ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE
ছাগলের দৌড় দেখতে হাজারো মানুষের ভিড় 
ছাগলের দৌড় দেখতে হাজারো মানুষের ভিড় 
ঘোড়া দৌড়, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই কিংবা মই নিয়ে গরুর দৌড় প্রতিযোগিতার কথা সবাই জানেন, দেখেছেন। তবে পোষা ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতার বিষয়টি একেবারেই নতুন। শুক্রবার (২৩ মে) বিকেলে এমনি এক ব্যতিক্রম প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় যশোরের কেশবপুরে।  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এলাকাবাসীকে বিনোদন দিতে উপজেলার আটন্ডা যুবসমাজ ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতার এ আয়োজন করে। ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা দেখার জন্য দুপুরের পরপরই আটন্ডা গ্রামে মাঠের দুপাশে ভিড় করেন নারী-পুরুষ-শিশুসহ শত শত উৎসুক মানুষ। ওই এলাকায় প্রতিযোগিতা ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাঠকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এলাকার অন্তত ৩০টি পোষা ছাগল। চেনার সুবিধার্থে ছাগলগুলোকে দাঁড় করিয়ে গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া
পরকীয়া প্রেমিককে কুপিয়ে হত্যা করল স্বামী
পরকীয়া প্রেমিককে কুপিয়ে হত্যা করল স্বামী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাকিবের কবর জিয়ারতে শিল্প উপদেষ্টা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাকিবের কবর জিয়ারতে শিল্প উপদেষ্টা
সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত, ৫০ বছর ধরে পাশাপাশি মসজিদ-শ্মশান
সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত, ৫০ বছর ধরে পাশাপাশি মসজিদ-শ্মশান
মেহেরপুরে বিএনপির সম্মেলন ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ 
মেহেরপুরে বিএনপির সম্মেলন ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ 
স্থানীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা
স্থানীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা
‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাদেশের ফুটবলে সফলতা আসবে’
‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাদেশের ফুটবলে সফলতা আসবে’
পাইকগাছায় বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি
পাইকগাছায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোস্তফা মোড়লকে অব্যাহতি দিয়েছে খুলনা জেলা বিএনপি। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. মোমরেজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অব্যবহিত পত্রে বলা হয়, কিছুদিন ধরে মোস্তফা মোড়লের দ্বারা কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও নিজেকে সংশোধন করতে পারেনি। এমতাবস্থায়, দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে পাইকগাছা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। পাইকগাছা পৌরসভা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আসলাম পারভেজ জানান, দলে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দাঙ্গা সৃষ্টিকারীদের স্থান নেই। মোস্তফা মোড়লকে সংশোধনের জন্য গত ১৪ মে জেলা বিএনপি কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছিল। ক্ষমা চেয়ে জেলা বিএনপির কাছে নোটিশের জবাব দিলেও নিজেকে সংশোধন না করে সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র কবিতা দাশের বাড়িতে গিয়ে মারপিট করে ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।  এ ঘটনায় এলাকায় দলের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য নবায়ন ও প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা গয়েশ্বর রায় ও খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডুর কাছে কবিতা অভিযোগ করেন। পরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. মোমরেজুল ইসলামকে ডেকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।  ঘটনার সত্যতা পেয়ে জেলা বিএনপি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা মোড়লকে অব্যাহতি দেন। মোস্তফা মোড়ল জানান, সমিতির অর্থ আত্মসাৎকরী আওয়ামী লীগের দোসর কবিতা রানী দাসের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে সে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে জেলা বিএনপি আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম জানান, পাইকগাছা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা মোড়লের বিরুদ্ধে আগেও কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ সাবেক প্যানেল মেয়র কবিতা রানী দাসের বাড়িতে গিয়ে মারপিট ও চাঁদা দাবির ঘটনায় জেলা বিএনপি মিটিং ডেকে মোস্তফা মোড়লকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
আপনার চালাকি সবাই বোঝে, প্রধান উপদেষ্টাকে গয়েশ্বর
