিনুল মনে করেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস তিনি পেয়েছিলেন। তার ভাষায়, ‘আমি অনেক দিন দেশের বাইরে ছিলাম। ২০টি সহযোগী সদস্যদেশের সঙ্গে কাজ করেছি, আফগানিস্তানের সঙ্গেও কাজ করেছি। সরকারের একটা চর্চা দেখেছি, একটা বোঝাপড়াও ছিল, যেটা সাধারণত ঘটে থাকে বিশ্বে। আরেকটা জিনিস আমাকে সব সময় আত্মবিশ্বাস দিত, আমার কাছে মনে হচ্ছিল দেশটা বদলে গেছে।’
এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, খেলাধুলা ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার চেষ্টা ছিল তাদের। ‘আমরা বলেছি যে খেলোয়াড় রাজনৈতিক হতে পারবে না। কিন্তু রাজনীতিবিদ কীভাবে তাহলে খেলায় আসে? মানে রাজনীতিবিদদের কাজ তো রাজনীতি করা,’ বলেন তিনি।
গত বছরের নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হলেও শুরু থেকেই সেটি নিয়ে বিতর্ক ছিল। একটি পক্ষ অনিয়মের অভিযোগ তোলে, যা পরবর্তী সময়ে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়।
বোর্ড ভেঙে দেওয়ার দিনটির অভিজ্ঞতা স্মরণ করে আমিনুল বলেন, ঘটনাটি তার জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। ‘সেদিনও আমি পূর্বাচলে স্টেডিয়াম দেখতে গিয়েছিলাম। পরে এসে শুনি বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে,’ বলেন তিনি।
এরপরের পরিস্থিতি নিয়ে তার মন্তব্য, ‘হঠাৎ করে মনে হলো, আমাদের অফিসটা একটা রাজনৈতিক অফিস হয়ে গেছে। অনেক লোকজন আসা-যাওয়া শুরু করল। একপর্যায়ে আমাদের সেখান থেকে চলে আসতে হয়।’
নিজের অবস্থান নিয়ে আমিনুল এখনও অনড়। তার দাবি, তিনি বৈধভাবেই দায়িত্বে ছিলেন। ‘নির্বাচন গঠনতন্ত্র মেনেই হয়েছে। সেই অনুযায়ীই আমি দায়িত্ব পালন করেছি,’ বলেন তিনি।
একই সঙ্গে বর্তমান অ্যাডহক কমিটি ও পুরো প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার মতে, যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আরও স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক হওয়া উচিত ছিল।
সব মিলিয়ে, বিসিবির সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে এই সাক্ষাৎকার ঘিরে। বিশেষ করে খেলা ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে আমিনুলের মন্তব্য আবারও সামনে এসেছে।




