ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE
খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, আ.লীগ নেতার মৃত্যু
খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, আ.লীগ নেতার মৃত্যু
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের সাড়ে ৪ মাস পর চিকিৎসাধীন এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে।  শুক্রবার (২৩ মে) বিকেলে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।  তার মৃত্যুর বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন ভাতিজা আবু হানিফ সুজা। ওই নেতার নাম অলিউজ্জামান ওরফে মন্টু (৬৮)। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল ওয়াদুদ দারার চাচাতো ভাই। অলিউজ্জামান পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। অলিউজ্জামানের বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল।  আবু হানিফ জানান, বিকেল ৪টার দিকে তার চাচার মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা
দুদকের সাবেক ৩ চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা
দুদকের সাবেক ৩ চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা
১৫ বছরে দেশের সব স্তর ভেঙে ফেলা হয়েছিল : নজরুল ইসলাম
১৫ বছরে দেশের সব স্তর ভেঙে ফেলা হয়েছিল : নজরুল ইসলাম
বগুড়ায় জুলাই যোদ্ধাদের পাশে সেনাবাহিনী
বগুড়ায় জুলাই যোদ্ধাদের পাশে সেনাবাহিনী
ইটের আঘাতে মাথা থেঁতলে হোটেল কর্মচারীকে হত্যা
ইটের আঘাতে মাথা থেঁতলে হোটেল কর্মচারীকে হত্যা
রাবির সেই শিক্ষক-ছাত্রীকে অব্যাহতি
রাবির সেই শিক্ষক-ছাত্রীকে অব্যাহতি
রাবিতে আবাসিক হলসহ ১২টি স্থাপনার নতুন নাম
রাবিতে আবাসিক হলসহ ১২টি স্থাপনার নতুন নাম
বিএমডিএ চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান মারা গেছেন
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান ড. এম আসাদুজ্জামান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজশাহীর উপশহরের ভাড়া বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। আসাদুজ্জামানের ব্যক্তিগত সহকারী ও বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।  তিনি বলেন, আসাদুজ্জামান কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েকদিন ধরে তার জ্বরও ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। ড. আসাদুজ্জামান মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার দুই সন্তানই আমেরিকায় থাকেন। ছেলে জাতিসংঘে চাকরি করেন। সন্তানরা দেশে ফেরার পর দাফনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। ড. এম আসাদুজ্জামানের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কেল্লাবারুইপাড়া মহল্লায়। আট ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তার বড় ভাই ড. এম এনামুল হক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন। আরেক ভাই প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। আরেক ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন বিএনপি চেয়ারপারসনের সামরিক উপদেষ্টা ছিলেন। বর্তমানে তিনি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। গত বছর আওয়ামী সরকারের পতনের পর ড. এম আসাদুজ্জামানকে বিএমডিএর চেয়ারম্যান হিসেবে পদায়ন করা হয়। ১৯৯২ সালে বিএমডিএ প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
‘ফটোগ্রাফার রাফিদের স্মরণে ফটোগ্রাফি কনটেস্ট আয়োজন করা হবে’
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, আমরা শৌখিন ফটোগ্রাফার রাফিদের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য একটি অনলাইন ন্যাচারাল ফটোগ্রাফি কন্টেস্ট আয়োজন করার চিন্তা করেছি। এ প্রতিযোগিতাটা আমরা রাফিদের নামেই করতে চাই। বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে ইশতিয়াক আহমেদ রাফিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করে এ কথা বলেন তিনি। গত ২ মে (শুক্রবার) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর কুড়িল বাইপাসে ফটোগ্রাফি করার সময় ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান রাজশাহী কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ রাফিদ। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আজ তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও নিহত রাফিদের জন্য দোয়ার আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. মাওলানা কেরামত আলী। নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রাফিদের এ মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা আমরা উপলব্ধি করি। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার ফয়সালায় রাফিদের মৃত্যু হয়েছে। এখানে আমাদের কারো কোনো হাত নেই। আমাদের ধৈর্য্য ধারণ করে আল্লাহর ফয়সালা মেনে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা শৌখিন ফটোগ্রাফার রাফিদের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য একটি অনলাইন ন্যাচারাল ফটোগ্রাফি কন্টেস্ট আয়োজন করার চিন্তা করেছি। এ প্রতিযোগিতাটা আমরা রাফিদের নামেই করতে চাই। এটি যেহেতু অনলাইনে হবে সেহেতু সারা দেশ থেকে যারা ন্যাচারাল ফটোগ্রাফি করে তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এখানে অংশগ্রহণ করতে পারবে। রাফিদের পরিবারের যদি এ ব্যাপারে কোনো ভিন্নমত না থাকে তাহলে আমরা এটি করতে চাই। এ সময় তিনি রাফিদের পরিবারের সার্বিক খোঁজ খবর নেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। দোয়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুজার গিফারী, সদর উপজেলা আমির হাফেজ আব্দুল আলীম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা আমির হাফেজ গোলাম রাব্বানী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা শাখার সভাপতি মো. এনায়েতুল্লাহ, শিবগঞ্জ উপজেলা নায়েবে আমির আব্দুল মান্নান ও রবিউল ইসলামসহ জামায়াতের স্থানীয় নেতারা।
অনির্বাচিত সরকার সব কিছুর সমাধান করতে পারে না : যুবদল সভাপতি
যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, অনির্বাচিত সরকার কখনও সব কিছুর সমাধান করতে পারে না। দেশবাসীর প্রত্যাশা, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করবে। সেই ভোট হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অবাধ।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে জয়পুরহাট চিনিকল মিলনায়তনে এক পর্যবেক্ষণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।  আগামী ২৩ মে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সমন্বয়ে বগুড়ায় অনুষ্ঠেয় তারুণ্যের ভাবনা শীর্ষক সেমিনার এবং ২৪ মে তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ সফলে জয়পুরহাট জেলা যুবদলের উদ্যোগে এ পর্যবেক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জয়পুরহাট জেলার পাঁচ উপজেলা ও পাঁচ পৌরসভা যুবদলের মাঠ পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেয়।  মোনায়েম মুন্না বলেন, পতিত স্বৈরাচার গত ১৫ বছরে এ দেশের যুব সমাজকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে তাদেরকে বিপথগামী করে ফেলেছে। যুবদলের তরুণরা নষ্ট হবে না। কোনো অসৎ কাজে জড়িত হবে না। তারা সাহস নিয়ে সততার সঙ্গে গণতন্ত্রের জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করবে, নেতৃত্ব দিবে। আগামীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতন হলেও দেশে এখনও গণতন্ত্র পূর্ণ প্রতিষ্ঠা হয়নি। বিএনপি রাজপথে আছে। জনগণের ভোটের অধিকার লড়াই করে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য তরুণ যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।  যুবদলের সভাপতি বলেন, জয়পুরহাটে যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আগামী দিনে জয়পুরহাটে যেন যোগ্য নেতৃত্বের হাতে যুবদল পরিচালিত হয়, সেইভাবে কমিটি হবে। কোনো বড় ভাইয়ের কথায় কমিটি হবে না। সৎ, যোগ্যরাই দলের নেতৃত্ব পাবে।  সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় দেশ পরিচালনার কথা পরিষ্কারভাবে বলা আছে। সেখানে হিন্দু, মুসলিমসহ সকল মানুষের মৌলিক অধিকার ও কর্মসংস্থানের কথা রয়েছে। তরুণরা তাদের মেধার যোগ্যতায় কর্মসংস্থানের আওতায় আসবে, সেখানে কোনো দল-জাতি-ধর্ম দেখা হবে না। অতীতে তরুণরা কোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করলে তারা বৈষম্যের শিকার হতেন।  তিনি আরও বলেন, আগামীতে ভোটের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে যেন কোনো বৈষম্য না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে। এখন একটাই দাবি- দেশে একটি সুষ্ঠু অবাধ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। মানুষ ১৫ বছর তাদের ভোট দিতে পারেনি। সেই ভোটাধিকার মানুষকে ফিরিয়ে দিতে হবে।  নয়ন বলেন, জয়পুরহাটে যুবদলের কোনো পকেট কমিটি হবে না। মাঠ পর্যায়ে যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার জন্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনের  কমিটি গঠনের আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় নেতাদের।  জয়পুরহাট জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শুভ্রের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আদনান মুক্তাদিরের সঞ্চালনায় পর্যবেক্ষণ সভায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সদস্য মাহমুদুল সালেহীনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্কও দৃশ্যমান : দ. কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে নয়, উন্নয়ন প্রকল্পেও দৃশ্যমান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক।  