ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

জুস নাকি ডায়েট সোডা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি ভালো

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০৮ মে ২০২৬, ১৫:২৯
ছবি : সংগৃহীত

অনেকে মনে করেন ফলের জুস স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক হওয়ায় এটি সবসময় স্বাস্থ্যকর, আর ডায়েট সোডা ক্ষতিকর। কিন্তু রক্তে শর্করার দিক থেকে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন পানীয় কতটা প্রভাব ফেলবে তা নির্ভর করে তার উপাদান, পরিমাণ এবং কত ঘন ঘন পান করা হচ্ছে তার ওপর।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

গবেষণায় দেখা গেছে, ফলের জুসে থাকা প্রাকৃতিক চিনি (যেমন ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ) খুব দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। কারণ, জুসে গোটা ফলের মতো ফাইবার থাকে না। ফাইবার হজমকে ধীর করে এবং রক্তে চিনি ধীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। তাই জুস খাওয়ার ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, ডায়েট সোডায় সাধারণত কৃত্রিম বা নন-নিউট্রিটিভ সুইটনার ব্যবহার করা হয়, যেখানে কার্বোহাইড্রেট খুব কম বা থাকে না বললেই চলে। তাই এটি তাৎক্ষণিকভাবে রক্তে শর্করা বাড়ায় না।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে কি না, সেটাই পুরো বিষয় নয়। দীর্ঘমেয়াদে দুই ধরনের পানীয়েরই কিছু দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চিনিযুক্ত পানীয় নিয়মিত খেলে ওজন বাড়া এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আর ডায়েট সোডা নিয়ে গবেষণায় মিশ্র ফল পাওয়া গেছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ক্ষুধা বা খাবারের প্রতি আকর্ষণে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ১০০ শতাংশ ফলের জুস পুরোপুরি খারাপও নয়। এতে কিছু ভিটামিন ও খনিজ থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট পরিমাণে এবং খাবারের সঙ্গে জুস খেলে এটি তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে কম রক্তে শর্করা বা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার সময় জুস দ্রুত গ্লুকোজ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

একটি বড় ভুল ধারণা হলো, প্রাকৃতিক চিনি ক্ষতিকর নয়। বাস্তবে শরীর সব ধরনের চিনিকেই শেষ পর্যন্ত গ্লুকোজে পরিণত করে। তাই পরিমাণ ও খাবারের ধরন গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতিদিনের প্রধান পানীয় হিসেবে পানি সবচেয়ে ভালো। জুস খেলে অল্প পরিমাণে খাওয়া উচিত এবং সম্ভব হলে খাবারের সঙ্গে খেতে হবে। আর ডায়েট সোডা মাঝে মাঝে পান করা যেতে পারে, তবে এটিকে প্রতিদিনের অভ্যাস না করাই ভালো।

সব মিলিয়ে বলা যায়, তাৎক্ষণিকভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ডায়েট সোডার প্রভাব কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু জুস আর ডায়েট সোডার মধ্যে তুলনা না করে পুরো খাদ্যাভ্যাসের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: ভেরি ওয়েল হেল্থ

মস্তিস্ক সুস্থ রাখতে যে খাবার উপকারী
সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য শুধু ধাঁধা সমাধান বা পর্যাপ্ত ঘুমই যথেষ্ট নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে এবং বয়সজনিত স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। পূর্ণ শস্য, ফল, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারে থাকা ফাইবার শুধু হজমশক্তিই ভালো রাখে না, এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকেও সক্রিয় রাখে। আর এই অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যকার সম্পর্কই এখন গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ফাইবার কীভাবে কাজ করে ফাইবার এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা শরীর সহজে হজম করতে পারে না। ফলে এটি অন্ত্রে দীর্ঘ সময় থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফাইবারযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি পরিমাণ পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খান, তাদের ওজন ও পেটের চর্বি তুলনামূলক কম থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবার খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে। অন্ত্র ও মস্তিষ্কের গভীর সম্পর্ক গবেষকরা বলছেন, ফাইবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি ঘটে অন্ত্রে। আমাদের অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া ফাইবার ভেঙে কিছু উপকারী উপাদান তৈরি করে, যেগুলোকে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড বলা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিউটিরেট। এই উপাদান অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর উপাদানকে রক্তে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে মস্তিষ্কও সুরক্ষিত থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইবার যত বেশি খাওয়া হবে, অন্ত্রে তত বেশি বিউটিরেট তৈরি হবে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও তত ভালো থাকতে পারে। ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে ২০২২ সালের এক গবেষণায় ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা বেশি ফাইবার খেতেন তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কম ছিল। অন্যদিকে যারা কম ফাইবার খেতেন, তাদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। আরেকটি গবেষণায় ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে দেখা যায়, যাদের খাদ্যতালিকায় ফাইবার বেশি ছিল, তাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি তুলনামূলক ভালো ছিল। সম্প্রতি যমজদের ওপর করা একটি গবেষণায়ও দেখা গেছে, প্রতিদিন প্রিবায়োটিক ফাইবার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি ও মানসিক কার্যক্ষমতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আলঝেইমারের সঙ্গেও রয়েছে সম্পর্ক গবেষকদের একটি দল সম্প্রতি দেখতে পেয়েছেন, আলঝেইমার রোগীদের অন্ত্রে বিউটিরেট উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ কম থাকে। একই সঙ্গে তাদের শরীরে প্রদাহজনিত উপাদানের মাত্রা বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। কীভাবে বাড়াবেন ফাইবার গ্রহণ ফাইবার বাড়ানোর জন্য খাদ্যাভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন: সাদা চাল বা পাউরুটির বদলে লাল চাল ও আটার রুটি খাওয়া বেশি বেশি ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও শিমজাতীয় খাবার খাওয়া প্রতিদিন ফল ও সবজি রাখা বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার নাস্তা হিসেবে খাওয়া পূর্ণ শস্যের সিরিয়াল বা ওটস দিয়ে দিনের শুরু করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কতটুকু ফাইবার প্রয়োজন গবেষকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু বিশ্বের অনেক মানুষই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ফাইবার খাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো গেলে তা শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কের সুস্থতাও দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখতে সাহায্য করবে। সূত্র: বিবিসি
মস্তিস্ক সুস্থ রাখতে যে খাবার উপকারী
খাদ্যাভ্যাস কি সত্যিই প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন অনেক দম্পতির কাছেই একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো, খাবার কি সত্যিই সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে? ইন্টারনেটে এ নিয়ে নানা ধরনের পরামর্শ, ডায়েট ও সাপ্লিমেন্টের প্রচার দেখা যায়। কেউ বলেন, নির্দিষ্ট খাবার খেলে দ্রুত গর্ভধারণ সম্ভব, আবার কেউ বিশেষ ডায়েটকে ‘ফার্টিলিটি ডায়েট’ হিসেবে প্রচার করেন। তবে চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কোনো একক খাবার বা সাপ্লিমেন্ট হঠাৎ করে সন্তান ধারণ নিশ্চিত করতে পারে না। তবে সঠিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলিক অ্যাসিডের গুরুত্ব গর্ভধারণের আগে ও গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের কিছু জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক নারী গর্ভধারণের শুরুতে বুঝতেই পারেন না যে তারা অন্তঃসত্ত্বা। তাই সন্তান নেওয়ার বয়সি নারীদের প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক দেশে সিরিয়ালসহ বিভিন্ন খাবারে ফলিক অ্যাসিড যোগ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে স্পাইনা বিফিডা ও মস্তিষ্কজনিত জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করেছে। কিছু গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন এমন নারীদের ক্ষেত্রে ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বন্ধ্যত্বের কারণ কী বিশ্বজুড়ে বহু দম্পতি দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সন্তান নিতে পারেন না। এর পেছনে নারী ও পুরুষ উভয়েরই বিভিন্ন শারীরিক কারণ থাকতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয় থেকে সুস্থ ডিম্বাণু তৈরি না হওয়া, ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক থাকা বা নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে ঠিকমতো স্থাপন না হওয়া বড় কারণ হতে পারে। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণগতমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি, আকার ও কার্যকারিতা কমে গেলে সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। দূষণ, ধূমপান, মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও এর জন্য দায়ী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও বন্ধ্যাত্বের সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। পুরুষের খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘদিন ধরে প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনায় নারীদের খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্ব পেলেও এখন গবেষকরা পুরুষের খাদ্যাভ্যাসের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আইভিএফ চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন দম্পতিদের মধ্যে পুরুষদের মাংস খাওয়ার ধরন গর্ভধারণের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, যারা বেশি পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন সসেজ বা বেকন খেতেন, তাদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের হার কম ছিল। অন্যদিকে মুরগির মাংসের মতো তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর প্রোটিন উৎস ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যেসব পুরুষ খুব কম প্রক্রিয়াজাত মাংস খেতেন, তাদের সঙ্গীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা ছিল বেশি। অপুষ্টির প্রভাব হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি গবেষকরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় অপুষ্টি শিশুর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নেদারল্যান্ডসে ঘটে যাওয়া ডাচ হাঙ্গার উইন্টার নিয়ে গবেষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যুদ্ধের কারণে খাদ্য সংকটে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা খুব কম খাবার খেয়ে বেঁচে ছিলেন। সেই সময়ে গর্ভে থাকা শিশুদের পরবর্তী জীবনে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও মানসিক রোগের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই মূল চাবিকাঠি বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান ধারণের জন্য কোনো ম্যাজিক খাবার নেই। তবে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ভালো মানের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা বলছেন, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুধু নারীর নয়, পুরুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সূত্র: বিবিসি
খাদ্যাভ্যাস কি সত্যিই প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে
নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা কি হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর
ওজন কমানো ও সুস্থ থাকার জন্য এখন অনেকেই ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস অনুসরণ করছেন। বিশেষ করে এখন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, এই ধরনের ফাস্টিং হৃদযন্ত্রের জন্য সত্যিই ভালো কি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাস্টিং কিছু মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিতভাবে ফাস্টিং করলে ওজন কমতে পারে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব পরিবর্তন হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। কিছু গবেষক মনে করেন, নিয়মিত ব্যায়ামের সঙ্গে ফাস্টিং মিলিয়ে চললে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে ২০২৪ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি গবেষণা নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। সেখানে বলা হয়, যারা প্রতিদিন মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে সব খাবার খেতেন, তাদের মধ্যে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে আগে থেকে হৃদরোগ বা ক্যানসারের সমস্যা থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। এতে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান বা ওজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফাস্টিং নয়, পুরো জীবনযাপনই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মেদান্ত হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. রঞ্জন মোদির মতে, ফাস্টিং হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো না খারাপ হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও কী ধরনের ফাস্টিং করা হচ্ছে তার ওপর। তার ভাষায়, ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ অনেকের ক্ষেত্রে ওজন, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রও উপকৃত হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা অতিরিক্ত কঠোর ফাস্টিং বয়স্ক মানুষ, ডায়াবেটিস রোগী কিংবা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’ বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে পানিশূন্যতা, রক্তে শর্করা কমে যাওয়া বা শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা হার্টের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ফাস্টিং শুরু করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যদি কারও আগে থেকেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থাকে। ফাস্টিংয়ের সময় কী খাচ্ছেন, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাস্টিং কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিলিয়েই এটি অনুসরণ করা উচিত। সূত্র: এনডিটিভি 
নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা কি হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর
হাড় মজবুত রাখতে যেসব খাবার খাবেন
হাড়ের যত্ন বলতে সাধারণত আমরা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের কথাই বেশি শুনি। তবে কিছু খাবার আছে, যেগুলো অনেকেই গুরুত্ব দেন না, অথচ সেগুলোও হাড় ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে নারীদের হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাবারের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন কয়েকটি প্রুন বা শুকনো আলুবোখারা খেলে হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখতে সাহায্য হতে পারে। বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাদের মতে, প্রুন শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা হাড় ক্ষয় ধীর করতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, মেনোপজের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়। এতে হাড় দ্রুত দুর্বল হতে শুরু করে। তাই এই সময় সঠিক খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হাড় শক্ত রাখতে শুধু খাবার নয়, নিয়মিত ব্যায়ামও প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বেশি হলে বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি থাকলে অতিরিক্ত জাম্পিং বা বেশি চাপের ব্যায়াম এড়িয়ে চলা ভালো। এর বদলে হাঁটা, হালকা অ্যারোবিক্স, সিঁড়ি ওঠানামা বা এলিপটিক্যাল মেশিন ব্যবহার করা নিরাপদ ও উপকারী হতে পারে। হাড়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পুষ্টি উপাদান হলো ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি। ক্যালসিয়াম হাড়ের মূল গঠন তৈরি করে, আর ভিটামিন ডি শরীরকে সেই ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর হাড় থেকে ক্যালসিয়াম নিতে শুরু করে, তাই খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম পাওয়া জরুরি। দুধ, দই, পনির, শাকসবজি—এসব হাড়ের জন্য ভালো বলে সবাই জানেন। তবে আরও কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলোও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। শুকনো ডুমুর বা ফিগে ভালো পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে। এটি ওটস, স্মুদি বা সালাদের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। ক্যানজাত স্যামন মাছেও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। কারণ এতে ছোট নরম কাঁটাও থাকে, যা সহজে খাওয়া যায়। বাদামের দুধ, সয়া দুধ বা রাইস মিল্কের মতো উদ্ভিজ্জ দুধেও অনেক সময় বাড়তি ক্যালসিয়াম যোগ করা থাকে। তবে কেনার আগে লেবেল দেখে নেওয়া ভালো। টোফু হাড়ের জন্য বেশ উপকারী। এতে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি প্রোটিনও থাকে, যা হাড় ও পেশি দুটোর জন্যই ভালো। বাদাম ও বাদামের বাটারেও কিছুটা ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। পাশাপাশি এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। সাদা বিন বা শিমজাতীয় খাবারেও ভালো পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকে, যা হাড়ের শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। চিকিৎসকদের মতে, অস্টিওপোরোসিস অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে বাড়ে। কারও উচ্চতা কমে যাওয়া বা পিঠ একটু বাঁকা হয়ে যাওয়া ইঙ্গিত হতে পারে। তবে অনেক সময় প্রথম লক্ষণ হয় হাড় ভেঙে যাওয়া। এ কারণে বয়স বাড়লে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা বা ডেক্সা স্ক্যান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে হাড় কতটা শক্ত বা দুর্বল, তা বোঝা যায়। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সি নারীদের নিয়মিত এই পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি খাবার থেকেই নেওয়ার চেষ্টা করা সবচেয়ে ভালো। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সঠিক খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হাড় ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: হার্ভার্ড হেল্থ পাবলিশিং
হাড় মজবুত রাখতে যেসব খাবার খাবেন
হৃদস্পন্দন কী বলছে আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে