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আমরা এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে চাই না। নির্বাচনের কথা বললে তারা সময় লাগবে বলছেন। কত সময় লাগবে, জুন না ডিসেম্বর পরিষ্কার করে বলুন। ড. ইউনূস! আপনার চালাকি সবাই বোঝে, শুধু আপনি বোঝেন না!’ বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেল সোয়া ৫টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের ব্যাঙ্কুয়েট হলে খুলনা বিভাগীয় বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির সদস্য ফরম বিতরণ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। সীমান্তে মানবিক করিডোর দেওয়ার মাধ্যমে অস্ত্র চালানের রুট হবে মন্তব্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, করিডোরের মাধ্যমে অস্ত্র যাবে। আরাকান আর্মিরা শক্তিশালী হবে। আমাদের স্বাধীনতা হুমকিতে পড়বে। হাসিনার সময় তো এমন করিডোরের কথা আসেনি। তাহলে সংশয় আছে। তবে আমরা সন্দেহ করতে চাই না। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচিত জাতীয় সংসদ ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। সংবিধানের জনবিরোধী ধারা নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে। দেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়, তারা কথা বলতে চায়। সুতরাং একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক অবাধ নির্বাচন সমস্যার সমাধান করতে পারবে। গণতান্ত্রিক ধারাই সব সংস্কার কাজ করতে পারবে। নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংসদ হবে, তারাই ইউনূস সাহেবের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেমন ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, তেমনটি এখন নেই। কেউ বলছে সংস্কার, কেউ বলছে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন। আগামী নির্বাচনে আগে আমাদের কঠিন সময় পার করতে হবে। সদস্য পদ সংগ্রহ ও নবায়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব মোজাফফর আলম, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহম উল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সাবিরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, নড়াইল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ জেলার আহ্বায়ক অ্যাড. এমএ মজিদ, কুষ্টিয়া জেলার সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকার, মেহেরপুর জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মাগুরার আহ্বায়ক আলী আহমেদ, সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, বিএনপি কেন্দ্রীয় সদস্য তরিকুল ইসলাম পিঞ্জিং, অ্যাড. মোমরেজুল ইসলাম, সৈয়দা নার্গিস আলী প্রমুখ।  অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। প্রধান অতিথি খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ও ৫ জন তরুণ সদস্যের ফরম পূরণের মধ্য দিয়ে খুলনা বিভাগীয় সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
‘১৬ বছর আ.লীগ পিটাইছি, তোরও একই হাল করব’
টেন্ডার ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মোটরসাইকেল গ্যারেজ ইজারা দিতে কক্ষে ঢুকে পরিচালককে গালাগাল ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।  এসময় পছন্দের ব্যক্তিকে ইজারা পাইয়ে দিতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহসীন আলী ফরাজীকে হুমকি দিয়ে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘১৬ বছর আওয়ামী লীগ পিটাইছি, আওয়ামী লীগের মতো করলে তোরও একই হাল করব।’   বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে ২০ থেকে ২৫ জন বিএনপি নেতাকর্মী নিয়ে হাসপাতালের পরিচালককে এ হুমকি দেন আসাদুজ্জামান আসাদ। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহসীন আলী ফরাজী নিজ কক্ষে অন্য চিকিৎসক কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করছিলেন। এ সময় সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে কয়েকজন পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা যুবদল নেতা ফারুককে হাসপাতালের মোটরসাইকেল গ্যারেজ বরাদ্দ দিতে বলেন। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক বলেন, মাত্র দুমাস আগে টেন্ডার হয়ে গেছে, না হলে অবশ্যই বিবেচনা করতেন।  পাশে জোরে মোবাইলে কথা বলতে থাকা সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে উদ্দেশ করে পরিচালক বলেন, ‘একটু আস্তে কথা বলেন, না হলে কলটা কাটেন। আগে আমরা কথা শেষ করি।’ এতে উত্তেজিত হয়ে যান আসাদ। পরিচালককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘১৬ বছর আওয়ামী লীগ পিটাইছি, আওয়ামী লীগের মতো করলে তোরও একই হাল করব।’ এ সময় পরিচালককে হাসপাতালের বাইরে বের হলে হামলার হুমকি দেন আসাদ ও তার অনুসারীরা। তাকে আওয়ামী লীগ আখ্যা দিয়ে ব্যাপক গালাগালও করা হয়।  জানা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে মোটরসাইকেল গ্যারেজ রয়েছে। গ্যারেজটি ২০২২ সাল থেকে কোটেশন ইজারা নিয়ে পরিচালনা করে আসছেন নগরীর বয়রা এলাকার প্রতিষ্ঠান অন্তিকা এন্টারপ্রাইজ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪-২৫ সালের জন্য গ্যারেজটি পরিচালনা করতে ওই প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।  গত ৬ ফেব্রুয়ারি এক অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২২ সালের গ্যারেজ ভাড়ার কোটেশন ও দরপত্র কমিটির সুপারিশের আলোকে ওই প্রতিষ্ঠানকে গ্যারেজ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেড় লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমাদানের নিমিত্তে ২০২৪-২৫ সেশনের বাকি সময়ের জন্য পুনঃকার্যাদেশ দেওয়া হয়।  খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহসীন আলী ফরাজী কালবেলাকে বলেন, আমি আমার কয়েকজন চিকিৎসক নিয়ে মিটিং করছিলাম। এ সময় সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে কয়েকজন আমার রুমে প্রবেশ করে মোটরসাইকেল গ্যারেজ ইজারা দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। আমি তাদের বলেছি, কয়েক মাস আগে টেন্ডার হয়ে গেছে, তখন এলে হেল্প করতে পারতাম। আবার মেয়াদ শেষ না হলে হেল্প করা সম্ভব হবে না। এরপর একজন মোবাইল ফোনে উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। তখন আমি তাকে বলেছিলাম, ‘আমরা মিটিং করছিলাম, কথা শেষ করে আমার সঙ্গে কথা বলেন। না হলে একটু পাশে গিয়ে কথা বলেন। আমি অন্যদের সঙ্গে কথা শেষ করি।’ এতেই আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগাল করেন এবং বাইরে বের হলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় আমি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। অভিযোগের বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ কালবেলাকে বলেন, ‘আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক কর্মীকে দেখার জন্য। সেখান থেকে পরিচালকের রুমে যাই ওই রোগীর ভালো চিকিৎসার কথা বলতে; কিন্তু তার অ্যাটিচিউট আমার ভালো লাগে নাই। তাকে হুমকি দেওয়া বা কোনো ধরনের ঘটনা ওখানে ঘটেনি। মোটরসাইকেল গ্যারেজ বা অন্য কোনো টেন্ডার নিয়ে ওখানে কোনো ধরনের কথা হয়নি।’
কৃষক দল নেতাকে গুলি করে হত্যা
যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি তরিকুল ইসলামকে (৫০) কোপানোর পর ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডহর মশিয়াহাটী গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।  ঘের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ধোপাদী গ্রামের মৃত ইব্রাহিম সরদারের ছেলে। মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডহর মশিয়াহাটী গ্রামে মাছের ঘের রয়েছে তরিকুল ইসলামের। এই ঘের নিয়ে স্থানীয় একটি গ্রুপের সঙ্গে তরিকুল ইসলামের বিরোধ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই গ্রুপের লোকজন তরিকুলকে ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের মিন্টু বিশ্বাসের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ঘেরের হারির টাকার ডিট নিয়ে বিরোধের ঘটনা ঘটে।  এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত তরিকুল ইসলামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। পরে তারা স্থানীয় বাজারের কয়েকটি দোকানে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর মিন্টু বিশ্বাসের বাড়ি লোকজনও পালিয়ে গেছে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৮টার দিকে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী কালবেলাকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল), অভয়নগর থানা পুলিশ, ডিবি টিম, স্থানীয় দু’টি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
ঝিনাইদহে ১১৯ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস বিজিবির
ঝিনাইদহে মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন  সীমান্ত থেকে উদ্ধারকৃত প্রায় ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকালে জেলার মহেশপুর ৫৮ বিজিবি সদর দপ্তরে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজিবির রিজিওনাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ন কবীর ও বিশেষ অতিথি হয়ে কুষ্টিয়া বিজিবির সেক্টর কমান্ডার আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম। মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে ঝিনাইদাহ চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের নেতা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবির দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ধ্বংসকৃত মাদক দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২৫ হাজার ৮১৩ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩৮ হাজার ৯৮০ বোতল মদ, ১৩০ কেজি গাঁজা, ৬৫ হাজার ১৭৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৭ কেজি হেরোইন, ৭৯ কেজি কোকেন, ক্রিস্টাল ম্যাথ আইস ৭ কেজি, এলএলডি ২৯ বোতল, ২১ হাজার ৩১৬ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, ট্যাপেন্টাল ট্যাবলেট ৩০ হাজার ৭০ পিস, ভারতীয় ঔষধ ৯ হাজার ৮৪৫ পিস এবং বাংলাদেশি ওষুধ ৯ হাজার ৯৬০ পিস।  মহেশপুর ৫৮ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, উদ্ধারকৃত মাদক দ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ ২০২ টাকা। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গত ১৫ মাসে মহেশপুর ও জীবননগর সীমান্ত থেকে এ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে বিজিবি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবি পদবঞ্চিতদের
