
দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, হাঁটার সঙ্গে অন্য কোনো কাজ একসঙ্গে করলে দুটোই খারাপভাবে সম্পন্ন হয়। তবে নতুন গবেষণা বলছে, বিষয়টি সবসময় এমন নয়। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেল মন্টে ইনস্টিটিউট ফর নিউরোসায়েন্সের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু তরুণ ও সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে হাঁটার সময় মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বরং বাড়তে পারে।
গবেষকদের মতে, হাঁটার সময় মস্তিষ্ক ভিন্নভাবে তার নিউরাল রিসোর্স ব্যবহার করে, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে চিন্তাশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে এর মানে এই নয় যে কঠিন মানসিক কাজ করতে করতে ব্যায়াম শুরু করা উচিত।
গবেষণার প্রধান লেখক এলেনি পাতেলাকি বলেন, ‘শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম সবাই একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। কিন্তু দেখা গেছে, কিছু অংশগ্রহণকারীর জন্য একসঙ্গে একাধিক কাজ করা (ডুয়াল-টাস্কিং) আলাদা করে কাজ করার চেয়েও সহজ হয়েছে, যা ছিল অপ্রত্যাশিত।’
মস্তিষ্কে কী পরিবর্তন হয়
এই গবেষণায় ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি ২৬ জন সুস্থ ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদেরকে বসে থাকা অবস্থায় এবং ট্রেডমিলে হাঁটার সময় কিছু ছবি দেখানো হয়। ছবি পরিবর্তন হলে অংশগ্রহণকারীদের একটি বোতাম চাপতে বলা হয়।
গবেষণায় মোবাইল ব্রেইন/বডি ইমেজিং (MoBI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ, শরীরের নড়াচড়া এবং আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, কিছু অংশগ্রহণকারী হাঁটার সময় আগের তুলনায় খারাপ পারফর্ম করেছে। আবার কিছু অংশগ্রহণকারী আগের চেয়ে ভালো করেছে।
বিশেষ করে, যারা ভালো করেছে তাদের মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল অংশে পরিবর্তন দেখা গেছে, যা ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (EEG) বিশ্লেষণে ধরা পড়ে। গবেষকদের মতে, এটি মস্তিষ্কের বেশি নমনীয়তা বা দক্ষতার ইঙ্গিত হতে পারে।
প্যাটেলাকি বলেন, ‘বাহ্যিকভাবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য বোঝা যায়নি। কিন্তু মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে আমরা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য খুঁজে পেয়েছি।’
গবেষণার গুরুত্ব
এডওয়ার্ড ফ্রিডম্যান (এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন) বলেন, এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বোঝা যাচ্ছে, মস্তিষ্ক কীভাবে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলায়।
তিনি বলেন, ‘এই ফলাফল আমাদের দেখায়, হাঁটার সময় মস্তিষ্ক কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং একই সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করে। এটি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিতে পারে।’
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে প্রভাব
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই গবেষণা বয়স্কদের ওপর প্রয়োগ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে, যাদের বয়স বাড়লেও মানসিক সক্ষমতা খুব একটা কমে না, যাদের ‘সুপার এজার’ বলা হয়; তাদের চিহ্নিত করতে এটি সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া আলঝেইমারসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগ বোঝার ক্ষেত্রেও এই গবেষণা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটা শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে। তবে এটি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: সাই টেক ডেইলি




