ঘুমানোর সময় ফোন পাশে রাখা নিয়ে অনেক ভয় বা ভুল ধারণা আছে, বিশেষ করে ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে। কিন্তু বাস্তবটা একটু ভিন্ন।
অনেকের দাবি ফোনের রেডিয়েশন ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। শুধু ঘুমের জন্য না, শরীরের জন্যেও ক্ষতিকর। তবে ফোন থেকে যে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (RF) তরঙ্গ বের হয়, তা নন-আইনাইজিং রেডিয়েশন, অর্থাৎ এটি আমাদের ডিএনএ’র (DNA) ক্ষতি করে না। ক্যানসার সাধারণত যে রেডিয়েশনে হয়, সেটি আইনাইজিং রেডিয়েশন (যেমন এক্স-রে)।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন বড় গবেষণা সংস্থা বলছে, মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী ফোন পাশে রেখে ঘুমানো ক্যানসারের বড় ঝুঁকি তৈরি করে না
আসল সমস্যা রেডিয়েশন নয়, বরং আপনার ঘুমের মান।
ব্লু লাইটের প্রভাব: ফোনের স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো মেলাটোনিন কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।
মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে: ঘুমানোর আগে সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও বা মেসেজিং মস্তিষ্ককে উত্তেজিত রাখে—যা ঘুমের জন্য বিপরীত।
নোটিফিকেশন ঘুম ভাঙায়: হঠাৎ কল, মেসেজ বা অ্যালার্ট আপনাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতে পারে। এতে ঘুম ভেঙে গেলে আবার গভীর ঘুমে যাওয়া কঠিন হয়।
ঘুমের সময় কমে যায়: গবেষণায় দেখা গেছে, মাঝরাতে ফোনে বিরক্তি পেলে গড়ে প্রায় ৪০-৫০ মিনিট পর্যন্ত ঘুম কমে যেতে পারে।
তাহলে ফোন কত দূরে রাখা উচিত? ১ মিটার দূরে রাখতে হবে এমন নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। তবে বাস্তবিকভাবে সবচেয়ে ভালো হলো ফোনকে বিছানা থেকে দূরে রাখা, বা সম্ভব হলে অন্য রুমে রাখা।
ফোন পাশে নিয়ে ঘুমালে আপনি ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন এমন প্রমাণ নেই। কিন্তু এটি আপনার ঘুম নষ্ট করতে পারে, আর দীর্ঘমেয়াদে খারাপ ঘুমই শরীর ও মনের জন্য বড় ঝুঁকি।
অর্থাৎ সমস্যা ফোন নয়, সমস্যা আপনার ঘুমের অভ্যাস।
সূত্র: অনকো কেয়ার ক্লিনিক




