
‘মেহেন্দিগঞ্জে জামাত নেতা ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের করাই ! এলাকায় মহিলারা রাজাকারকে ঝাড়ু দিয়ে গণধোলাই দিলেন।’ এমন ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টর যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং অভিযুক্ত ভিন্ন ব্যক্তির ভিডিওকে জামায়াত নেতা বানিয়ে প্রচার করা হচ্ছে এতে।
প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন বৃদ্ধকে একাধিক নারী মারধর করছেন। ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওটির উপরের ডানপাশে ‘মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন’ নামে একটি বরিশালের স্থানীয় একটি পত্রিকার লোগো রয়েছে। ফেসবুকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি পেজ এবং প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। প্রচারিত পোস্টগুলোতে গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিকে ‘জামাত নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও একই ব্যক্তিকে আওয়ামী নেতার দাবিতেও প্রচার করা হয়েছে।
তবে প্রচারিত ভিডিওর ফ্রেমে থাকা ‘মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন’ নামে লোগোটির সূত্র ধরে সার্চ করে মূল পোস্টটি পাওয়া যায়। গত ১ মে দুপুরে পোস্ট করা হয় ভিডিওটি। এতে ঘটনার বিবরণ হিসেবে পোস্টটির ক্যাপশনে জানানো হয়েছে, ‘মেহেন্দিগঞ্জের ১০ বছর শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক।’ এতে অভিযুক্তের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। এতে জানানো হয়, ‘বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দুলাল জমাদার (৬০) নামের এই বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চে উল্লিখিত ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কিত কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যম গুলোতে পাওয়া যায়নি।
অর্থ্যাৎ,‘মেহেন্দিগঞ্জে জামাত নেতা ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের করাই ! এলাকায় মহিলারা রাজাকারকে ঝাড়ু দিয়ে গণধোলাই দিলেন।’ এমন ক্যাপশনে প্রচারিত দাবিটি সত্য নয়। অভিযুক্তকে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে এতে।




