ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE
প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় নেই ডাম্পিং স্টেশন
প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় নেই ডাম্পিং স্টেশন
১৯৯৯ সালে তৃতীয় শ্রেণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌরসভা। একপর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণি ও সর্বশেষ ২০১৯ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে উন্নীত হয়। তবে নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। প্রায় ১০.৭৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় ৫০ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস। এ পৌরসভায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ টন বর্জ্য তৈরি হয়। অথচ এই বর্জ্য অপসারণে নেই আধুনিক কোনো ব্যবস্থা।  স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের প্রধান বাজারের পাশেই ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। এতে দুর্গন্ধ পৌরবাসীর এখন নিত্যসঙ্গী। এতে করে পৌরবাসীর মধ্যে ছড়াচ্ছে রোগ-জীবাণু। পাশেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্গন্ধ সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে ও বাড়ি
তিন মিষ্টি আলু হটাবে ক্যানসার-ডায়াবেটিস
তিন মিষ্টি আলু হটাবে ক্যানসার-ডায়াবেটিস
নেত্রকোনায় পোস্টার লাগানো নিয়ে বিএনপির দলীয় কোন্দলে নিহত ১
নেত্রকোনায় পোস্টার লাগানো নিয়ে বিএনপির দলীয় কোন্দলে নিহত ১
বিয়ের ৫ বছর পর একসঙ্গে ৪ সন্তানের জন্ম
বিয়ের ৫ বছর পর একসঙ্গে ৪ সন্তানের জন্ম
অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিলীন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিলীন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
রাশিয়ায় পড়ে আছে জুলাই যোদ্ধা ইয়াসিনের লাশ
রাশিয়ায় পড়ে আছে জুলাই যোদ্ধা ইয়াসিনের লাশ
‘৬ হাজার টাকার চাইল পাইতাছো, ২০০ টাকা দিতে কি সমস্যা?’
‘৬ হাজার টাকার চাইল পাইতাছো, ২০০ টাকা দিতে কি সমস্যা?’
ফ্যাসিবাদের পতন হলেও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়নি : নজরুল ইসলাম
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আমরা দীর্ঘ লড়াইয়ে, হাজারো জীবন দিয়ে, জেল-জুলুম সহ্য করে একটা পরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলাম। আজ সেই ক্ষেত্রে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে।  তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ বহু বছর ধরে লড়াই করছে একদফার দাবিতে। আমাদের এই দাবির একটা অংশ অর্জিত হয়েছে, ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লজ্জাজনক, অপমানকর পলায়ন করতে হয়েছে ফ্যাসিবাদী সরকারকে। কিন্তু আমাদের দাবির মূল উদ্দেশ্য, যে কারণে আমরা ফ্যাসিবাদের পতন চেয়েছিলাম, সেই গণতন্ত্র এখনো পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়নি। বুধবার (২১ মে) ময়মনসিংহ নগরের টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।  এসময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন তুলিনি। কিন্তু বেশ কিছু বিষয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে সরকারে থেকে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করার বিষয়ে। আমাদের ভালো লাগে না, কারণ আমরা সরকারটাকে পছন্দ করি। তিনি বলেন, আমরা বিস্মিত হই— নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল রায় দেওয়ার পরেও প্রশাসনিক ক্ষমতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে যিনি মেয়রের দায়িত্ব পেয়েছেন তাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। যে নির্বাচন কমিশনকে এই অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিয়োগ দিয়েছে, সেই নির্বাচন কমিশন তাদের স্বাধীনভাবে