তিনি বলেছেন, বর্তমানে কোরিয়ান সরকারের সহযোগিতা সংস্থা, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকালে রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘কোরিয়াজ কারেন্ট সিচুয়েশন ইনক্লুডিং ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনশিপ উইথ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন। সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শিক্ষা, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তির কারণে দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনৈতিক উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৫০-এর দশকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে উঠে এসে একটি আধুনিক, শিল্পোন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে। পার্ক ইয়ং সিক বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার অগ্রগতির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। এই দেশের তরুণরা অত্যন্ত মেধাবী এবং পরিশ্রমী। আমি বিশ্বাস করি- কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়লে দুই দেশই উপকৃত হবে। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। এ সময় তিনি বলেন, আমি আশা করি, আজকের এই সেমিনারের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা কোরিয়ার উন্নয়ন কৌশল, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারবে। সেমিনারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা সমাপনী বক্তব্যে দক্ষিণ কোরিয়ার অগ্রগতিতে উচ্চশিক্ষা ও সুশাসনের অবদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন এবং তিনি এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতেও মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিকাশে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির ওপর জোর দেন। সেমিনারে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফয়জার রহমান, নির্বাহী পরিচালক মো. শামীম আহসান পারভেজ,  ক্যারিয়ার ও রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. এএইচএম রহমতউল্লাহ ইমন, রেজিস্ট্রার সুরঞ্জিত মন্ডলসহ বিভিন্ন স্কুলের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে কোরিয়ান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা কুয়ুং-রে লি উপস্থিত ছিলেন।
পাবনায় বালুমহালের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭
পাবনায় ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে বালুমহালের আধিপত্য নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকালে পদ্মা নদীর সাঁড়া ঘাট এলাকার চরের বালুমহালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরদী লক্ষীকুন্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমরান মাহমুদ তুহিন গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গুলিবিদ্ধরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর গ্রামের রেজাউল হক লালু, তালতলা এলাকার সানাউল্লাহ প্রামাণিক, রূপপুর তিন বটতলা এলাকার চপল হোসেন কালু, কুষ্টিয়া ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম এলাকার সেলিম আহমেদ, একই এলাকার সৈকত ইসলাম, ভেড়ামারা থানার গোলাপনগর গ্রামের রিপন হোসেন এবং একই এলাকার রাসেল।  গুরুতর আহত সেলিম ও সৈকতকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া অংশের পদ্মা নদীতে বালুমহালের ইজারাদার উপজেলা যুবদলের সভাপতি সুলতান আলী বিশ্বাস টনি। অন্যদিকে নাটোরের লালপুর চরের বালুমহালের ইজারাদার  মোল্লা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে বালু উত্তোলন ও বহনকারী নৌকার খাজনা আদায়কে ঘিরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে । এ সময় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সাঁড়া অংশের ইজারাদার যুবদল নেতা টনি বলেন, বিআইডব্লিউটিয়ের লাইসেন্স হোল্ডার হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম করছি। জেলা প্রশাসক আমাদেরকে আইনগত সহযোগীতা দানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠিও দিয়েছেন। হাইড্রোগ্রাফিক চার্টের চিহ্ণিত স্থান থেকে দেশীয় প্রযুক্তির ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু তোলার অনুমতি রয়েছে।   তিনি বলেন, সকালে বালু উত্তোলনের জন্য আমাদের লোক নৌকা নিয়ে বালুমহালে যায়। এ সময় হঠাৎ লালপুরের দিক হতে তিনটি নৌকায় করে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীরা আমাদের নিরীহ ও নিরস্ত্র লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ৭ জন গুলিবিদ্ধ ছাড়াও আর বেশ কয়েকজন আহত হয়। গুরুতর আহত ২ জনকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্যরা ঈশ্বরদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে লালপুর এলাকার ইজারাদার মোল্লা ট্রেডার্সের মালিক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ঈশ্বরদী লক্ষীকুন্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমরান মাহমুদ তুহিন বলেন, এ ঘটনায় সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক এখন। ঈশ্বরদী থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সীমান্তে প্রশাসনের পরিচয়ে তারা হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা
সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালান এবং প্রশাসনের পরিচয়ে গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুই প্রতারককে আটক করেছে বিজিবি। বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুর ১২টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী হোটেল গুলশান থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন- নেত্রকোনার আটপাড়া থানার খাগড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মো. মেহেদী হাসান এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার কালিকাপুর গ্রামের মৃত ওয়াজিউল্ল্যাহর ছেলে মো. নিজাম উদ্দিন। বিজিবি জানায়, তারা নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজশাহী ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল হক। তিনি জানান, গত ২০ মে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসার পর নগরীর বিন্দুর মোড়ে অবস্থিত গুলশান হোটেলের ৪ ও ৫ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন তারা। সেখানে অবস্থানকালেই নিজেদের সেনাপ্রধান ম্যাডামের শিক্ষক, বিজিবিসহ বিভিন্ন প্রশাসনের লোক ও ঠিকাদারের পরিচয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে হোটেল ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন খরচ গ্রহণ করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা বিজিবিকে জানিয়েছেন, তারা ব্যবসায়ীদের আশ্বাস প্রদান করেছিলেন যে সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু নিয়ে আসতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু প্রতিজোড়া গরু ৩৫ হাজার এবং ১০ হাজার গরু বর্ডার পার করে দেওয়ার বিনিময়ে অগ্রিম ২০ লাখ টাকা দাবি করেন।  তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের সহায়তায় আসামিদের আটক করতে সক্ষম হন। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
টিসিবি পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ নিম্নআয়ের ভোক্তারা
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীতেও ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ৩ জুন পর্যন্ত। ট্রাকগুলো থেকে চিনি, তেল ও ডাল বিক্রি করা হচ্ছে।  তবে প্রতিটি পণ্যেরই দাম এবার বেশি। আর টিসিবি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন আয়ের ভোক্তরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। টিসিবির দেওয়া তথ্যমতে, আগে চিনি বিক্রি করা হতো ৭০ টাকা কেজি দরে। এবার চিনির দাম ৮০ টাকা। আগে ৬০ টাকায় মসুরের ডাল দেওয়া হলেও এখন গুণতে হচ্ছে ৮০ টাকা। এছাড়া তেলের দাম ১০০ টাকা লিটার ছিল আগে, এবার বিক্রি করা হচ্ছে ১৩৫ টাকা লিটারে। প্রতিটি পণ্যের মূল্য ২০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভোক্তারা। তারা বলছেন, বাজার মূল্যের চাইতে টিসিবির পণ্যের মূল্যের তারতম্য না থাকলে টিসিবির পণ্য নিম্ন আয়ের মানুষদের কোন কাজে আসবে না। দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার রাজশাহীর হযরত শাহমখদুম (রহ.) মাজারের সামনে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছিল। মালেকা খাতুন নামের এক নারী বলেন, ‘আগে আমরা একটু কম টাকাতেই চাল, চিনি ও তেল পেতাম। এবার এসে দেখছি সব দাম বেশি। এতে তো সমস্যা। আমাদের মতো গরিব মানুষেরা টিসিবির মালামালের জন্য অপেক্ষা করতাম। এখন তো বাজারের চেয়ে দামে খুব বেশি পার্থক্য নেই। এভাবে হুট করে দাম বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।’ ফারুক হোসেন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘সরকার তো আমাদের সাথে ব্যবসা করছে না যে দাম বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের একটু সুবিধার জন্যই তো টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হয়। তাহলে দাম কেন বাড়াতে হলো সেটা মাথায় আসছে না। আমরা এটা আশা করিনি।’ টিসিবির রাজশাহীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিকুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘বাজারে সব পণ্যেরই দাম বেড়েছে। ফলে আগের রেটে টিসিবির মালামাল দেওয়া সম্ভব নয়। দাম একটু বাড়াতে হয়েছে। তারপরও প্রচণ্ড ভিড়। আমরা ধৈর্য ধারণ করে সবাইকে মামলামাল নিতে বলছি।’ রাজশাহী নগরের ৩০টি ওয়ার্ডের নির্ধারিত ১০টি পয়েন্টে শুক্র ও শনিবারসহ প্রতিদিন টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে আগামী ৩ জুন পর্যন্ত। প্রতিটি পয়েন্টে ৪০ জন করে মোট চার হাজার পরিবার ৫১৫ টাকার প্যাকেজে টিসিবির এই পণ্য কিনতে পারবেন। ঈদ উপলক্ষে এই ট্রাকসেল ছাড়াও টিসিবির কার্ডধারীদের মাঝে প্রতিমাসে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
আরও