হার্ট প্রতি মিনিটে কতবার স্পন্দন করছে, সেটি আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু হৃদস্পন্দনের মাঝের সময়ও যে গুরুত্বপূর্ণ, তা অনেকেরই অজানা। এই ছোট ছোট সময়ের পার্থক্যকেই বলা হয় হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি বা এইচআরভি। এখন চিকিৎসক ও গবেষকরা বলছেন, এই মাপ শুধু হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যেরই নয়, মানসিক চাপ, ঘুম, ফিটনেস এমনকি বয়স বাড়ার গতিও বুঝতে সাহায্য করতে পারে। লন্ডনের স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতের কর্মী আর্টেম কিরিলভ আগে নিয়মিত শরীরচর্চা করলেও বিশ্রামের গুরুত্ব খুব একটা দিতেন না। ক্লান্ত লাগলেও জিম মিস করতেন না। পরে তিনি স্মার্টওয়াচে এইচআরভি ট্র্যাক করা শুরু করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, শরীর কখন বিশ্রাম চাইছে আর কখন বাড়তি চাপ নিতে পারবে। এখন তিনি বলেন, এই তথ্য তাকে নিজের শরীরের সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে সাহায্য করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ হৃদস্পন্দন পুরোপুরি যন্ত্রের মতো একঘেয়ে হয় না। প্রতিটি স্পন্দনের মাঝে মিলিসেকেন্ডের ছোট ছোট পার্থক্য থাকে। এই পার্থক্য যত স্বাভাবিক ও নমনীয় হয়, ততই ভালো বলে ধরা হয়। নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই ফাস্টার হার্ট হাসপাতালের পরিচালক ডা. দীপক ভাট জানান, হৃদস্পন্দনের এই ওঠানামা শরীরের স্নায়ুতন্ত্র কতটা ভালোভাবে কাজ করছে, সেটিরও ইঙ্গিত দেয়। যখন মানুষ চাপের মধ্যে থাকে বা শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, তখন শরীরের “ফাইট অর ফ্লাইট” সিস্টেম সক্রিয় হয়। এতে হৃদস্পন্দন দ্রুত ও স্থির হয়ে যায়, ফলে এইচআরভি কমে যায়। আবার শরীর যখন স্বস্তিতে থাকে, তখন হৃদস্পন্দনে স্বাভাবিক ওঠানামা ফিরে আসে। তাই সাধারণভাবে বেশি এইচআরভি মানে শরীর চাপ থেকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারছে। গবেষক ডেনিস লারসন বলেন, যাদের শরীর চাপের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে, তাদের এইচআরভি সাধারণত ভালো থাকে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা ক্লান্তির মধ্যে থাকলে এইচআরভি কমে যেতে পারে। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্বেগ, হতাশা, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত অনেক মানুষের এইচআরভি স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরকে সবসময় সতর্ক অবস্থায় রাখে। ফিটনেস জগতেও এইচআরভি এখন বেশ জনপ্রিয়। অনেক ক্রীড়াবিদ বা নিয়মিত শরীরচর্চাকারী এটি দেখে বুঝতে চেষ্টা করেন শরীর ঠিকভাবে রিকভারি করছে কি না। যদি কঠিন ব্যায়ামের পরও কয়েকদিন এইচআরভি কম থাকে, তাহলে সেটি বিশ্রামের সংকেত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ভালো ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, কম মানসিক চাপ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এইচআরভি উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাসও এতে উপকারী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী টিম হারজগ বলেন, প্রতিদিন কিছু সময় ধীরে ও সচেতনভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস শরীরকে শান্ত করতে সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে চিকিৎসকরা এটিও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, এইচআরভি একা কোনো রোগ নির্ণয়ের উপায় নয়। এটি একটি সহায়ক সূচক মাত্র। ডা. দীপক ভাটের মতে, হার্ট রেট, রক্তচাপ, ওজন ও কোলেস্টেরলের মতো সাধারণ স্বাস্থ্য সূচকগুলোর গুরুত্ব এখনও সবচেয়ে বেশি। তবুও গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এইচআরভি মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য বোঝার আরও গুরুত্বপূর্ণ উপায় হয়ে উঠতে পারে। কারণ এটি শরীর ও মনের চাপের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য দেয়, যা আগে সহজে বোঝা যেত না। সূত্র: বিবিসি 
হৃদস্পন্দন কী বলছে আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে
মস্তিস্ক সুস্থ রাখতে যে খাবার উপকারী
মস্তিস্ক সুস্থ রাখতে যে খাবার উপকারী
সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য শুধু ধাঁধা সমাধান বা পর্যাপ্ত ঘুমই যথেষ্ট নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে এবং বয়সজনিত স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। পূর্ণ শস্য, ফল, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারে থাকা ফাইবার শুধু হজমশক্তিই ভালো রাখে না, এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকেও সক্রিয় রাখে। আর এই অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যকার সম্পর্কই এখন গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ফাইবার কীভাবে কাজ করে ফাইবার এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা শরীর সহজে হজম করতে পারে না। ফলে এটি অন্ত্রে দীর্ঘ সময় থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফাইবারযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি পরিমাণ পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খান, তাদের ওজন ও পেটের চর্বি তুলনামূলক কম থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবার খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে। অন্ত্র