মতামত ব্যক্ত করলেও তাদের হুমকি দেওয়ার জন্য ঘেরাও কর্মসূচি হচ্ছে। বিষয়গুলো ভালো দৃষ্টান্ত না। সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সরকার যতগুলো সংস্কার কমিটি গঠন করেছে, একটা বের করেন যেটা আমাদের ৩১ দফায় নেই। বরং ৩১ দফায় আছে এমন অনেক বিষয়ে এখনো সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়নি। সংস্কার কমিশন যদি না-ও হতো, কোনো সমঝোতা যদি না-ও হয়, আমাদের সুযোগ হলে এই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও সদস্য ফরম নবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেস আলী মামুন ও আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েতুল্লাহ কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম ও সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন।
ভালুকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
ময়মনসিংহের ভালুকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২১ মে) সকালে ভালুকা উপজেলার হাজিরবাজার ও সিডস্টোর এলাকায় ওই ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতরা হলেন- মুক্তাগাছা উপজেলার বানিয়াকাজি গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা (৪৮) ও ভালুকা উপজেলার বর্তা গ্রামের সবুজ মিয়া (৪৫)।  এদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হাজিরবাজার এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি আইচার ট্রাকে পেছন থেকে যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রা গাড়ি ধাক্কা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মাহিন্দ্রার যাত্রী মুক্তাগাছা উপজেলার বানিয়াকাজি গ্রামের মো. সামছুল হকের ছেলে মাছ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা (৪৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। দ্রুতগামীর মাহিন্দ্রা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে মাহিন্দ্রার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং গোলাম মোস্তফা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অপরদিকে বুধবার (২১ মে) সকাল ১০টার দিকে ভালুকার সিডস্টোর এলাকার অরিওন কারখানার সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সবুজ মিয়া (৪৫) নামের এক পথচারী। তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সবুজ মিয়া ভালুকা উপজেলার বর্তা গ্রামের জবান আলীর ছেলে। ভরাডোবা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।
শেরপুরে কমেছে সব নদীর পানি, তবুও কাটেনি আতঙ্ক
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও চার দিনের টানা বৃষ্টিপাতে শেরপুরের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেলেও রাত থেকে কমেছে সব নদীর পানি। তবে বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের আতঙ্ক বেড়েছে। যে কোনো সময় বৃষ্টি শুরু হলেই ভাঙতে পারে বাঁধ। এর আগে মঙ্গলবার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বুধবার (২১ মে) সকাল থেকেই বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  এদিন সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোগাই নদীর পানি নকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৭৯ সেন্টিমিটার নিচে, ভোগাই নদীর নালিতাবাড়ি পয়েন্ট বিপৎসীমার ২৪৬ সেন্টিমিটার নিচে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র বিপৎসীমার ৬৩৭ সেন্টিমিটার মিটার নিচে এবং চেল্লাখালী নদীর বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, গতবারের বন্যার ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি অনেক এলাকার মানুষ। সেটার মূল কারণ ছিল বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়া। সময়মতো পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ না করে কাজ শুরুই করেছে বর্ষার কিছুদিন আগে। বাঁধের কাজ অর্ধেক শেষ না হতেই আবার চলে এসেছে বন্যা। অধিকাংশ জায়গায় দেখা দিয়েছে ফাটল। মঙ্গলবার মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় এলাকায় নদীর পাড়ে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ফাটলে দ্রুত মেরামতের প্রয়োজন। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এখনো জেলায় ৮ শতাংশ ধান টাকা বাকি রয়েছে। এছাড়াও কেটে নেয়া অনেক ধান মারাই হয়নি। অনেক কৃষকের খড় এখনো কাঁচা। টানা বৃষ্টিপাতে অনেকের কেটে নেয়া ধান ও খড় বৃষ্টির পানিতে পচে যাচ্ছে। খেতে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় ধান কাটতে সময় বেশি লাগায় শ্রমিকের সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু কিছু নীচু এলাকায় পানিতে জোঁকের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়ে পানিতে নামতে পারছে না কৃষক। দীঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা হুমায়ূন আহমেদ বলেন, পানি আসলে কিছু কাজ দেখা যায়। পরে সবাই ভুলে যায়। আমরা এখন চিন্তায় আছি। উজানে বৃষ্টি হলে এই বাঁধ আটকানো কোনোভাবেই সম্ভব না। আশপাশের সব কিছু ভেসে যাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির জন্য আমাদের আজ ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। ঝিনাইগাতী উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক আতিক বলেন, আমরা প্রতি বছর এই বাঁধ সংস্কারের জন্য কাজ করি। যখনই পানি আসে, তখনই আমাদের এই বাঁধে মাটি ফেলে কাজ করতে হয়। এই বাঁধের স্থানীয় একটা সমাধান প্রয়োজন, নয়তো বাঁধের পাশে দীঘিরপাড় ফাজিল মাদ্রাসাটিও ভেসে যাবে। পাগলা নদীর তীরবর্তী কৃষক আমিন, হযরত, ইয়াকুব ও ফর্সাসহ বেশকিছু কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ধান আটিতেই গাছ হয়ে যাচ্ছে। এই ধান সিদ্ধ করার কোনো উপায় নেই। এছাড়াও এবার গরুর খাবারেও সংকট হবে, কারণ সব খড় পচে যাচ্ছে। এ বিষয়ে শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে ৯২ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ক্ষেতে নামাতে পারলে দ্রুত ধান কাটা সম্ভব হতো। কৃষকদের বড় চ্যালেঞ্জ ধান শুকিয়ে ঘরে তোলা। মঙ্গলবার রাত থেকে বৃষ্টি কমে গেছে। আশা করি এক সপ্তাহে এভাবে থাকলেই সকল ধান কেটে নেওয়া সম্ভব হবে। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, পানি আজ কমেছে। টানা কয়েকদিনের ভারতের দুটি প্রদেশের বৃষ্টি এবং এই অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের ফলেই এই পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। আমরা বাঁধগুলোতে নিয়মিত নজরদারি রাখছি। আপদকালীন মোকাবিলার জন্য আমরা দিও ব্যাগ প্রস্তুত রেখেছি। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে জরুরি সভার আয়োজন করেছি। এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি। অতি দ্রুতই পেয়েও যাব। এছাড়াও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে বসে বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।  
এক কলাগাছে ৪০ মোচা
নেত্রকোনা বারহাট্টায় বাগানের একটি কলাগাছে ৪০ থেকে ৫০টি মোচা (থোড়) বের হয়েছে। আবার প্রতিটি মোচা থেকে কলাও জন্ম হচ্ছে। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন শত শত লোক ভিড় জমাচ্ছে। শত মানুষের ভিড় ঠেকাতে কলাগাছের পাশে দেওয়া হয়েছে জালের বেড়া। ভীতি সৃষ্টির জন্য মাজারের মতো টাঙানো হয়েছে লাল নিশান।   অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা উজানগাও গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমপাশে দেখা গেছে। কলা বাগানের মালিক কাশেম মিয়া। তিনি এই গাছ লাগিয়েছেন। এই বাগানের পাশেই একটি কবরস্থান থাকায় কেউ কেউ এটিকে ভিন্নভাবে নেওয়ার চেষ্টা করছে।  