
‘বাড়ির মালিক: সিঁড়ি থেকে শিশুকে লাথি মারলেন, পাশে কিন্তু তার সন্তানও আছে। ঢাকার ঘটনা, আল্লাহ তার বিচার করুন আমিন।’ এমন ক্যাপশনে শিশু নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়।
ছড়িয়ে পড়া ১১ সেকেন্ডর ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি একটি শিশুকে পা দিয়ে সজোরে আঘাত করে ফেলে দিচ্ছেন। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় শিশুটি সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পড়ে যেতে দেখা যায়। সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ‘ইনসাফ’ নামে একটি পেজ থেকে ভিডিওটি সর্বপ্রথম (৩ মে) দুপুরে পোস্ট করা হয়। পোস্টটির ক্যাপশনে এবং ভিডিওর ফ্রেমে ঘটনাটি ‘প্রতিবেশী বাড়ির মালিক’র বলে জানানো হয়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি উক্ত পেজে ৩০ লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে ৬ শতাধিক মন্তব্যের পাশাপাশি ৩০ হাজারের বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে। এ ছাড়াও ‘মো. হোসাইন আহমেদ সিরাজী’ নামে ভিন্ন একটি প্রোফাইল থেকে ঘটনাটি ঢাকার বলে দাবি করে পোস্ট করা হয়েছে।
তবে প্রচারিত ভিডিওটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে তুরস্ক থেকে পরিচালিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এ সম্পর্কিত সংবাদ পাওয়া যায়। দেখুন এখানে এবং এখানে। এ ছাড়াও ২০২৫ সালের ১৯ জুন ইনস্টাগ্রামে করা তুর্কি নেটিজেনের পোস্ট দেখুন এখানে। সংবাদ এবং তুর্কি ভাষায় করা পোস্টগুলোর সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি মূলত তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের আইয়ুপসুলতানে (Eyüpsultan) ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার। এতে তুরগায় তানরিসেভেরগিল নামে একজন ব্যক্তি তার ৩ বছরের মেয়েকে লাথি মেরে সিঁড়ি থেকে ফেলে দিয়েছিলেন। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১৮ জুনের বলে জানা গেছে।
অর্থ্যাৎ, সিঁড়ি থেকে শিশুকে লাথি দিয়ে ফেলে দেওয়ার ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। মূলত ২০২৫ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের আইয়ুপসুলতান এলাকার। ফলে ‘ঢাকায়’ এবং ‘প্রতিবেশী বাড়ির মালিক’ দাবিটি মিথ্যা।