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি বিতর্কিত ও মেয়াদ উত্তীর্ণ উল্লেখ করে কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপির পদবঞ্চিত নেতারা।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) বেলা ১১টায় শহরস্থ এনএস রোড সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  এ সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজল মাজমাদার, মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. শামিমুল হাসান অপুসহ বিএনপির সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের পদবঞ্চিত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শামীমুল হাসান অপু  বলেন, কুষ্টিয়া জেলার বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এই কমিটি বাতিলের জন্য আমরা আন্দোলন করছি। বর্তমান জেলা বিএনপির বিতর্কিত আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার যেভাবে কুষ্টিয়া জেলায় বিএনপিকে ধ্বংস করার নীল নকশা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে তা নিন্দনীয়। এটা করার কোনো অধিকার তাদের নেই। এসময় সামিমুল হাসান অপু আরও বলেন, বর্তমানে কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে নিষ্ক্রিয়, আওয়ামী লীগের দোসর, আপসকামি ও আতাতকারীদের দিয়ে যেভাবে বিভিন্ন থানা কমিটি গঠন করা হয়েছে অন্য দিকে দীর্ঘদিনের পরিচিত পোড় খাওয়া নেতাকর্মীদের উপেক্ষিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্চ কমিটি গঠনসহ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড কমিটি গঠন কাউকে না জানিয়ে নির্বাচন ও ভোট ছাড়াই এসব কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পদবঞ্চিত অন্যান্য নেতারা বক্তব্যে- আওয়ামী লীগ পূণর্বাসনসহ নানা কারণে বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিতর্কিত হয়ে পড়ার পাশাপাশি এই কমিটির মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তাই এই কমিটি বাতিল করে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার আহ্বান জানান। আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে জানান, জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি বৈধ নাকি অবৈধ এবং বাতিল হবে কিনা তা কেন্দ্রীয় কমিটি বিবেচনা করবে। তবে ৩১ সদস্য জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে সবার স্থান হবে না, এটাই স্বাভাবিক। জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলে সেখানে হয়ত সবাই স্থান পাবে। আহ্বায়ক কমিটিতো আমাদের অনুমোদিত না, কেন্দ্রীয় কমিটি দ্বারা অনুমোদিত।  এছাড়া তিনি আরও বলেন, যারা আজ পদবঞ্চিত বলে আন্দোলন করছে তাদের অনেকেই জেলা, শহরসহ বিভিন্ন আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্যসহ বিভিন্ন পদে রয়েছে। সার্চ কমিটিসহ ওয়ার্ড কমিটিগুলোতে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে নিষ্ক্রিয়, আওয়ামী লীগের দোসর, আপসকামী ও আতাতকারীদের নিয়ে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়ায় চাহিদার থেকে বেশি কোরবানির পশু
আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় খামারি ও কৃষক পর্যায়ে মোট ৪৭ হাজার ৩৬টি গবাদিপশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় ২৪ হাজার ৫৩৬টি বেশি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, উদ্বৃত্ত এসব পশু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এবারের ঈদে উপজেলার চারটি পশুর হাটে এসব পশু বেচাকেনা হবে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৫ হাজার ২২৩ জন খামারি ও কৃষক এ বছর কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার ৩৯৯টি গরু, ৩১৬টি মহিষ, ২৩ হাজার ২৭টি ছাগল এবং ৩ হাজার ২৯৪টি ভেড়া। স্থানীয় খামারিদের মতে, যদি বাইরের দেশ থেকে পশু আসা বন্ধ থাকে, তবে স্থানীয় গবাদিপশুর চাহিদা ও দাম—দুটিই বাড়বে, এতে লাভবান হবেন তারা। সাদিপুর গ্রামের ‘জিয়াউর অ্যাগ্রো’ খামারের মালিক জিয়াউর রহমান জানান, তার খামারে এবারের কোরবানির জন্য ১৫টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। তবে গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পশু পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, ভারত থেকে কোরবানির পশু না এলে আমরা কিছুটা লাভবান হতে পারব। এন এস আর অ্যাগ্রো খামারের মালিক নাঈম হোসেন জানান, তার খামারে ৩০টি মহিষ ও ১০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে, যেগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় খাবারে লালন-পালন করা হয়েছে। তারও প্রত্যাশা, এবারের ঈদে ভালো লাভ হবে। এ ছাড়া কৃষক পর্যায়েও অনেকেই বাড়িতে এক-দুটি করে গরু ও ছাগল পালন করে কোরবানির সময় বিক্রি করছেন এবং এতে লাভবান হচ্ছেন বলেও জানান স্থানীয়রা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় আমাদের উপজেলায় কোরবানির পশু বেশি রয়েছে, যা দেশের অন্যান্য এলাকার চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। নিয়মিত টিকা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রমের ফলে পশুদের রোগবালাই কম, এতে খামারিদের আগ্রহ বাড়ছে। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, এবার উপজেলায় চারটি হাটে পশু বেচাকেনা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পশু যেন অবৈধভাবে প্রবেশ না করে, সে বিষয়ে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।
আরও