চার দিন আগে এই অদ্ভুত কলাগাছের খবর পান কাশেম মিয়া। এরপর এই খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এখন সব সময় এই গাছের নিচে অসংখ্য মানুষের আনা-গোনা। কেউ এক নজর দেখতে এসেছে, কেউ বা ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অন্যদের দেখাতে এসেছে।  দর্শনার্থীরা বলছেন, তারা এমন ঘটনা এই বয়সে দেখেননি এবং বাপ-দাদার মুখেও শোনেনি। এটি নিছক আল্লাহ তায়ালার কুদরত বলে তারা মনে করছেন।  আরেক বাসিন্দা বলেন, আমি ছোটবেলায় একটি কলাগাছে পাঁচ-সাতটি মোচা (থোড়) হতে দেখেছি। কিন্তু একটি কলাগাছে ৪০-৫০টি মোচা এটি একটি বিরল ঘটনা। আবার প্রতিটি মোচা থেকে কলাও বের হচ্ছে।  বিজ্ঞানের বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা থাকলেও উজানগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আ. ছালাম এই বিষটিকে আল্লাহ তায়ালার কুদরত বলেই মনে করছেন। তিনি বলেন, আমার স্কুলের পশ্চিম পাশে একটি কলা গাছে অনেকগুলো মোচা (থোড়) বের হয়ে ওগুলো থেকে কলা হচ্ছে। আমি এটিকে আল্লাহ তায়ালার কুদরত বলেই মনে করি।  বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রম বিষয়। প্রকৃতিতে এমন ঘটনা মাঝে মধ্যে ঘটে। এগুলো নিয়ে অতি উৎসাহী হওয়ার কিছু নেই। 
রেললাইনে পড়ে ছিল হাত-পা কাটা মরদেহ
জামালপুরে সরিষাবাড়ীতে ট্রেনে কাটা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বুধবার (২১ মে) ভোরে উপজেলার তালুকদার বাড়ি মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে তালুকদার বাড়ি মোড় এলাকায় রেললাইনের মাঝখানে হাত-পা কাটা অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।  আরও জানা গেছে, স্থানীয়দের ধারণা, নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। ট্রেন আসার আগে হয়তো তিনি রেললাইনে বসা ছিলেন তখনই এ দুর্ঘটনা ঘটে। জামালপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, সরিষাবাড়ী পৌরসভার তালুকদার বাড়ি মোড় এলাকায় একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সুমনের বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে ১৩ জাতের আঙুর
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের কৈয়াদী গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সুমন আহমেদ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছেন। মাত্র সাত শতাংশ জমিতে ১৩ জাতের বাহারি লাল, কালো আর সবুজ রঙের আঙুর চাষ করে নজর কেড়েছেন কলেজপড়ুয়া এ তরুণ। উন্নত মানের আঙুর চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন, যা স্থানীয় কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। সুমন আহমেদ ভালুকা উপজেলার কৈয়াদী গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান। টাঙ্গাইলের সখীপুর সরকারি মুজিব কলেজে স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। পড়ালেখার পাশাপাশি আঙুর চাষে মন দিয়েছেন তিনি। সুমন মিয়া কালবেলাকে বলেন, ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহ। বাবার কৃষিকাজ ও স্থানীয় বাজারে পরিবারের কীটনাশকের দোকান আমাকে কৃষিতে যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করে। এলাকাজুড়ে ড্রাগন ফল, পেয়ারা, কলাসহ বিদেশি ফলের ভালো ফলন দেখে আঙুর চাষের ভাবনা আসে মাথায়। ইউটিউব ও ফেসবুকে বিভিন্ন দেশের চাষপদ্ধতি দেখে ২০২২ সালে যশোর থেকে ভারতীয় জাতের ২৭টি আঙুরের চারা এনে নিজ বাড়ির পাশে রোপণ করি। তিনি আরও বলেন, প্রথম বছর ফলনে আশানুরূপ মিষ্টতা না থাকায় হতাশ হই। এরপর দুই বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে চলতি বছর নতুনভাবে বাগান সাজাই। নাটোর, রাজশাহী, ফরিদপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৩ জাতের ৬০টি চারা সংগ্রহ করি। এর মধ্যে আছে বাইকুনর, একেলো, ভেলেজ, ডিক্সন, জয় সিডলেজ, অস্ট্রেলিয়ান কিং, ব্ল্যাক রুবি, ব্ল্যাক ম্যাজিক, থার্টি