ও মস্তিষ্কের গভীর সম্পর্ক গবেষকরা বলছেন, ফাইবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি ঘটে অন্ত্রে। আমাদের অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া ফাইবার ভেঙে কিছু উপকারী উপাদান তৈরি করে, যেগুলোকে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড বলা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিউটিরেট। এই উপাদান অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর উপাদানকে রক্তে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে মস্তিষ্কও সুরক্ষিত থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইবার যত বেশি খাওয়া হবে, অন্ত্রে তত বেশি বিউটিরেট তৈরি হবে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও তত ভালো থাকতে পারে। ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে ২০২২ সালের এক গবেষণায় ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা বেশি ফাইবার খেতেন তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কম ছিল। অন্যদিকে যারা কম ফাইবার খেতেন, তাদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। আরেকটি গবেষণায় ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে দেখা যায়, যাদের খাদ্যতালিকায় ফাইবার বেশি ছিল, তাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি তুলনামূলক ভালো ছিল। সম্প্রতি যমজদের ওপর করা একটি গবেষণায়ও দেখা গেছে, প্রতিদিন প্রিবায়োটিক ফাইবার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি ও মানসিক কার্যক্ষমতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আলঝেইমারের সঙ্গেও রয়েছে সম্পর্ক গবেষকদের একটি দল সম্প্রতি দেখতে পেয়েছেন, আলঝেইমার রোগীদের অন্ত্রে বিউটিরেট উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ কম থাকে। একই সঙ্গে তাদের শরীরে প্রদাহজনিত উপাদানের মাত্রা বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। কীভাবে বাড়াবেন ফাইবার গ্রহণ ফাইবার বাড়ানোর জন্য খাদ্যাভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন: সাদা চাল বা পাউরুটির বদলে লাল চাল ও আটার রুটি খাওয়া বেশি বেশি ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও শিমজাতীয় খাবার খাওয়া প্রতিদিন ফল ও সবজি রাখা বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার নাস্তা হিসেবে খাওয়া পূর্ণ শস্যের সিরিয়াল বা ওটস দিয়ে দিনের শুরু করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কতটুকু ফাইবার প্রয়োজন গবেষকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু বিশ্বের অনেক মানুষই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ফাইবার খাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো গেলে তা শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কের সুস্থতাও দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখতে সাহায্য করবে। সূত্র: বিবিসি
খাদ্যাভ্যাস কি সত্যিই প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে
খাদ্যাভ্যাস কি সত্যিই প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন অনেক দম্পতির কাছেই একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো, খাবার কি সত্যিই সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে? ইন্টারনেটে এ নিয়ে নানা ধরনের পরামর্শ, ডায়েট ও সাপ্লিমেন্টের প্রচার দেখা যায়। কেউ বলেন, নির্দিষ্ট খাবার খেলে দ্রুত গর্ভধারণ সম্ভব, আবার কেউ বিশেষ ডায়েটকে ‘ফার্টিলিটি ডায়েট’ হিসেবে প্রচার করেন। তবে চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কোনো একক খাবার বা সাপ্লিমেন্ট হঠাৎ করে সন্তান ধারণ নিশ্চিত করতে পারে না। তবে সঠিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলিক অ্যাসিডের গুরুত্ব গর্ভধারণের আগে ও গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের কিছু জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক নারী গর্ভধারণের শুরুতে বুঝতেই পারেন না যে তারা অন্তঃসত্ত্বা। তাই সন্তান নেওয়ার বয়সি নারীদের প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক দেশে সিরিয়ালসহ বিভিন্ন খাবারে ফলিক অ্যাসিড যোগ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে স্পাইনা বিফিডা ও মস্তিষ্কজনিত জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করেছে। কিছু গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন এমন নারীদের ক্ষেত্রে ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বন্ধ্যত্বের কারণ কী বিশ্বজুড়ে বহু দম্পতি দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সন্তান নিতে পারেন না। এর পেছনে নারী ও পুরুষ উভয়েরই বিভিন্ন শারীরিক কারণ থাকতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয় থেকে সুস্থ ডিম্বাণু তৈরি না হওয়া, ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক থাকা বা নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে ঠিকমতো স্থাপন না হওয়া বড় কারণ হতে পারে। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণগতমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি, আকার ও কার্যকারিতা কমে গেলে সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। দূষণ, ধূমপান, মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও এর জন্য দায়ী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও বন্ধ্যাত্বের সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। পুরুষের খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘদিন ধরে প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনায় নারীদের খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্ব পেলেও এখন গবেষকরা পুরুষের খাদ্যাভ্যাসের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আইভিএফ চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন দম্পতিদের মধ্যে পুরুষদের মাংস খাওয়ার ধরন গর্ভধারণের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, যারা বেশি পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন সসেজ বা বেকন খেতেন, তাদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের হার কম ছিল। অন্যদিকে মুরগির মাংসের মতো তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর প্রোটিন উৎস ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যেসব পুরুষ খুব কম প্রক্রিয়াজাত মাংস খেতেন, তাদের সঙ্গীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা ছিল বেশি। অপুষ্টির প্রভাব হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি গবেষকরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় অপুষ্টি শিশুর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নেদারল্যান্ডসে ঘটে যাওয়া ডাচ হাঙ্গার উইন্টার নিয়ে গবেষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যুদ্ধের কারণে খাদ্য সংকটে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা খুব কম খাবার খেয়ে বেঁচে ছিলেন। সেই সময়ে গর্ভে থাকা শিশুদের পরবর্তী জীবনে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও মানসিক রোগের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই মূল চাবিকাঠি বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান ধারণের জন্য কোনো ম্যাজিক খাবার নেই। তবে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ভালো মানের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা বলছেন, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুধু নারীর নয়, পুরুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সূত্র: বিবিসি
নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা কি হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর
নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা কি হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর
ওজন কমানো ও সুস্থ থাকার জন্য এখন অনেকেই ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস অনুসরণ করছেন। বিশেষ করে এখন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, এই ধরনের ফাস্টিং হৃদযন্ত্রের জন্য সত্যিই ভালো কি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাস্টিং কিছু মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিতভাবে ফাস্টিং করলে ওজন কমতে পারে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব পরিবর্তন হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। কিছু গবেষক মনে করেন, নিয়মিত ব্যায়ামের সঙ্গে ফাস্টিং মিলিয়ে চললে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে ২০২৪ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি গবেষণা নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। সেখানে বলা হয়, যারা প্রতিদিন মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে সব খাবার খেতেন, তাদের মধ্যে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে আগে থেকে হৃদরোগ বা ক্যানসারের সমস্যা থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। এতে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান বা ওজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফাস্টিং নয়, পুরো জীবনযাপনই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মেদান্ত হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. রঞ্জন মোদির মতে, ফাস্টিং হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো না খারাপ হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও কী ধরনের ফাস্টিং করা হচ্ছে তার ওপর। তার ভাষায়, ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ অনেকের ক্ষেত্রে ওজন, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রও উপকৃত হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা অতিরিক্ত কঠোর ফাস্টিং বয়স্ক মানুষ, ডায়াবেটিস রোগী কিংবা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’ বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে পানিশূন্যতা, রক্তে শর্করা কমে যাওয়া বা শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা হার্টের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ফাস্টিং শুরু করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যদি কারও আগে থেকেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থাকে। ফাস্টিংয়ের সময় কী খাচ্ছেন, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাস্টিং কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিলিয়েই এটি অনুসরণ করা উচিত। সূত্র: এনডিটিভি 
হাড় মজবুত রাখতে যেসব খাবার খাবেন
হাড় মজবুত রাখতে যেসব খাবার খাবেন
হাড়ের যত্ন বলতে সাধারণত আমরা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের কথাই বেশি শুনি। তবে কিছু খাবার আছে, যেগুলো অনেকেই গুরুত্ব দেন না, অথচ সেগুলোও হাড় ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে নারীদের হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাবারের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন কয়েকটি প্রুন বা শুকনো আলুবোখারা খেলে হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখতে সাহায্য হতে পারে। বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাদের মতে, প্রুন শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা হাড় ক্ষয় ধীর করতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, মেনোপজের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়। এতে হাড় দ্রুত দুর্বল হতে শুরু করে। তাই এই সময় সঠিক খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হাড় শক্ত রাখতে শুধু খাবার নয়, নিয়মিত ব্যায়ামও প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বেশি হলে বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি থাকলে অতিরিক্ত জাম্পিং বা বেশি চাপের ব্যায়াম এড়িয়ে চলা ভালো। এর বদলে হাঁটা, হালকা অ্যারোবিক্স, সিঁড়ি ওঠানামা বা এলিপটিক্যাল মেশিন ব্যবহার করা নিরাপদ ও উপকারী হতে পারে। হাড়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পুষ্টি উপাদান হলো ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি। ক্যালসিয়াম হাড়ের মূল গঠন তৈরি করে, আর ভিটামিন ডি শরীরকে সেই ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর হাড় থেকে ক্যালসিয়াম নিতে শুরু করে, তাই খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম পাওয়া জরুরি। দুধ, দই, পনির, শাকসবজি—এসব হাড়ের জন্য ভালো বলে সবাই জানেন। তবে আরও কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলোও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। শুকনো ডুমুর বা ফিগে ভালো পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে। এটি ওটস, স্মুদি বা সালাদের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। ক্যানজাত স্যামন মাছেও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। কারণ এতে ছোট নরম কাঁটাও থাকে, যা সহজে খাওয়া যায়। বাদামের দুধ, সয়া দুধ বা রাইস মিল্কের মতো উদ্ভিজ্জ দুধেও অনেক সময় বাড়তি ক্যালসিয়াম যোগ করা থাকে। তবে কেনার আগে লেবেল দেখে নেওয়া ভালো। টোফু হাড়ের জন্য বেশ উপকারী। এতে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি প্রোটিনও থাকে, যা হাড় ও পেশি দুটোর জন্যই ভালো। বাদাম ও বাদামের বাটারেও কিছুটা ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। পাশাপাশি এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। সাদা বিন বা শিমজাতীয় খাবারেও ভালো পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকে, যা হাড়ের শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। চিকিৎসকদের মতে, অস্টিওপোরোসিস অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে বাড়ে। কারও উচ্চতা কমে যাওয়া বা পিঠ একটু বাঁকা হয়ে যাওয়া ইঙ্গিত হতে পারে। তবে অনেক সময় প্রথম লক্ষণ হয় হাড় ভেঙে যাওয়া। এ কারণে বয়স বাড়লে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা বা ডেক্সা স্ক্যান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে হাড় কতটা শক্ত বা দুর্বল, তা বোঝা যায়। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সি নারীদের নিয়মিত এই পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি খাবার থেকেই নেওয়ার চেষ্টা করা সবচেয়ে ভালো। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সঠিক খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হাড় ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: হার্ভার্ড হেল্থ পাবলিশিং