
‘আজ ঢাকায় আমার বাসার সামনে আমার সঙ্গে এমন হয়েছে, উনাকে ধরে পুলিশে দেবেন ধরতে পারলে।’ ভিডিওটির ফ্রেমে এমন দাবি লেখা প্রকাশ্যে নারী হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। এর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘শূকরের মাংস খেয়ে শূকরের মতো কাজ করতেছে।’
এ সম্পর্কিত পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশেরই নয়।
ফেসবুকে ‘ন্যাচারাল লাইফস্টাইল’ নামে একটি পেইজ থেকে ৩০ এপ্রিল সকালে পোস্ট করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি উল্লিখিত প্রোফাইল থেকে ১ লাখ ৭০ হাজারবার দেখা হয়েছে। পেইজটি পর্যবেক্ষণ করে এতে নিয়মিতভাবে আওয়ামীলীগের পক্ষে পোস্ট দিতে দেখা গেছে। পোস্টটিতে আড়াই হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ১ হাজারের বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে।
এ ছাড়াও পোস্টটিতে ২ শতাধিক মন্তব্য পড়েছে যেখানে দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে অনেককে। যেমন—নরে ইয়াসমিন নামে একজন লিখেছেন, ‘আপু এই টা নেটে না দিলে মনে হয় ভালো হতো। কিন্তু আপনিতো দিয়েছেন। এটা গায়রতের খেলাফ।’ রানা হামিদ নামে অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ছি ছি বাংলাদেশ।’
তবে, প্রচারিত ভিডিওটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফ্রেম রির্ভাস ইমেজ সার্চ করে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ সম্পর্কিত সংবাদ পাওয়া গেছে। দেখুন এখানে এবং এখানে। সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে দিনে-দুপুরে এক বোরকা পরা নারীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করার ভিডিও এটি। ওই নারী রাস্তায় হাঁটছিলেন, তখন এক যুবক তাকে অনুসরণ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। নারীটি চিৎকার করলে সে পালিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় নেটিজেনদের এ সম্পর্কিত পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে। এ ছাড়াও এ ঘটনায় মুরাদাবাদ পুলিশের অফিশিয়াল বক্তব্য দেখুন এখানে।
এ ছাড়াও বাংলাদেশে বা ঢাকায় এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম গুলোতে এ সম্পর্কিত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
অর্থ্যাৎ, নিজেকে ভুক্তভোগী এবং ঢাকায় প্রকাশ্যে বোরকা পড়া নারী হেনস্তার ভিডিওটি আসলে বাংলাদেশেরই নয়। ভারতের উত্তর প্রদেশের মুরাদাবাদের ঘটনা এটি। সুতরাং নিজেকে ভুক্তভোগী দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি মিথ্যা প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে এতে।




