সঠিক খাবার শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না, বরং প্রতিটি অঙ্গের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারতীয় পুষ্টিবিদ লোভনেট বার্তার মতে, উপযুক্ত পুষ্টি বেছে নিলে শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
আমরা অনেক সময় শরীরকে একটি একক সিস্টেম হিসেবে ভাবি, যেখানে শুধু ‘স্বাস্থ্যকর খাবার’ খেলেই সব ঠিক থাকে। কিন্তু বাস্তবে শরীর একটি টিমের মতো কাজ করে। যেখানে প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব কাজ, প্রয়োজন এবং পুষ্টি চাহিদা রয়েছে। তাই শুধু পরিষ্কার খাবার খাওয়া নয়, বরং লক্ষ্যভিত্তিকভাবে খাওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে এই বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘শরীরের অঙ্গগুলো ভালোভাবে কাজ করতে, পরিষ্কার রাখতে এবং নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে নির্দিষ্ট পুষ্টির প্রয়োজন হয়। সামান্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই সহায়তা দেওয়া সম্ভব।’
ফুসফুসের সুস্থতার জন্য আদা, হলুদ ও লেবুজাতীয় ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এসব খাবারে থাকা জিঞ্জেরল, কারকিউমিন এবং ভিটামিন সি প্রদাহ কমাতে এবং ফুসফুসের টিস্যু সুরক্ষায় সাহায্য করে।
করণীয়: প্রতিদিন সকালে চা বা জুসে তাজা আদা ও হলুদ যোগ করা যেতে পারে।
লিভার শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্রকলি, গ্রিন টি এবং অলিভ অয়েল এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং চর্বি জমা কমাতে সাহায্য করে।
করণীয়: রান্নার জন্য প্রধান তেল হিসেবে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।
সুস্থ অন্ত্রের জন্য প্রয়োজন প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক। দই ভালো ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ করে, আর কলা ও চিয়া সিডস সেই ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়।
করণীয়: দইয়ের সঙ্গে চিয়া সিডস মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
চোখের সুরক্ষায় গাজর ও মিষ্টি আলু গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে বিটা-ক্যারোটিন (ভিটামিন এ) থাকে। আমলকী ভিটামিন সি সরবরাহ করে, যা রেটিনা সুরক্ষায় সহায়ক।
করণীয়: প্রতিদিন খাবারে অন্তত একটি কমলা রঙের সবজি রাখার চেষ্টা করুন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ছোট খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে ভিন্নভাবে উপকার করতে পারে। কঠোর নিয়ম নয়, বরং সচেতনভাবে কী খাচ্ছেন এবং কেন খাচ্ছেন - সেই বোঝাপড়াই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: এনডিটিভি




