
ওজন কমানো নিয়ে চারপাশে নানা ধরনের পরামর্শ শোনা যায়। কেউ বলেন নাশতা বাদ দিতে, কেউ বলেন বিশেষ কিছু খাবার খেলেই মেদ কমে যাবে। আবার বাজারে এখন নানা ধরনের পণ্য ও ডায়েট পদ্ধতিও রয়েছে, যেগুলো দ্রুত ফলের প্রতিশ্রুতি দেয়।
কিন্তু এসবের অনেকটাই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তাই সঠিক তথ্য জানা জরুরি।
অনেকে মনে করেন সকালের নাশতা না খেলে ক্যালরি কম খাওয়া হবে, ফলে ওজন কমবে। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়।
নাশতা বাদ দিলে অনেক সময় পরে বেশি খাওয়া হয়ে যায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত নাশতা এড়িয়ে চলেন, তাদের ওজন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি হতে পারে।
আনারস, আদা, রসুন বা গ্রিন টি এগুলোকে অনেকেই ‘চর্বি কমানোর খাবার’ ভাবেন।
বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার একাই শরীরের চর্বি কমাতে পারে না। ওজন কমাতে হলে মোট ক্যালরি গ্রহণ ও খরচের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাজারে অনেক পণ্য পাওয়া যায়, যেগুলো দ্রুত ওজন কমানোর দাবি করে। কিন্তু এসবের অনেকগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকরও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, কিছু পণ্যে লুকানো উপাদান থাকতে পারে যা নিরাপদ নয়।
লো-ফ্যাট খাবারে চর্বি কম থাকলেও অনেক সময় তাতে অতিরিক্ত চিনি বা লবণ যোগ করা হয়। তাই শুধু ‘কম চর্বি’ (low fat) লেখা দেখেই খাবার বেছে নেওয়া ঠিক নয় - লেবেল ভালোভাবে পড়া দরকার।
অনেকে মনে করেন মাঝেমধ্যে কিছু খেলে ডায়েট নষ্ট হয়।
আসলে কী খাচ্ছেন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ফল, দই বা স্বাস্থ্যকর খাবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এবং অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে পারে।
মধু বা অন্য প্রাকৃতিক চিনিকে অনেকেই বেশি স্বাস্থ্যকর ভাবেন।
কিন্তু শরীর সব ধরনের চিনিকেই একইভাবে প্রক্রিয়াজাত করে। তাই যেকোনো চিনিই পরিমিত খাওয়াই মূল বিষয়।
চিনি বেশি খাওয়া ঠিক নয়, তবে একেবারে বাদ দেওয়াও প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
অনেকে চিনি কমাতে কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহার করেন। এতে ক্যালরি কমে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।
সব ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ বা উপকারী- এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
অনেকে শুধু পেট বা উরুর মেদ কমাতে চান।
বাস্তবে শরীরের নির্দিষ্ট অংশ থেকে আলাদা করে চর্বি কমানো যায় না। ওজন কমলে তা পুরো শরীরেই কমে।
হঠাৎ জনপ্রিয় হওয়া অনেক ডায়েট দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (Centers for Disease Control and Prevention) জানিয়েছে, এসব পদ্ধতি অনেক সময় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
মনে রাখবেন, ওজন কমানোর জন্য কোনো শর্টকাট নেই। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার এবং ক্যালরি নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। যদি আপনার দীর্ঘমেয়াদি কোনো অসুখ থাকে, তাহলে ওজন কমানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দেয় এমন পদ্ধতি দেখলে সতর্ক থাকুন, সাধারণত সেগুলো বাস্তবসম্মত নয়।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে




