নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদভিত্তিক খাবার খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো থাকে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। ডিমেনশিয়া হলো স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি, আচরণ এবং দৈনন্দিন কাজের ক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যা যা মস্তিষ্কের রোগের কারণে হয়, এটি স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ নয়।। এমনকি কেউ যদি ৫০ বা ৬০ বছরের পরেও এই খাদ্যাভ্যাস শুরু করেন, তবুও উপকার পাওয়া সম্ভব।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নিউরোলজি (Neurology) জার্নালে। এতে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যাদের গড় বয়স ছিল প্রায় ৫৯ বছর।
গবেষণার ফলাফল জানায় যারা ১০ বছরে তাদের খাদ্যাভ্যাস উন্নত করেছেন, তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া যারা বেশি পরিমাণে অস্বাস্থ্যকর উদ্ভিদভিত্তিক খাবার খেয়েছেন, তাদের ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে এবং সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদভিত্তিক খাবার বেশি খাওয়া ব্যক্তিদের ঝুঁকি আরও কম দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে শুধু উদ্ভিদভিত্তিক খাবার খেলেই হবে না, খাবারের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ।
কী ধরনের খাবার ভালো
গবেষণায় খাবারকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার যেগুলো
শস্য দানা বা হোল গ্রেইন, তাজা ফল ও সবজি, বাদাম ও ডাল, ভেজিটেবল অয়েল এবং চা ও কফি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো মধ্যে পড়ে। এই খাবারগুলো মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে উপকারী।

কিছুটা কম স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদভিত্তিক খাবার
পরিশোধিত শস্য যেমন সাদা আটা, ফলের জুস, আলু (বিশেষ করে ভাজা) আর অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার উদ্ভিদভিত্তিক হলেও বেশি খেলে শরীরের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
প্রাণিজ ও উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবার
লাল মাংস, ডেইরি জাতীয় খাবার, ডিম ও অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট জাতীয় খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় শারীরিক সুস্থতার জন্য।
অনেকে ভাবেন ফলের জুস বা আলু সবসময় ভালো। কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। জুসে ফাইবার কম থাকে, ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে আর আলুতে বেশি থাকে স্টার্চ, যা দ্রুত গ্লুকোজে পরিণত হয়। ভাজা বা বেশি মশলাযুক্ত হলে এতে অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালরিও যুক্ত হয়।
উদ্ভিদভিত্তিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শুধু মস্তিষ্ক নয়, পুরো শরীরের জন্য উপকারী।
গবেষণায় দেখা গেছে এ ধরনের খাদ্যাভাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমতে পারে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো - যেকোনো বয়সে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে উপকার পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ, আপনি যদি এখন থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুরু করেন, তাহলে ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তবে মনে রাখবেন, শুধু উদ্ভিদভিত্তিক খাবার খেলেই হবে না। যে খাবার খাচ্ছেন তা কতটা স্বাস্থ্যকর সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হোল গ্রেইন, ফল, সবজি ও প্রাকৃতিক খাবারের ওপর জোর দিলে মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হতে পারে।
আর সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য আজ থেকেই ছোট পরিবর্তন শুরু করুন। কারণ সুস্থ জীবনযাপনের জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না।
সূত্র : সিএনএন