ওয়ান, মাসকাট হোয়াইট, আমেরিকান রিলায়েন্স, মার্সেল ফোর্স, ভেলক ও গ্রিন লং। সুমন মিয়া বলেন, ইউটিউবে দেখে দেখে চাষপদ্ধতি শিখেছি। লতানো গাছের জন্য উঁচু মাচা করে দিয়েছি। ২৫টি গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বাকি ৩৫টি গাছে এবার ফলন ভালো হয়েছে। আঙুর বাগানে শুধু ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হয়। এ ছাড়া অন্য রাসায়নিকের প্রয়োজন হয় না। এ মাসের শুরু থেকে পাকতে শুরু করেছে আঙুর। আগামী মাসের শেষে পুরো বাগানের ফল বিক্রি শেষ হবে। তিনি বলেন, স্থানীয়রা আঙুর কিনে নিয়ে যান। সবুজ আঙুর ৪০০ টাকা এবং লাল-কালো আঙুর ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করি। প্রতিটি গাছে ধরেছে ১৫ থেকে ২০ কেজি ফল। এখন পর্যন্ত বাগানে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে জানিয়ে এ তরুণ বলেন, এ বছরই সব খরচ উঠে যাবে আশা করছি। অনেকে আমার কাছ থেকে চারা নিয়ে চাষ শুরু করেছেন। আমি চাই বাংলাদেশে ঘরে ঘরে আঙুরের চাষ হোক। বিদেশ থেকে যেন আর আঙুর আনতে না হয়। এ কৃষি উদ্যোক্তা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর সুমনের আঙুর চাষে উল্লেখযোগ্য ফলন হয়েছে। আগামীতেও ফলনের পরিমাণ আরও বাড়বে। দেশজুড়ে যদি এইভাবে উন্নত জাতের আঙুর চাষ বিস্তৃত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির প্রয়োজন নাও হতে পারে। সুমনের মা সুফিয়া আক্তার বলেন, বাড়ির পাশেই ছেলের শখের আঙুর বাগান। আঙুরের বাগান করার কথা শুনে প্রথমে নিষেধ করেছি। ছেলে বায়না ধরায় শেষ পর্যন্ত আর না করতে পারেননি। গত বছর আঙুর হলেও সেগুলো টক হয়েছিল। কিন্তু এ বছর বাগানজুড়ে আঙুর হয়েছে, খেতেও অনেক মিষ্টি। আঙুর দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, ভালুকা উপজেলার মাটি যে কোনো ফল চাষের জন্য উপযোগী। সুমন পরীক্ষামূলকভাবে তার বাড়ির আঙিনায় আঙুর চাষ করেছে। সব দিক বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে ভালুকার মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযুক্ত। ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাছরিন আক্তার বানু বলেন, গত শনিবার সুমনের আঙুর বাগান ঘুরে দেখেছি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের উদাহরণ নেই। অনেকের ধারণা, এখানকার মাটিতে আঙুর টক হবে। এ ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে সুমনের বাগান। তার বাগানের আঙুর মিষ্টি। আঙুরের চারা তৈরিতেও সুমন দক্ষ হয়ে উঠছেন।
শেরপুরে বন্যহাতির আক্রমণে দুজনের মৃত্যু
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ মে) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার দরবেশ তলা ও রাত ১১টার দিকে বড় গজনী চৌরাস্তা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তারা হলেন- গান্ধীগাঁও গ্রামের ছলিমুদ্দিন তালুকদারের ছেলে আকাশ মিয়া (৪০) ও বড় গজনী গ্রামের সহেন্দ্র মারাকের ছেলে এফিলিস মারাক (৫০)। স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে গজনী বিট ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন হালচাটি কোচপাড়া এলাকায় কয়েকটি বন্যহাতির দল অবস্থান করছিল। মঙ্গলবার রাতে আকাশ ওই এলাকায় চলাচলের সময় বন্যহাতির দল তাকে আক্রমণ করে এবং পিষ্ট করে দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, এফিলিস মারাক তার বাড়ির পাশে বড় গজনী চৌরাস্তা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করার সময় বন্যহাতির দল তার ওপরও আক্রমণ করে, ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঝিনাইগাতী থানার ওসি মো. আল-আমীন বলেন, আকাশের মৃত্যুর বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এফিলিস মারাকের মৃত্যুর তথ্য পাই। তার মরদেহ স্থানীয়দের মাধ্যমে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আরও